আসলে গল্পটিতে আমি যেটা বুঝাতে চেয়েছি,সেটা হল,বিজুর সাথে যে মেয়েটার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল,বাস্তবে সে আসলে কোন মানুষ ছিলো না।সুতরাং এখানে ভালবাসার পূর্নতা আদৌ যেমন সম্ভব না।তেমনি ভাবে এটি একটি অলিক স্বপ্নের মত একটি ঘটনা।যা বাস্তবে ঘটে কিনা,আমার জানা নাই।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ অক্টোবর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৯৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - অলিক (অক্টোবর ২০১৮)

পারফিউম।
অলিক

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৮

নাজমুল হুসাইন

comment ৫  favorite ০  import_contacts ১০৭
ইদানিং কদমতলী থেকে বাসে উঠা যে এত কষ্টকর একটা পরিশ্রমের কাজ,ইচ্ছা করে চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকি।কিন্তু উপায় কি নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের যে দশা।চাকরিটা ছাড়া যে সংসার অচল।সুতরাং যুদ্ধ করেই প্রতিদিন অফিসে আসা যাওয়া করতে হয়।এ দৈন্য দশা কেবল আমার একার নয়,রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার চিত্র এরুপই।যাক সে কথা,আমার একজন কলিগের কথা বলি,ওর নাম বিজু।আমরা দুজন প্রায়ই একসাথে অফিসে আসা যাওয়া করি।উভয়ে ভিন্ন ভিন্ন বসের আন্ডারে কাজ করি।মাঝে মাঝেই ওর কাজ আমার আগে শেষ হয়ে যায়,ফলে আমার জন্য অপেক্ষা করে এক সাথে বাড়ি ফেরার জন্য।আমারও বেশ ভালো লাগে ওর এরুপ ব্যবহার।এ জন্য আমি ওকে বেশ পছন্দও করি।বয়সে আমার বড় হলেও সম্পর্কটা কিন্তু তুই তামারির।
গৃষ্মের উত্তপ্ত দুপুর।বৃহস্পতিবার।তারিখটা মনে নেই,সপ্তাহের শুরুর দিকে হবে হয়তো।সেদিন সরকারি কর্ম রীতি অনুযায়ি হাফ ডিউটি।অন্যদিনের মত অফিস থেকে বেরিয়েই,শুরু হয়ে গেল গাড়ি ধরার জন্য তাড়া।আজ এতটাই যানযট আর মানুষের ভিড় যে বাসে উঠা প্রায় অসম্ভব।ঘণ্টা দুয়েক মত গাড়িতে উঠার লড়াই করতে করতে এক সময় চেষ্টা থামিয়ে দিতে হলো।
বিজু চল আজ আর বাসে যাওয়া হবে না,একটা সিএনজি ঠিক করা যাক।
সেটাই বেশ ভালো হবে রে।
এবার খুব বেশি বেগ পোহাতে হল না।মিনিট দুই পর একটা খালি সিএনজি পাওয়া গেল।
এই মামা যাবা?
হ যামু,কই যাইবেন?
ওইপার কদমতলী।
আড়াইশ ট্যাকা লাগব মামা।
ওই মিয়া গুলিস্থান থেকে কদমতলি কি আড়াইশ টাকা ভাড়া?
মামা গেলে লন,নাইলে থাক,প্যাসেঞ্জারের অভাব হইব না।
তোমার মিটারে যেটা ওঠে তার চেয়ে কিছু বেশি নিও,এত বেশি চাও কেন?
দুইশ ট্যাকায় যাইবেন?এর কমে পারুম না।
ইচ্ছা করছে কষিয়ে দুইটা চড় দেই ওর গালে,হারাম জাদা ৫০টাকার ভাড়া চায় দুইশ টাকা।বাসে ওঠার চেষ্টা করতে করতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে গেছি যে,ছেড়ে দিতে মন চাইল না।অগত্যা সিএনজিতে গিয়ে বসলাম।ড্রাইভার স্টার্ট দিতেই কেউ একজন দৌড়ে এলো গাড়ির কাছে।
মামা,মামা একটু লিফট দিবেন,প্লিজ।দেন না মামা,অনেক ক্ষন দাঁড়িয়ে আছি।দেন না মামা প্লিজ।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটা গেট খুলে উঠে পড়লো।অদ্ভুত এক পারফিউমের গন্ধে সিএনজিটা ভরে গেল।পুরুষ মানুষ হলে ইচ্ছা রকম গালি দিয়ে নির্ঘাত নামিয়ে দিতাম।কিন্তু এটা তো একটা মেয়ে,তার উপর আবার অসম্ভব সুন্দর,সাথে পারফিউমের মন মাতানো গন্ধ।বিজুতো হা হয়ে তাকিয়ে আছে,মনে হয় যেন এখনই খেয়ে ফেলবে।আমার আবার মেয়ে টেয়ের প্রতি অতটা ফিলিংস কাজ করে না।মেজাজ কড়া করেই বলে উঠলাম আরে আরে করছেন কি?এটা তো রিজার্ভ ভাড়া করেছি,আপনি অন্যটাতে দ্যাখেন।বিজু দাঁত কিড় মিড় করে ওর কাঁধ দিয়ে আমাকে সজোরে ধাক্কা দিল।এর পর মেয়েটার দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে বলল কোন অসুবিধা নাই।আপনি চলেন।
থ্যাংকস।
কোথায় যাবেন?
আপনারা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে।
মানে?
কদমতলি।

এর পর সারা রাস্তায় আর খুব বেশি আলাপ চারিতা হলনা।দুই একবার মেয়েটা আর বিজুর মাঝে চোখাচোখি হতে দেখলাম।কদমতলি স্টান্ডের আগেই নেমে গেল ও।ভাড়া দিতে চাইল,কিন্তু বিজু বলল না থাক লাগবে না।আমরা আপনাকে লিফট দিয়েছি।মেয়েটা থ্যাংকস জানিয়ে চলে গেল।আমরাও স্টান্ডে এসে নামলাম।নামতে গিয়ে দেখলাম একটা সাইড ব্যাগ পড়ে আছে।
আরে এটাতো ওই মেয়েটার ব্যাগ,ভুলে ফেলে গেছে মনে হয়।
নে এবার লিফট দে?
বন্ধু এবার সুজোগ একটা পেয়েছি।কি যে একটা আগুনের দলা,লাল টকটকে ঠোট,মিশ্রি দানার মত হাসি,পারফিউমটাও কিন্তু আনকমন ছিল।আহ.
কি করবি এখন জঞ্জালটা?
জঞ্জাল বলছিস কিরে!ব্যাগটা আমাকে দে,আমি পৌছে দেব।
কি করে?এতে কি ঠিকানা লিখা আছে?হারিয়ে যাবার পর দয়া করে এই ঠিকানায় পৌছে দিবেন।
ব্যাগটা হাতড়িয়ে,বিজু এবার হাসির উচ্ছলতায় ফেটে পড়ে বলল,হা তাই তো লেখা আছে।দ্যাখ সাদা কাগজে একটা মোবাইল নাম্বার।
তাহলে আর কি,হয়েই তো গেল।এক্সট্রা একটা চাকরি পেলি আর কি।
সে দিনের সে মেয়েটা ও তার ব্যাগের খবর আর নেয়া হয় নি।বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম।প্রায় তিন মাস পর হঠাৎ একদিন অফিস আওয়ারে বিজু আমার টেবিলে এসে বলল।আজকে তোকে একটা ম্যাজিক দেখাব।আমি বললাম ইদানিং যাদু বিদ্যা শিখছিস নাকি।
হা অনেকটা সে রকম।টাসকি খেয়ে যাস না যেন।
কি এমন যাদু দেখাবি যে টাসকি খেয়ে যেতে হবে?
