এ কি রেঁধেছিস মা!
খাওয়ার মতো হয়নি মোটেই
মুখে রুচছে না।
কেমনে যে চলো তুমি মা?
দিনগুলো সব যাচ্ছে চলে
কিছুই শিখলে না।

কি বলছিস রে বাপ
যত্ন করেইতো রেঁধেছি আমি;
এবারের মতো খেয়ে নে চুপচাপ।
ভাইয়া; ঠিকইতো বলেছেন মা,
তড়কারিতো ভালই হলো
এবেলা খেয়েনে না।

যতটুকু খেয়েছি আমি
এইতো ঢের হলো,
মা, যদি পারো খেয়ে নাও তুমি
নয়তো নালায় গিয়ে ঢালো।
এ কেমন কথারে ভাই?
পাতের খাবার নালায় যাবে?
কখনো এমন করতে নাই।

ফেলে দিতে হবেনা খাবার
দে আমিই খেয়ে নেই,
একটু অপেক্ষা কররে বাপ
তোকে আর কিছু এনে দেই।
ভাইয়া! এ তুমি কি করলে?
মায়ের সাথে এমন আচার!
শুধু ব্যথাই তাকে দিলে।

ওরে বোকা ভাই আমার
দেখেছিস! হাড়িটায় ঢাকনা তুলে?
সবটুকু খাবার তুলে দিয়েছেন মা যে
কেঁচেকুঁচে আমাদের থালে।
কি করে খাই একা আমি-
মা'কে অনাহারী রেখে ফেলে?

সারাটাদিন খেটেখুটে মরেন
আমাদের মুখে তুলে দিতে অন্ন,
কিছুই কি করার নেই আমাদের-
এই দুঃখিনী মায়ের জন্য?
অর্ধেকটা খাবার খেলাম আমি
আর অর্ধেকটা খেলেন মা,
দিনগুলো ঠিকই চলে যাবে
মরেতো যাবো না।

সৃষ্টিকর্তা যদি দিতেন আমায়
ভাগ্য লিখার ক্ষমতাটা
মাকে ভাগ করে দিতাম যতটুকু বাকি
আমার বেঁচে থাকার সময়টা।
ভাইয়া আর বলিসা কিছুই,
এই আমি তোর পা'য়ে ধরেছি
মা'কে তুই এতো ভালবাসিস!
আমি সেটা আজ বুঝেছি।