সেই কোন বিস্মৃত শৈশবে…
খেলাচ্ছলে লুকিয়ে থাকা গল্প-কথার ছলে
আমিও খুঁজে পেয়েছিলাম জীবন নামের এক মহীরুহের অস্তিত্ব।
শিশুমনের সাদা ক্যানভাসের অকৃপণ বিশালতায়,
জলরঙে এঁকেছিলাম সেই জীবনের নানা অনুষঙ্গ, টুকরো টুকরো উপকথা।
শিশুর চোখে ধরা দেওয়া সেই বিশাল মহীরুহে
জড়িয়ে ছিল হাজারো শাখা-প্রশাখা, গুচ্ছ গুচ্ছ ঘন পল্লব;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি দিগন্তবিস্তৃত সবুজের আবাহন।
নিজের আঁকা সেই সুবিশাল মহীরুহের অসীম ব্যাপকতায়
আচ্ছাদিত ছিল আমার সমগ্র মনন,
প্রজাপতির ডানায় উড়িয়ে দেওয়া আমার বেয়ারা অবাধ্য ইচ্ছেগুলো।
জলরঙে আঁকা সেই অপরূপ ক্যানভাসে
হয়ত আমারই অসাবধানে মিশে গেছে অবাঞ্ঝিত কিছু ভুল রং, আঁকিবুকি...
কালের অনিবার্য পরিক্রমায়।
মহীরুহের প্রতিকৃতিটাকে কেন জানিনা ভীষণ অসম্পূর্ণ মনে হয় আজ;
শাখা আর পত্রপল্লবের ফাঁক গলে উঁকি মারতে চায় পরগাছা,
অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হতে চায়
বাকল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র কালের ধকল।
শৈশবের মায়াজড়ানো সেই অবিকল প্রতিকৃতি
আর ভেসে ওঠেনা মনের ছায়ায়।
ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া রংগুলো বিকৃত ভঙ্গিতে উপহাস করতে থাকে;
অন্যরকম এক আদলে গড়ে নিতে চায়
আমার আজন্মলালিত জীবনের সেই একান্ত ভাবনাটিকে।
প্রতিকৃতি নয়,
আজ বাস্তবতার নিরেট সাজে সমাগত
মূর্তিমান রক্তমাংসের অবয়ব সে এক।
যাকে সজ্জিত করে চলেছি অভিজ্ঞতার পোড়খাওয়া বুনটে।
কুশলী হাতের ছোঁয়ায় বর্ণিল ফোঁড় তুলে
বুনে চলেছি রোজ এক অপরুপ নকশিকাঁথা,
যার উলটো পিঠের অসুন্দর গিঁটগুলোকে লুকিয়ে রাখতে শিখেছি
অতি সুনিপুণ কৌশলী দক্ষতায়..।।