সব হারানো পাখিটাও জানে পুরো আকাশটাই তার, ঘোলাজলের নদীটাও বোঝে সে কত সুন্দর !
কেবল আশাহত মানুষই জানেনা তার ভেতরের শক্তি কত !
তবে কেউ কেউ আছেন যাঁরা নিকষকৃষ্ণ নির্জন চরে বৈরী ঝড়েও মানুষের মত সাহসী হয়ে ওঠেন ।
আমার কথাই বলি...
পাথরে পাথর ঘষে যেদিন আগুন জ্বালানো শিখেছিলাম , সেদিন থেকে আজ অবধি মানুষ হবার চেষ্টায় মুখোশ পরে আছি । সভ্যতার চরম শিখরে যেতে কত কিছুই না নতুন নেশায় নতুন করে আবিষ্কার করলাম ! তাই বলে ভেতরের জানোয়ারটাকেও ঠকাইনি । ওকে আরো বর্বর , আরো স্বার্থপর , আরো অসভ্য রূপে গড়ে তুলেছি ।
পারমানবিক বোমা , একে-৪৭ দিয়ে কত কিছুইতো শেখালাম শয়তানটাকে । তারপর অনেকটা সময় হারিয়ে গেছে মহাকালের অতল গুহায় ।
আজ বিপরীত স্রোত বইছে ভেতরে ।
আমার সমস্ত শিরা উপশিরা , রক্ত কণিকা,প্রতিটি কোষ -
জোট বেঁধে আজ মিছিল করছে রাজধানী মগজে ।
ওদের দাবি -
আমি যেন যথাসময়ে মানুষ হই ,গলা টিপে হত্যা করি ভেতরের পশুটাকে , নইলে নাকি নিস্তার নেই আমার।
শেষ রাত্রি-
আধোঘুমে দুঃখবিলাসী গান শুনছিলাম , গান থামলো ভোরবেলায় মিছিলের ঝাঁঝাঁলো তেজে । কাঁচা রোদ চোখে মুখে ঝলকানি দিয়ে ওঠে , মিছিলের আওয়াজ বাড়ে ক্রমশ ।
আমার কাপুরষতার দেয়ালগুলো থরথর করে কাঁপে মিছিলের বজ্র গর্জনে । সদলবলে সদর দরজা ভেঙ্গে ওরা আমাকে ঘিরে ধরলো ঢিল খাওয়া ভীমরুলের মত ! রাগে ক্ষোভে আগুন ঝরছে ওদের শরীরে । লাফিয়ে উঠে ভয়ার্ত চোখে ওদের সাহসী চোখ থেকে সাহস নিলাম , গলা টিপে হত্যা করলাম ভেতরের কাপুরুষটাকে। বর্বর জানোয়ারটাকে ভেতর থেকে টেনে হিচড়ে বের করে ধরিয়ে দিলাম ওদের কাছে । ওরা অসভ্যের রক্তকালিতে পৃথিবী ক্যানভাসে আঁকলো সভ্যতার ছবি , আমি মুক্তির আনন্দে বিহবল । সমস্ত আঁধার খুন করে ওরা আলোর ফুল ফোটালো যুদ্ধজয়ীর হাসিতে । আর আমি -
হয়ে গেলাম সত্যিকারের মানুষ !?