লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৬টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭২

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঘৃনা (আগস্ট ২০১৫)

বাবলু
ঘৃনা

সংখ্যা

মোট ভোট ১১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭২

Shimul Shikder

comment ৮  favorite ১  import_contacts ৮২৩
বিশ্ববিদ্যালয় শীতের ছুটি। বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। পাড়ার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাই। আড্ডা শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। মা খাবার নিয়ে বসে থাকে কখন ঘরে ফিরবো সেই আশায়।

একদিন গভীর রাতে এরকম এক আড্ডা শেষে বাসায় ফিরছি। সাথে ছিল বাবলু। বাবলু আমার সাথে স্কুলে পড়ত। স্কুল শেষে ওর পড়াশুনা আর এগোয় নি। কাজকর্ম তেমন কিছু করে না। মানুষের নানা রকম ফুট ফরমাশ খেটে ওর দিন কাটে। আমার মতো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের সাথে বাবলুদের মতো পিছিয়ে পরা ছেলেদের ঠিক বন্ধুত্ব হয়না। বাবলু আমার বন্ধু না। আমি বেড়াতে গেলে ও আমার সাথে আঠার মতো লেগে থাকে। আমি সুযোগ পেলেই ওকে নানা রকম জ্ঞান দেই। জীবনে উন্নতি করতে হলে দরকার পরিশ্রম, সাধনা, অধ্যবসায়। নিজেকে দিয়ে উদাহরণ দেই। কঠোর শ্রম আর সাধনা দিয়ে আজ আমি কোথায় আর ও কোথায়। আমার শ্রম সাধনার ফল একদিন সারা দেশ, জাতি ভোগ করবে। দেশকে আমি একদিন অনেক দিতে পারবো। আর সেখানে ওর এই অর্থহীন জীবনের কি মূল্য আছে। আমার এসব ভারী ভারী কথা ও বোঝে কি না জানি না। চুপচাপ শোনে আর মাথা নাড়ে।

