লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ এপ্রিল ২০১৯
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

১.৬৭

বিচারক স্কোরঃ ০.৪৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - এ কেমন প্রেম? (আগস্ট ২০১৬)

রহস্য নারী।
এ কেমন প্রেম?

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ১.৬৭

সালমা সেঁতারা

comment ৪  favorite ০  import_contacts ১,৪৬১
নারী, রহস্যময়ী! একথাটা কী প্রতিষ্ঠীত সত্য? নাকি পুরুষের মুগ্ধ হƒদয়ের প্রণয় কাতর উপহাস? মুনি ঋৃষীরা বলেছেন নারী চরিতম দেবানঃ নঃ জান্তি। অর্থাত নারীর মন বা চরিত্র দেবতারাও জানেনা। বহু অভিধায় অভিষিক্ত এই নারী কখন যে রহস্যময়ী হয়ে ওঠে তার কিন্তু কোন কালিক পর্যায় বা দৈনিক প্রহর নির্দিষ্ট করে নেই।

নারী মূহুর্তেই রং বদলাতে পারে, মনে হয় এই ক্ষমতা স্রষ্টাই নারীদেরকে দান করেছেন। নইলে? নারী রা সংসারের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কের সাথে স্ত্রী, মা, বোন, বধু, কন্যার বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলতে পারতো না। যদিও পুরুষরাও সব সম্পর্কের আবেদনে সাড়াদিতে থাকে, কিন্তু নারীকে একি উঠোনে একি ছাদের নীচে পুনঃপুনঃ নিজেকে বিজ্ঞাপিত করতে হয় সংসারের প্রতিটি দৃশ্যায়নে। এখানেই নারীরা একি অঙ্গে শতরূপা।

তবে বার বার রূপ বদলাতে একটু ছলনার তো দরকার হয়। এই বিশেষ ছলনাটুকু স্রস্টা ললনাকেই দান করেছেন। আর কাউকে নয়! ঐটুক প্রদর্শন করার সময়ই হয়তোবা নারী হয়ে ওঠে রহস্যময়ী তবে, নারী যতোই রহস্যময়ী হোকনা কেন? এই চরিত্রটি সব সময়ই অন্তরে স্বতন্ত্র। অর্থাত, অনেকটা আত্মপক্ষ সমর্থনের মতো আর কী। কারণ প্রতিটি চরিত্রই তার সংসার ও দাম্পত্য নাট্যমঞ্চে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে অবস্থান করে। যখন পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অবস্থান করে তখন অনেকটাই এক কৌতুহল প্রবন অসহায় অস্তিত্ব নিয়ে ঘোরা ফেরা করে, যার ফলে সে স্বতন্ত্র থাকে নিজের ভালোর জন্য। আর যখন কেন্দ্রীয় চরিত্রের অধিষ্ঠাত্রি, তখন খুব স্বযত্মেই লালন করে আপন স্বাতন্ত্রতা। এই পর্যায়েও পুরুষের কাছে নারী হয়ে ওঠে বিষ্ময়কর রহস্যময়।

নারী রহস্যময়ী, এ কথা সর্বজনবিদিত, তবে সর্বজন অনুভূত নয়। যারা নারীকে উপলব্ধী করতে জানে না তারা নির্বিকার। তারা ভালোও বাসতে জানে না। খেলিয়ে নিতেও জানে না।

আসলে নারী অভিমানিনী। ক্ষণে “আষাঢ়া” তো ক্ষণে “বিশাখা,” আর শাওন এলেতো পা! মাটিতেই পড়ে না। নারী তখন স্বয়ং ঐশ্বর্ষ্য।
অবশ্য এসব উপমা এখন আধুনিকতার কাছে, তথ্য প্রযুক্তির কাছে, উচ্চ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বিদুষীদের কাছে ভীষণ রকমের হাস্যকর। ব্যাকডেটেড ( ইধপশফধঃবফ) কথাবার্তা। কিন্তু ঘোর রহস্যের বিষয় কী জানেন? আমরা এ যুগের নারীরা কিছুতেই বুঝতে চাই না, আমাদের ভিতরে বিধাতার দেয়া যে “ফরমেট” আছে, অর্থাত অন্তরে অতিযত্মে লালিত রক্ষণশীলতাটুকু, ওটুকু যে চিরকালীন। অভিমানি মেঘের ছায়ায় যা ফুলে ফুলে উঠে, অক্ষম অশ্র“ ঝরায়ে নারীকে দাড়করিয়ে দেয় এক ললিত করুন ভঙ্গীতে। যে ভঙ্গীর বর্ণনা আজও শেষ হলোনা কী গল্পে? কী উপন্যাসে! কী কাব্যে? কী আলেখ্যে!!