খাবি খাবি ওয়েট কর,আফিস আওয়ার টা শেষ হতে দে।
যথারিতী অফিস শেষ হওয়ার পর,আমরা বাস স্টপেজে দাড়ালাম।উকি ঝুকি দিয়ে কোন একটা কম ভিড় ওয়ালা বাসের সন্ধানে আছি।
আজ আমরা বাসে যাব না।সি এনজিতে যাব।
তুই যা আমার অত টাকা নাই।
আরে টাকা আজ আমি দিব।নো টেনশন।
বিজু অনেকটা মিতব্যায়ি প্রকৃতির ছেলে সহজে খরচ করতে চায় না।হঠাৎ এরুপ আচরণে অবাক না হয়ে পারলাম না।একটু আনমোনা হয়ে গেলাম।
সাথে আমার একজন গেস্ট আছে।
গেস্ট?তোর?
হা।সেটাই্তো বললাম।
তোর মতি গতিটা কি বল তো?
বলতে বলতেই একটা সুন্দরি রমনী আমাদের সামনে এসে দাড়ালো।মাথায় এক ঝাকড়া ঝিঙগার বিচির মত কালো কুচ কুচে চুল,ঠোটে গোলাপি লিপিস্টিক আনকমন পারফিউমের গন্ধ,সবুজ একটা ড্রেস পরেছে মেয়েটা। সব কিছু মিলিয়ে সর্গের অষ্পরাকেও যেন হার মানায়।কি দারুন চাহনি তার।এই প্রথম কোন মেয়েকে এভাবে পর্যবেক্ষন করে ধড়াস করে উঠলো বুকটা।তবে কোথায় যেন দেখেছি তাকে।মনে পড়ছে না,মনে পড়ছে না,ও হা এবার মনে পড়েছে,এটাতো সেই ব্যাগ ওয়ালী!
বিজু তুইতো আমাকে কিছুই বললি না।
আরে বলব বলেই তো আজ ওকে ডাকলাম।আগে চল সিএনজিতে উঠা যাক।
বিজু নিজেই আজ সিএনজি ঠিক করল।তার পর গাড়িতে বসেই মেয়েটার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল ও।
ওর নাম তুলি।এখন থেকে তোর তুলি ভাবি।
মানে?
জি ভাইয়া আপনার কলিগ আমার প্রেমে পড়েছে।
আর আপনি?
মেয়েটা একটু লজ্জা পেল।মাথাটা নিচু করে ফেলল।কিছু বলল না।আমি ব্যাপারটা এত ক্ষনে বুঝে ফেলেছি।
তলে তলে তা হলে এত দূর,ডুবে ডুবে জল খাওয়া!
পূর্বের দিনের মত আজও স্টান্ডের আগেই নেমে গেল তুলি।এর পর বেশ ভালোই চলছিল।মাঝে মাঝেই ওদের দেখা হত।আমিও সাথে থাকতাম কখনও কখনও।যব্বর জমে গিয়েছিল প্রেমটা।আমারও বেশ ভালো লাগত ওদের হাসি খুশি দেখে।মাঝে মধ্যে দেখা হলে দুষ্টামি করে,তুলি কে বলেছি ভাবি আপনার বোন-টোন কি কেউ নাই?আমার সিট কিন্তু এখন ও খালি।সত্যি কথা বলতে কি,ওদের প্রেম থেকেই আমার মনে প্রথম নারীর প্রতি ভালোবাসার একটা অনুভুতি জন্ম নেয়।কোথাও কোন প্রবলেম ছিল না।এক কথায় দারুন জুটি।
হঠাৎ একদিন আনুমানিক রাত দুইটা আড়াইটার দিকে হবে বিজু আমাকে ফোন করলো।আমি তখন প্রচন্ড ঘুমে কাতর।দশ-বারো বার ফোন দেয়ার পর ফোনটা কোন রকমে রিসিভ করি।
হ্যালো
তুই কি ঘুমিয়ে পড়েছিস?