কুয়াশায় চারিদিক ঢাকা। পাঁচ হাত দুরের জিনিস দেখা যায় না। রাস্তাঘাট জনশূন্য। দূর থেকে একটা কুকুরের আর্ত চিৎকার ভেসে আসছে। হাঁটতে হাঁটতে কলেজের সামনে এসে পড়েছি। আধা খাওয়া সিগারেট বাবলুকে দিয়ে বললাম, চল, মাঠের মধ্যে দিয়ে শর্টকাটে যাই। বাবলু বলল, ‘কুয়াশায় কিছুই তো দেখা যায় না। মাঠের ভিতর দিয়ে যাওয়া ঠিক হবে?’ কোন জবাব না দিয়ে মাঠের দিকে হাটা দিলাম। বাবলু পেছন পেছন আসতে লাগলো। মাঠের শেষে দীঘি। দীঘির ওপারে আমার বাসা কিছুদূর গেলেই আমার বাসা। দীঘির পাড় দিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ এক আর্ত চিৎকারে আমরা দুজন চমকে উঠলাম। দীঘির পাশের শুকনো ডোবা থেকে চিৎকারের শব্দটা আসছে। মনে হচ্ছে মেয়ে মানুষের গলা। কুয়াশার কারণে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। আমি দীঘির পাড়ে দাড়িয়ে ঘটনা বুঝার চেষ্টা করছি। কিছু বোঝার আগেই বাবলু এক লাফে ডোবার ভিতর নেমে কুয়াশা ভিতর মিলিয়ে গেলো। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে আমিও আস্তে আস্তে ডোবার ভিতর নামলাম। শুকনো ডোবায় কচুরিপানা শুকিয়ে আছে। পা রাখতেই পটপট শব্দে কচুরিপানাগুলো ফুটতে লাগলো। একটু দূরে একটা মেয়ের গোঙানি শব্দের সাথে একাধিক পুরুষের ফুসফাস শব্দ কানে এলো। একটু পরেই বাবলুর চিৎকার শুনতে পেলাম, ‘ওই হারামির বাচ্চারা, ছাইরা দে ওরে। তোদের খুন কইরা ফালামু’। আমি একটু একটু করে সামনে এগুচ্ছি ঠিক তখনই একটা ঘুষি আমার নাকে এসে লাগলো। আমি ছিটকে পড়লাম। কেউ একজন আমার গলা মাটির সাথে চেপে ধরল। সে একটু ঝুঁকে আমার মুখ দেখে বলে উঠলো, “আরে, এইটা তো আমাগো শওকত।” ছেলেটা আমাকে টেনে তুলল। আমার মনে হল দেহে প্রাণ ফিরে পেলাম। দয়ালু ছেলেটাকে আমি অবশ্য চিনতে পারলাম না। ছেলেটি আবার কুয়াশার ভিতর ঢুকে গেলো। আমার মনে ঈষৎ আত্মঅহংকর জাগল। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র বলেই আজ হয়তো এই ছাড়টুকু পেলাম। ধ্বস্তাধস্তির শব্দ শুনে সামনে এগুতেই দেখলাম দুইজন যুবক বাবলুকে মাটিতে ফেলে কিল ঘুষি চালাচ্ছে। পাশেই মাটিতে শায়িত একটা মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতন চলছে। সেটা উপেক্ষা করে আমি বাবলুর দিকে ছুটে গেলাম। বাবলুর উপর চেপে বসা ছেলে দুটাকে ধাক্কা দিয়ে বললাম, ‘ও আপনাদের কি করেছে? দয়া করে ওকে ছেড়ে দেন।’ ছেলে দু’টা সরে গেলো। আমি বাবলুকে টেনে তুললাম। মনে হল ওর নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। ওদের মধ্যে থেকে একজন বাবলুকে বলল, ‘যে দিকে যাইতেছিলি ওদিকে যা।’ পায়ের কাছেই একটা ইট পড়ে ছিল। বাবলু ভয়ংকর এক উত্তেজনায় ইটটা তুলে নিলো। আমি বাবলুর হাত চেপে ধরলাম। ‘এই গাধা করছিস কি? ইট ফেলে দে।’ বাবলুর মনে হল সমস্ত শরীর কাঁপছে। মেয়েটার উপর নির্যাতনকারী লোকটার উপর বাবলু হুঙ্কার দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। পাশে দাঁড়ানো ছেলে দুইটাও আর সময় নষ্ট করলো না। তারা বাবলুকে টেনে হিঁচড়ে কিল ঘুষি মারতে লাগলো। পরিস্থিতি ঘোলাটে মনে করে সেখানে দাড়িয়ে থাকাটা আর বুদ্ধিমানের কাজ মনে হল না। আমি দৌড়ে ঘন কুয়াশার সাথে মিলিয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবতে লাগলাম, এজন্যই বাবলুদের মতো নির্বোধদের জীবনে কোন উন্নতি হয় না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • জিয়া
    জিয়া darun
    প্রত্যুত্তর . ৪ আগস্ট, ২০১৫
  • গোবিন্দ বীন
    গোবিন্দ বীন ভাল লাগল,ভোট রেখে গেলাম।পাতায় আমন্ত্রন রইল।
    প্রত্যুত্তর . ৪ আগস্ট, ২০১৫
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় সুন্দর গল্প চিত্রটি--সহজ ভাষায়, সমাজের বাস্তবিক এক প্রতিফলন গল্পে ফুটে উঠেছে। বাবলুর মত চরিত্রের ছেলে আছে বলেই বোধহয় আজও জমাজের অনেকাংশে মান টিকে আছে। ধন্যবাদ শিমুল, আপনাকে।
    প্রত্যুত্তর . ৫ আগস্ট, ২০১৫
  • মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
    মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ আপনার গল্পটা পড়তে ভাল লাগল কিন্তু একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রকে দিয়ে আপনি কাকে উৎসাহিত করালেন বুঝলাম না । আগের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবার চেষ্ট করত । আর আজকের--------------অবশ্য এটাই হয়তো আজকের বা...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৫ আগস্ট, ২০১৫
    • Shimul Shikder গল্পটি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় লেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক ভালো ছাত্রদের ভাবনাটা এমন দেখেছি, যেহেতু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে কাজেই তারা সকল সামাজিক দায়বদ্দতার উর্ধ্বে। অন্যদিকে জীবনের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা অনেক ছেলেমেয়েদের মধ্যে এসব মানবিক গুনাবলীগুলো দেখা গেছে অনেক প্রখর। মেধা তালিকায় প্রথম দিকে থাকা অনেক ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ ধরনের মানিসিকতা দেখে অনেক কষ্ট পেয়েছি। অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সব ছেলেমেয়েরা এরকম নয়। আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
      প্রত্যুত্তর . ৫ আগস্ট, ২০১৫
    • মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ আপনার চমৎকার বিশ্লেষণের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং আপনার মনোবেদনার আমিও অংশীদার । শুভ কামনা রইল ।
      প্রত্যুত্তর . ৬ আগস্ট, ২০১৫
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ গল্পের উত্তম পুরুষের বর্ণনার ভেতর দিয়ে তার সুবিধাবাদী চরিত্রটি ফুটে উঠলো-সুন্দর লিখেছেন .
    প্রত্যুত্তর . ৬ আগস্ট, ২০১৫
  • আবুল বাসার
    আবুল বাসার অনেক শুভেচ্ছা রইল।ভাল লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ৯ আগস্ট, ২০১৫
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক ভালো লাগলো...সাবলীল সুন্দর কাহিনী....একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুবিধাবাদীর চরিত্রটা ভাবিয়েছে.....অনেক শুভ কামনা....
    প্রত্যুত্তর . ১৩ আগস্ট, ২০১৫
  • রেনেসাঁ সাহা
    রেনেসাঁ সাহা খুব সুন্দর। সুবিধাবাদী চরিত্রের ভিড় এখন। বাবলুদের সংখ্যাটা কম হলেও এখন ও তাঁরা আছেন। ভোট রইল। শুভকামনা।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ আগস্ট, ২০১৫

advertisement