জন্মের পর
নানাজান মোর কোলে নিয়ে বলেছিল,
কিরে পারভিন তোর মেয়ে তো হইলো দেখি কালো
আবুঝ আমি ফোকলা দাতে হাসিলাম আগুছালো।
বুঝিনি সেদিন নানাজান মোর দিইলো কিসের আভাস
আকাশে বাতাশে বইলো সেদিন কিসের পূর্বাভাস।
একটু একটু সময় গড়ালো
হইলো বয়স নয়
চাচাতো বোনেরা সুন্দরী বেশ
বেড়ানোর তরে এথা সেথা যায়,
আমাকে যে দেখে বড় অবহেলায়
সাথে কোথাও যেন না নেয়।
স্কুলেতে যাইবার কালে হাসির যেন রোল পড়ে যায়
এত কালো মেয়ে বিশ্রি যে পাত্র জুটবে কোথায়।
পাশের কাকিরা
মাকে বলে যাই
ও ভাবিজি শুনছোনি হায়
টাকা পয়সা রাখিও গুছায়
দিতে যদি চাও কালো মেয়েকে,
শশুরালয় নামক ওই ভিটায়।
বয়স বাড়িলো
গড়ালো সময়
প্রেমের বাজন বাজল মনে
তাতে মিশিলো খালাতো যে ভাই,
প্রেম করিলাম ৫ টা বছর
হঠাৎ শুনিলাম ভাইজান মোর
৬ মাসের প্রেমিকাকে
আনিলো ঘরে একাই নিজে।
প্রশ্ন করেছিলাম দোষ কি মোর?
বলিলো আমাকে,
আইনায় সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করো
উত্তর তুমি পাবে সমুদয়।
এটা ওটা সেটার পরে
বয়স যখন ২৬ হয়,
৫৬ টা ছেলে দেখার পর
ল্যাংরা ছেলে মোর জন্য যে ঠিক হয়।
শশুরালয়ে ঢুকবার পরে
লাগে বড় অসহায়
কালো বলে ওগো কত গঞ্জনা মুখ বুঝে সইতে হয়।
শাশুড়ি আমার বড় মনের
কমে তিনি রাজি নন
এটা ওটা তার সারাক্ষণ চাই,
যাহা চাইবেন তাহা পাইবেন
যোগানদার যে আমার বাবাই।
একা একাই কেদেই যাই
বালিশ টাতে মুখ লুকায়
কাউকে কিছু বলার নাই
পাপটা যে জন্মে আমার
দীর্ঘশাসে তাই কষ্ট জমাই।
খুশির খবর আসিলো ঘরে
মা হব যে এই আমি
শাশুড়ি আমার বেজায় খুশি
তার একটা নাতি চাই,
তবে যেন কালো না হয়।
হইলে যে আর রক্ষে নাই
মোর জামাইকে আর একটা বিয়া করাবে যে
বলেছে শশুর মশায়।।।।