এটা আবার কেমন প্রশ্ন?
না আমার ঘুম আসছে নাতো তাই বললাম।
কিছু বলবি?
হা,কাল আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে।
কাল আগে আসতে দে।

আমি ফোনটা রেখে দিলাম।
পাঁচ মিনিট পর বিজু আবার ফোন দিলো।এবার একটু ক্ষিপ্ত গলায় বললাম,তোর প্রবলেমটা কিরে?
না রিয়েলি বলছি কাল কিন্তু যেতেই হবে।
আচ্ছা যাব।এখন ফোন রাখ,একদম ঘুমের ডিস্টার্ব করবি না।কাল যদি অফিস মিস করি তোকে খুন করে ফেলব,বলে দিলাম।
ওকে,ওকে রাখছি।কিন্তু কাল কিন্তু যেতে হবে মনে রাখিস।
আমি কোন উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দিলাম।পরদিন সকাল বেলা যথারিতি অফিস করলাম।তার পর বাড়িতে ফিরে এলাম বিকালে।সন্ধায় বিজুর সাথে গেলাম পুরান ঢাকা।গতকাল গভির রাতে যেখানে যাবার জন্য ফোন করেছিল।বংশাল জামে মসজিদের পাশেই বেশ পুরাতন একটি দ্বিতল বাড়ি।বাহির থেকে ততোটা জৌলুস না থাকলেও ভিতরে ঢুকে আমরা চমকে গেলাম।একদম রাজবাড়ি যেন।বাড়ির পুরোটা উঠোন জুড়েই ফুলের বাগান।একপাশে তিনটা কবর।কলিং বেল চাপতেই,একজন মধ্যবয়সি লোক বেরিয়ে এলো।বেশ গম্ভির মনে হলেও তার কথায় কোন গাম্ভির্যের ছাপ পেলাম না।
কাকে চাই?
আংকেল এটা কি জমসেদ ভিলা?
হা।
তুলি?
আমি ওর বাবা।তুমি?
আমি ওর বন্ধু আংকেল।
ও আচ্ছা এসো এসো ভেতরে এসো।
এত ক্ষন বিজু দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে দেয়ালে কিছু একটা দেখছিল।তুলির বাবা ওকে দেখতে পাইনি।আমার সাথে আরেক জন আছে একথা বলার আগেই বিজু আমার পাশে এসে দাড়ালো।
অয়ন ওকে গেস্ট রুমে নিয়ে বসতে দে,আমি আসছি।কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধমক দিয়ে বলে উঠলো,কিরে হা করে তাকিয়ে আছিস কেন?আমাদের তুলির বন্ধু,যা ভেতরে নিয়ে যা।বিজু তো তো করে বলল,আমাকে বলছেন?
তো কাকে বলব?আর হা ওকে চা করে দিতে বলিস তোর কাকি কে।আমি একটূ বাহিরে যাচ্ছি,যাব আর আসব।এসে তোমার সাথে কথা হবে বাবা।
মুরব্বি লোকটা চলে গেল,আমরা কি করব বুঝতে পারছি না,আমাদের কিছু বলার সুজোগ না দিয়েই চলে গেলেন তিনি।আমি বার বার বিজুর দিকে তাকালাম,আর বলতে লাগলাম তুই আগে থেকেই এদের চিনিস,তাই না?
আল্লার কসম করে বলছি,আমি ওনাকে চিনিই না,আর আমি আবার নয়ন হলাম কবে থেকে?
মিনিট দশেক ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম নিচ তলায়,লোকটা দশ মিনিট পর ফিরে এলো।এসেই রাগান্বিত স্বরে বলে উঠলো,আয়ন তুই এখন ও ছেলেটাকে দাড় করিয়ে রেখেছিস?