সত্যিই সৃজন কর্তা! তুমি কী করেছিলে এই নারী সৃষ্টিকরে।? হে পাক, সম্ভবত তোমার সৃষ্টির সমস্ত “কুদরত” বা “ক্যারিশমা” এই নারীতেই খেলা করে।
সম্মানীতপাঠক, আমি নারী হয়ে নারীর রহস্য নিয়ে একটু বেশিই বলে ফেললাম নাতো? যদিতাই মনে হয় তো----- বিনীত করপুটে ক্ষমা প্রার্থি।

বলবো নাই বা কেন বলুনতো? গ্রীক পূরাণের কথাই ধরি না কেন, পুরাণের দুই ভাইয়ের চরিত্র ও জনপ্রিয়তা দুরকম হলে এক ভাই এপিমিউথিস আর এক ভাই প্রমিথিউস। এরা মানব দরদি ছিলো বলে অলিম্পাসের দেবতা জিউস তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেবে বলে স্থির করলেন। এই শাস্তির অংশ হিসেবেই তৈরি হলো “প্যান্ডোরা”। গ্রীক মতে প্যান্ডোরাই পৃথিবীর প্রথম নারী,এই প্যান্ডোরাকে বানানোর দায়িত্ব নাকি দেয়া হয়েছিলো “হেফেস্টাসকে”। সে কারিগরদেব তখন মাটি দিয়ে এক নারীর মূর্তি গড়েন, এটি গড়তে তিনি নাকি তার স্ত্রী আফ্রোদিতিকে বেছে নেন মডেল হিসাবে।

সেই নারী মূর্তিকে সকল দেবতাই একটু একটু করে তাদের সেরা গুণগুলো দেন। আফ্রোদিতি দেন তার সৌন্দর্য, লাবণ্য, অকাঙ্খার খানিকটা, হার্মিস দেন - চাতুর্য, দৃঢ়তা। এ্যাপোলো শেখান সঙ্গীত। আর সর্বশেষ জিউসের স্ত্রী হেরা দেন কৌতুহল। এইসব নিয়েই নাকি নারীর সৃষ্টি। আর এখানেই হলো নারীর রহস্যময় ভান্ডার। নারী মাত্রই যেন প্যান্ডোরার বাক্সের সেই বিষ্ময়।
প্রাচীনকালে রোম, ভারত ও গ্রীসকে সভ্যতার লালনভূমি বলা হতো। তারাও নাকি নারীর সংস্বর্গ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিত। প্লেটো, সক্রেটিসরাও বলেছেন নারীর মতো বিপর্যয়ের বস্তু দুনিয়াতে আর কিছু নেই।
নারীর প্রতি পুরুষদের এতসব উক্তি কীর্তি আর সুন্দর সুন্দর ঈর্ষীত বিশেষণ নারীকে চিরকালের রহস্য করে তুলেছে।
জনৈক আরব কবি বলেছেন “নারীর জন্য মৃত্যু সেতো প্রিয়তম মেহমান” এই পংক্তি শোনার পর নারীর চোখে রহস্য খেলা করতেই বাধ্য।

“Japan the rising sun” এর লেখক তো স্ত্রী জাতির অন্তকরণের পাঁচটি দুরারোগ্য ব্যধি চিহ্নিত করেছেন - তা হোলো-
যে কোন শিক্ষার অযোগ্যতা, অসন্তোষ পরনিন্দা, হিংসা এবং মুর্খতা। যা আমাদের মহীয়ষী নারী বেগম রোকেয়া স্বয়ং নিরাময় করতে চেয়েছেন। এ সবই নারীর ভিতর বিদ্যমান একথা সত্য। আর একটি গুণ বিধাতা নারীর ভিতর দিয়েছেন যা রহস্য করার প্রধান হাতিয়ার, আর তা হলো সহিষ্ণুতা। এটি না থাকলে নারী হয়েতো নিদেন পক্ষে রহস্য নামক খেতাবটিও অর্জন করতে পারতোনা। তাইতো নারী, জাতিয় কবির গানে বললো “হেরিয়া নীশিপ্রাতে/শিশির কমল পাতে/ভাবো বুঝি বেদনাতে কেঁদেছে কমল”। “ পুতুল নাচের খেলা” উপন্যাসের লেখক মানিক বন্দোপধ্যায় বলেছেন - পৃথিবীতে সুন্দরি রমনিদের নিয়েই বিচিত্র ঘটনা ঘটিয়া থাকে।

এ কথার প্রমাণ ইতিহাসের সব বিষ্ময়কর রহস্য নারীরা। এই সব রহস্য প্রেমের লীলাভূমি নামক এ জগত সংসারেই ঘটিয়া থাকে। এর উপযুক্ত উদাহরণ- শরত চাটুর্য্যরে নায়িকারা। সেকস্পিয়রের নায়িকারা। মধু কবির নায়িকারা। সব মিলিয়ে নারী রহস্য। একথা পুরুষের প্রণয় কাতর উচ্চারণ হোক আর নারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের হাতিয়ারই হোক। নারী রহস্যময়ী---

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement