গালচে এখন হরিত ঘন, দু’মাস পরে পাবকশিখার স্বর্ণরাগে
আহা! গোলা ভরে উপচে গড়ায়;
এমন গাঁয়ে প্রথম আমার ঘোমটা খুলি।
দুধেল গাই গোয়াল ভরা
বর্ষা এলেই উপচে পুকুর
ঝুড়ি ভরে চিংড়ি ধরা।
আহা! আহ! আ মরি!
কালির মা, সে আঙ্গন লেপে। সত্যবতী বস্ত্র ধোয়
রান্না ঘরে মধুমতি, বাসন মাজ? সে তো মিষ্টি নোলক।
হেঁসেল কোথায় জানলাম কই, ঠেলতে হয়না হাঁড়ি
সারাক্ষণ তো লেপ্টে গায়ে দক্ষিণী সিল্ক শাড়ি।
আহা মরি! আ মরি!
গা-ভর্তি স্বর্ণাভূষণ আহা কী যে সুখি আমি
সুখ সংসার কোথায় কে পায়, নমি অন্তর্যামী।
আহা! আহা! সাতশো এ সু-খ বলো কোথায় আগলে রাখি
আ মরি!
সাঁঝ না হতেই খুড় শাশুড়ি সারা মাথায় খেলায় আঙুল, ছড়িয়ে পড়ে জুঁই-এর বাস
আহা! আমার চোখ বুজে আসে আঃরামে!
সুর্্যা ডোবার কমলা পোশাক ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি
হাঁটুর ওপর বাঁধন ধুতি
ছন্দে ছন্দে কোদাল হাতে উঠোন পেরোয় আমার তিনি।
রক্ত রঙে কপোল রেঙ্গে, ঘোমটা তুলে,
একছুটে সেই ঘরের কোণে লুকিয়ে পড়ি আমি।
এরপর?
দাস দাসি সব বিদেয় হয়, খাওয়া দাওয়া হয় সারা
ক্লান্ত স্বামী শয্যাশায়ী;
সারাটা রাত একবারও সে মুখ না ফেরে, হায়! ছোঁয় না আমায় হায়!
আশায় আশায় আশা
ছোট্ট পুতুল বুকের খাঁজে টলমলে এক হাসা
পুকুর পাড়ে কলার খোলার নৌকোখানা ভাসা।
বোশেখ আসে চৈত্র পেরোয়
আহা! তৃষ্ণা বড়ো, শরীর জ্বলে
গাল বয়ে যায় অশ্রু জলে।
আশায় আশায় আশায় আশায় ফাগুন ছ’বার দিল দেখা
হায়, আজও আমি রিক্ত গর্ভা, ঢেউ মুছে দেয় তটের রেখা, হায়!
এত্ত সুখ স্বাছন্দ্য এক নিমেষে পিষ্ট
আমার পতি দেবতা হায় শীতল শান্তশিষ্ট।