তার পর আমার দিকে ইঙ্গিত করে বলল আসো বাবা আমার সাথে আসো,বিজু ও আমার পিছু পিছু আসলো।সুন্দর একটা গোসালো গেস্ট রুম।দেয়ালে টাঙানো বেশ কিছু ফটোর মধ্যে তুলির ছবিটাও দেখতে পেলাম।বেশ ফাকা বাড়ি লোকজন তেমন একটা কাউকে দেখলাম না।
বসো বাবা বসো।তা বলো কি খাবে?
তুই এখানে এসে বসে পড়লি কেন?যা আমাদের জন্য চা নিয়ে আয়।তুলির বাবা ধমক দিল বিজুকে।কোথাও যেন কিছু একটা গড়মিল আছে আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।হঠাৎ দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখি পারিবারিক এলবামে অন্য সবার সাথে বিজুর ছবি। আশ্চর্য এই ছবিটা প্রথমবার খেয়াল করে উঠতে পারি নি।কিন্তু তুলির ফ্যামেলির সাথে বিজু কি ভাবে?গোলমাল তো নিশ্চয় একটা আছে।ছবিটাতে তুলি ওর ঘাড়ে হাত দিয়ে বসে আছে,আর বিজু আমরা যে সোফাটায় বসেছি,ঠিক এই সোফাতেই বসা!আমাদের চোখ তো ছনা বড়া!
তা বাবা কি মনে করে এলে,তুলির অনেক বন্ধুকে আমি দেখেছি,কিন্তু তোমাকে তো এর আগে দেখি নি?
না মানে আংকেল আমাদের সাথে ওর বেশি দিনের পরিচয় না।
আমাদের মানে?আর কে আছে?
এই যে আমার বন্ধু।ওর নাম বিজু।
তুমি কি আমার সাথে মসকরা করছো বাবা?ওতো আমার ভাতিজা আয়ন।কিরে কথা বলিশ না কেন গাধা।
না আংকেল আমি অয়ন না আমার নাম বিজু।তুলির বন্ধু।
কি বলো এসব?তুমি আমার ভাতিজা অয়ন না?কারো ডুব্লিকেট কপি কি হতে পারে!
দাঁড়াও দাঁড়াও একটু অপেক্ষা করো।এই বলেই তুলির বাবা মোবাইল ফোন বের করে,ফোন করলেন।
কে অয়ন?
ও পাশ থেকে খুব সম্ভবত উত্তর এলো হা।বলেন কাকা।
বাপ তুই এখনই একটূ বাড়ি আয় তো।জরুরি দরকার।
কি উত্তর এলো বুঝতে পেলাম না।কিন্তু পাচ মিনিট পরই অয়ন এসে হাজির।আমিতো কৌতুহলের সিমানা হারিয়ে ফেলেছি।তুলির বাবা তো পুরাই অবাক হয়ে গেলেন,অনেকটা আমাদের মতই।খানিক ক্ষন নিশ্চুপ বসে থেকে বললেন,আমার ভাতিজার সাথে তোমার হু বহু মিল রয়েছে বাবা।তাই এমনটি হয়েছে।এবার সবাই বুঝতে পারলাম বিজু আর অয়ন একই রকম দেখতে।কিন্তু তুলি কেন আমাদের কে বলে নি?
আমার মেয়ে তোমাদের কত দিনের বন্ধু?
বছর খানিক হবে।উত্তর দিলো বিজু।
না বাবা তোমাদের হিসেবে ভুল হচ্ছে।
আংকেল ভুল হবে কেন?হিসাবতো ঠিকই আছে।একবছরই হবে ওকে চিনি।
ঠিক বলছো?তুমি তো মিথ্যা বলছো।আমার মেয়ে তো অয়নের বিয়ের তিন দিন আগে মারা গেছে।অয়ন তুই কত দিন হল বিয়ে করেছিস?
পাক্কা তিন বছর কাকা।
তুলি মারা গেছে যেন কবে?
আমার গায়ে হলুদের দিন।
তোমরা কোন তুলির কথা বলছো,কোন ভুল ঠিকানায় তো আসো নি?
ঠিকানাতো ঠিকই আছে,১০০/২,জমসেদ ভিলা,নবাব পুর রোড,বংশাল ঢাকা।বিড় বিড় করতে লাগল বিজু।
তোমরা আসার সময় বাহিরে যে তিনটা কবর দেখলে,তার দুইটা অয়নের বাবা মায়ের,ও যখন খুব ছোট তখন ওরা রোড একসিডেন্টে মারা যায়। এর পর থেকে আমিই ওর গার্জিয়ান।দক্ষিনের দিকে যে নতুন কবরটা,ঐটা আমার মেয়ে তুলির কবর।ওই একটাই মেয়ে ছিল আমাদের।
সব সময় হাসি খুশি থাকতো মেয়েটা,বাড়িতে এত আনন্দের মাঝে কি যে হল বুঝতে পারলাম না।গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করল।আজো কোন কারন খুজে পেলাম না।আমাদেরকে জানতেও দিলো না,কি হয়ে ছিল ওর।চষমাটা খুলে চোখের জল মুছতে লাগল তুলির বাবা।
চলো তোমাদের আমার মেয়ের কবরটা দেখিয়ে নিয়ে আসি।উঠোনে যেতেই,কোন একটা চেনা পারফিউমের গন্ধ পেলাম আমরা,বিজুকে বললাম,পারফিউমের গন্ধটা বেশ চেনা চেনা লাগছে নারে?
কেমন যেন ভয়,ভয় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদুসরে ও বলল,তুলি।
হঠাৎ বিজুর চোখ পড়ল বারান্দার পাশে কিছু পুরান আসবাবপত্রের দিকে।এগিয়ে গেল ও।আমিও কৌতুহলের দৃষ্টিতে এগিয়ে গেলাম ওর পিছু পিছু।একটা ভ্যানিটি ব্যাগ।ময়লার প্রলেপ পড়ে গেছে ওটাতে।মনে হয় অনেক দিন যাবৎ ফেলে রাখা হয়েছে।বিজু হাতে তুলে নিল ব্যাগটা।তুলির বাবা বলে উঠলেন,ওটা আমার মেয়ের ছিল।বছর খানেক হবে ফেলে দিয়েছি।ব্যাগের ভেতর ছোট্ট এক টুকরো সাদা কাগজ।তাতে একটা নাম্বার লেখা আছে।ওয়াক ওয়াক করে বমি করে দিয়ে আমার কাপড় ভাসিয়ে দিলো বিজু।আমি জড়িয়ে ধরলাম ওকে।অয়ন আর তুলির বাবা পানি আনতে ছুটে গেল ঘরের দিকে।বাতাসে পারফিউমের গন্ধে ভরে গেল সারা উঠোন। প্রচন্ড ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বিজু।যদিও ডর ভয় বলে কিছু ছিল না আমার,তবুও ভয়ে শরির শিউরে উঠেছে।সে রাতে আর বাড়ি ফেরা হলনা,থেকে গেলাম জমসেদ ভিলায়।রাত কাটালাম জ্ঞান শূন্য,জরাক্রান্ত বিজু,সারা রাত নিদ্রাহীন,আতংকগ্রস্থ আমি আর সারাটা বাড়ি জুড়ে সেই পারফিউমের গন্ধের সাথে।ঘটনার ছমাস পার হয়ে গেলেও বিজু এখনও স্বাভাবিক হতে পারে নি। জানিনা মেয়েটাকে হারানোর বেদনায়,নাকি অন্য কারনে।আমার কিন্তু মাঝে মাঝে মনে পড়লে,মনে হয় অলিক স্বপ্ন দেখেছিলাম।



advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement