লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ আগস্ট ১৯৬৬
গল্প/কবিতা: ১৫টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৫৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৬৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮৯ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভয় (এপ্রিল ২০১৫)

ঘুঙুর
ভয়

সংখ্যা

মোট ভোট ৪১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৫৩

শামীম খান

comment ২৭  favorite ০  import_contacts ১,২৪৯
( ১ )
জ্ঞান ফিরতেই মনে হোল সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার । মনের গভীরে একজনঅবশ্য এখনো বলছে , ‘দোদুল্যমনতার কাছেকিন্তু হেরে যাচ্ছিসঝিনু । ঘরে ফিরে লজ্জা আর লাঞ্ছনার আবর্তে সারা জীবন তড়পাবি !’ভেতরের সায় হারিয়ে ফেলেছি আমি । হোক অসম্মানের , তবু জীবনটা যাপনেই সার্থক । তাছাড়া লোক-সমাজের মনোভাব যেমন দ্রুত বদলে যাচ্ছে , আমার এই দুর্দশা হয়তো একদিন হঠাৎ করেই কেটে যাবে । সত্য বলতে কি, এমন একটা প্রত্যাশা দূরের আলোকবর্তিকার মত শুরু থেকেই আমার মনের কোনে জ্বলছিল । এই নির্জন অন্ধকারেসেটি এবার দিশারী হয়ে আমাকে পথ দেখাচ্ছে ।
মাথার উপরে ডাল-পালার সামিয়ানা । ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে দেখা যাচ্ছে ছেঁড়া ছেঁড়া নীল আকাশ । দুয়েকটি তারা নজরে পড়ছে । রাত কটা হবে , তিনটে ! সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও নাদের নিশ্চয় জেগে জেগে কবিতা লিখছে ।স্বার্থপরটা সার্থক বটে , মরতে এসেও হতচ্ছাড়াটাকে স্মরণ করছি !আমার ভারে ডালটা একেবারে ন্যুয়ে পড়েছে । ছেলেবেলায় এই ডালে দড়ি ঝুলিয়ে কতদিন দোলা খেয়েছি হিসেব নেই । গরমের দুপুরেসারা বাড়ী তেঁতে ঊঠলেও পেছনের এই বাগানটাথাকতো ঠাণ্ডা । মা তাই চৈত্রের শুরুতেই বাগানের এই অংশ লোক লাগিয়ে ঝেড়ে মুছে উঠোনের মত সাফ করে নিতেন । দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে এখানে শীতল পাটি বিছিয়ে রুনুবু , আমি আর আনু মায়ের দুপাশেশুয়ে থাকতাম।হাতের তাল পাখাটা ঘোরাতে ঘোরাতে মা আমাদের রাজা-রানীর গল্প শোনাতেন ।নিদ্রার টানে তাঁর কণ্ঠ ক্রমশ আড়ষ্ট হয়ে এলে এক ফাঁকে আমি কোমরে বাঁধা ঘুঙুরটা খুলে ফেলতাম । তখন আর আমাদের দুষ্টুমিতেবাঁধা দেয় কে ! শুরু হতো পালাক্রমে দোলা খাওয়া । এসব অনেক আগের কথা । মা মারা গেছেন সাত বছর হোল ।অবাক ব্যাপার হোল তাঁর দাফনের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ঘুঙুরটা আর পাওয়া যায় নি । গত বছর রুনুর বিয়ে হয়ে গেছে। খুব ধূমধাম হয়েছিল । জামাই ইতালী থাকে । ওকেও নিয়ে যাবে তাড়াতাড়ি । জোরচেষ্টা চলছে । দুইমাস আগে বাপের বাড়ী এসেছিল ওরা।কাছে থাকতে যত না ছিল , দূরে যেয়েবুবুরভাবনা বেড়েছে তত । সাত দিন আমাদের সাথে কাটিয়ে ফেরার সময় ওর মরাকান্না দেখে কে !জামাইটাও পাল্লা দিয়ে কান্না কাটি করলো । যাবার সময়প্রতিজ্ঞা করে গেছে বুবু , ইতালী যেয়ে একটু থিতু হলেই আমাকে নিয়ে যাবে ।আমিতো হেসেই খুন , ওদের হাল , বিশেষ করে ওর জামাইয়ের কাণ্ড দেখে । বউয়ের সামনে শ্যালিকার জন্য কি কান্নাটাই না কাঁদছেলোকটা । বোঝার উপায় নেই , আগের রাতে ভদ্রলোক দেড়শ পৃষ্ঠার একটি বই রেখে গেছে আমার ড্রয়ারে ।সচিত্র সেবইয়ের এক পৃষ্ঠা পড়লেই যে কারোঅজু নষ্ট হবে।
( ২ )
গত এক মাস ধরে মনে হচ্ছিল বেঁচে থাকা মানে সারা জীবন একটি সীমাহীন গঞ্জনা বয়ে বেড়ানো । তার চেয়ে বড় কথা , কুকুর বেড়ালের চেয়েও অসম্মানে বেড়ে উঠবে আমারসন্তান !গতকাল এসব ভাবতে ভাবতে তলপেটটা মুচড়ে উঠলো । গলগল করে বমি করে ফেললাম । কাজের বেটি রাবেয়ার মা আমাকে পরিষ্কার করে খাটে শুইয়ে দিতে দিতে ফিসফিস করেছিল , এ চান্দে রক্ত ভাংছেনি মাগো ? রাতে নাদেরের সামনে আরেকবার দাঁড়াতে বাধ্য হলাম । এবারো সে সাফ বলে দিলো , দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নয় । এরপর আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরী হয়নি । এখন চেতনা ফেরার পর বুঝতে পারছি কি ভুলটাই না করতে চলেছিলাম !
একটু চেষ্টা করতেই পায়ের নীচে মাটি স্পর্শ পেলাম । এতক্ষনেআমার ভারে ক্লান্ত রশিটাশব্দ করে ছিঁড়ে গেল । একটি শেয়াল পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল খেয়ালই করিনি । কিভাবে করবো , অজ্ঞান হবার পর থেকে নীচে তাকাবার সময় পেলাম কোথায় ? এবার আলো-আঁধারিতে চোখাচোখি হতেই ভড়কে গেল হতচ্ছাড়াটা । পড়ি মরি করে দৌড়ে পালালো ।আমার সাথে শেয়ালের যোগসূত্র বেশ দীর্ঘ । জীবনের মোড়ে মোড়ে নিয়মিত দেখা হয় ওগুলোর সাথে ।ক্লাস ফাইভে পড়ার সময়কালের একটি ঘটনা । মা মারা গেছেন বছর পেরোয় নি তখনো ।চন্দন নামের এক যুবক ফি-বছর বেড়াতে আসতো এ গ্রামে । পোস্ট মাস্টার রহীম সর্দারের ভাগ্নে । একবার এলে মাস খানেকের আগে ফিরতো না । তার স্বভাব ছিল গায়ে পড়ে জ্ঞান দেয়া । গ্রামের লোকেরা বিষয়টি সবাই সমানভাবে নিতো না । যাহোক এই পণ্ডিত সেবার আমার ভালোমানুষ বাবার সরলতার সুযোগে কদিনের জন্য গৃহ শিক্ষক হয়ে ঘরে ঢুকলো । রুনুবুর কটমটে চেহারা দেখেই হয়তো বুঝে নিয়েছিল বাগে নিতে পারবেনা । আমার দিকে কেমন যেন পিট পিট করে চাইতো । পড়ার অবসরে রুনু এদিক ওদিক গেলেই গায়ে হাত রাখতে চাইতো বদমাশটা। আমার বয়স তখন এগারো । লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এক সন্ধ্যায় , আনু তখনো খেলা থেকে ফেরেনি । রুনু ব্যস্ত ঘরগুলোতেহ্যারিকেন জ্বালিয়ে দেবার আয়োজনে । চন্দন আমাকে পড়ার ঘরে আটকে ফেলেছে । দ্রুত তার হাত নেমে এসেছে আমার শরীরের সংবেদনশীল অঞ্চলে । কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে থুথু ছিটালাম ফাজিলটার মুখে । উল্টো ফল ফললো , দ্বিগুন উৎসাহে এগিয়ে চলল সে । উপায়ান্ত না পেয়ে জানোয়ারটারদুপায়ের সংযোগে কষে দিলামএকটা লাথি । সেই প্রথম আমার শেয়াল শিকার । টানা পাঁচ মিনিট জ্ঞান হারিয়ে বেমক্কা পড়ে ছিল লোকটা!
( ৩ )
রুনুর স্বভাবটা ছিল ভিন্ন ধরনের । বাইরে থেকে একটা নীরস মুখোস সাঁটা , ভেতরে ভেতরে মেয়ে হিসেবেসে অন্যরকম । মাতৃহীন সংসার । দুবোন মিলে পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে রুটিন মেনে কাজ করি । রাবেয়ার মাকে কোন কিছুই না দেখিয়ে দিলে হয় না ।আবার রান্নার দায়িত্ব পুরোটাই আমাদের । কাজের ফাঁকেরুনু আর আমি একসাথেগোসলে যাই । পুকুর পাড়ে যেয়ে প্রায়শই ও আমাকে বলতো , ‘তরকারীটা পুড়ে যাবে , তুই বাকী রান্নাটা শেষ করে আয় । আর হ্যা , মামাকে পাঠিয়ে দে’ । বলা হয়নি , মায়ের চাচাতো ভাই , আমাদের থেকে সাত আট বছরের বড় রঙ্গু মামা তখন আমাদের বাড়ীতে খুব আসতো । একদিন রঙ্গুকে ডেকে দিয়ে সন্দেহ বশে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম । মামার কাছে সাঁতার শেখানোর আবদার করছে আইবুড়ীটা ! কান দিয়ে গরম ভাপ বেরুতে লাগলো আমার ।

রঙ্গু মামাকে প্রথমবার দেখলে যে কেউ আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সদস্য ভেবে ভুল করবে । সদ্য মা হারিয়েছি । প্রায়ই বাড়ীতে মায়ের পক্ষের আত্মীয়-স্বজনেরা আসেন । দুঃখ শোকের সাথেচলে কান্না কাটি।হঠাৎ করেই বাড়ীর পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে । রঙ্গু মামা যখনি আসতো মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দিতো । এ নিয়ে কেউ কিছু ভাবতো না । আড়ালেকিন্তু তার হাতমাথার উপর স্থির থাকতো না। চেষ্টা করতাম দূরে দূরে থাকতে । বেঁচে থাকতে মা ঘুঙুরের শব্দে বুঝে ফেলতেন আমি কোথায় , কীভাবে আছি । এখন মা নেই ,ঘুঙুরটিও কিভাবে যেন হারিয়ে গেছে । এক রাত্রে বাড়ীতে মেহমান থাকায় দেরী করে শুয়েছি । এক খাটে আমি আর রুনু । গভীর ঘুমে ডুবে আছি । অন্ধকারে গাঁঢ় নিঃশ্বাস মুখে পড়তে ঘুম ভেঙ্গে গেল ।বুঝে নিলাম আমার পাশে একটা শেয়াল শুয়ে পড়েছে । দুবাহুর বন্ধনীতে আমাকে আটকে ফেলেছে একটা শয়তানটা । ধাক্কা দিয়ে রুনুকে ওঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম । ডাকাতির পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেলরঙ্গুর । নাকের উপর আমার চারটে দাঁত ভীষণ ভাবে বসে গিয়েছিল । রক্ত থামতেই চায় না । ভোর রাত্রেসেবার এক কাপড়ে বাড়ী ছাড়লো রঙ্গু মামা ।
আনুর কাছে জীবন হোল একটি আনন্দ ভ্রমন । চৌদ্দতেই সিগারেট ধরার বিরল কৃতিত্বটিঅবলীলায় যে নিজ দখলে নিয়ে নিয়েছে সে আর কেউ নয় , আমারই অনুজ , আমিনুর রহমান আনু । ঠোঁটে সারাক্ষন চটুল হিন্দি গানের কলিগুলো হারমোনিয়ামের রীডের মত ওঠা নামা করে । বন্ধুদের সাথে ফুর্তি করে বেড়ানো শিখেছে অনেক ছোটবেলায় । ইদানিং তাকে দেখি মাঝে মধ্যে ঢক ঢক করে সিরাপ খায় ! চোখে পড়লে খক খক করেখানিকটা কেশে বলে , ‘খুব কাশিরে বুবু’ । রুনু এগুলো দেখেও না দেখার ভান করতো । ভয় ছিল শুধু আমাকে নিয়ে । আমার চোখে ধরা না পড়লে কোন অপকর্মই ওর নীতির জালে আটকায় না ।
আমার বাবা একজন অসাধারণ মানুষ । হাস যেমন সারা দিন সাঁতার কাটলেওপানিতে ভেজেনা ,আমার বাবা তেমনি । এই পৃথিবীতে বাস করলেও কোন পঙ্কিলতা তাঁকে কখনোস্পর্শ করে না । পরিণত বয়সে স্ত্রী বিয়োগ হলে অনেকেই বিয়ে করে । মামারাটুনি খালার জন্য একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল । নিঃসন্তান খালা অল্পবয়সে স্বামী হারিয়ে দীর্ঘদিন মামাদের ঘরে পড়ে ছিলেন । আমাদের সাথে তাঁর সম্পর্ক তখন বন্ধুর মত । দুবোন সানন্দে রাজী হয়ে গেলাম ।বাবা রাজী হন নি । যে সুতো ছিঁড়ে গেছে তাতেআর মালা গাঁথতে চান না বাবা । তাঁর সামনে গেলে বুকটা ভরে ওঠে , মনে হয় আমি এক স্বর্গীয় পুরুষের সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে আছি। বাবা বাড়ীতে থাকলে আনু সুর করে সুরা দুরুদ পড়তে থাকে । তবে বাবাবাড়ীতে থাকেন খুব কম । প্রায়ই তাবলীগের দলের সাথে চিল্লায় বেরিয়ে যান । আর না-মেলা সমীকরণের অনির্ণীত এক্সয়ের মত টুনি খালা এখন আমাদের বাড়ীতেই থাকেন । আমাদের অমতে হোলেও তাঁর অবস্থান মেনে নিয়েছিআমরা । বাবা বাইরে থাকলে বাড়ীর বারোমাসি রাখাল মিজান প্রতি রাতে পালা গানের নামে দূরে কোথায় যেন চলে যায় । মধ্যরাতে একটি ছায়া খালার ঘরের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে । আগে ছায়াটিকে ভয় পেতাম । এখন মিজানকে দেখলে বুক কাঁপে ।
( ৪ )
বাগান পেরিয়ে আসতেই উঠোন । ফটফটে জোছনায় ভরে গেছে চারিদিক । হঠাৎ মনে হোল গাছের আড়ালে কেউ দাঁড়িয়ে ছিল । মুহূর্ত কালের জন্য চোখে পড়লো মায়ের মত ঘোমটা পরা একটি রমণীর ছায়া । দুদিন আগে পত্রিকার স্বাস্থ্য পাতায় গর্ভকালীন দৃষ্টিভ্রম ( Pregnancy Related Hallucination ) নিয়ে একটি লেখা পড়েছি । তবু গা ছমছম করছে । এদিক ওদিক তাকিয়ে দ্রুত পায়ে বাড়ীর উঠোনে চলে এলাম । না ,কেউ কিছু জানতে পারেনি ।সবাই গভীর ঘুমে ডুবে আছে । দুই বাড়ী পশ্চিমে , নাদের ভাই হয়তো এখনো কবিতা লিখছে , আমাকে নিয়ে ! একবার যেয়ে দেখে আসলে কেমন হয় ! এমন নির্জন রাতে আমাকে পেলে ও হয়তো ছাড়তেই চাইবে না ।
উঠোনের কোনে হাস্নাহেনার ঝোপ । আকাশ ভরা জোছনার আলো । ফুলের ঝাড় থেকে সুগন্ধ এসে জোছনার স্রোতে মিলিয়ে যাচ্ছে । মুহূর্তে সব ভুলে আমি হয়ে উঠি একস্বপ্ন-ভরা ময়ূরপঙ্খী , দুলতে থাকি জোছনার স্রোতে । নারী তার সৌন্দর্য নির্দিষ্ট করে রাখে কারো জন্য ।প্রকৃতি রাখেনা । নিজের সৌন্দর্য অকাতরেবিলিয়ে দেয়সে । কেউ না দেখলেও তার কিছু যায় আসে না , বঞ্চনা শুধু দর্শকের । সরলা ময়ূরপঙ্খী আমি যাকে নিয়ে সমুদ্রে নেমেছি , সে আমাকে অস্বীকার করেছে । না-পাওয়া ভালবাসার বিষ নিসর্গের এ তিথিতে গলার কাছে কুণ্ডলী পাকিয়েছে। আমার চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে ।
পায়ে পায়ে কখন যেন নাদেরদের বাড়ীতে ঢুকে পড়েছি । মায়ের ছায়াটি আবারো দৃষ্টিগোচর হোল , তাঁর হাতে হারানো ঘুঙুর ! এখন আর চমকাচ্ছি না , হ্যালুসিনেশন । নাদেরের ঘরে আলো জ্বলছে । বাইরে থেকেই বুঝতে পারছি দরোজা জানালা বন্ধ করে জমিয়ে কবিতা লিখছে । নিশ্চয় রগরগে প্রেমের কবিতা । আগামী বইমেলায় চকচকে মোড়কে বেরুবে ওর প্রথম কাব্যগ্রন্থ , হৃদয়ের কথামালা । আলতো হাত রাখতেই খুলে গেল জানালার পাল্লাটা । আর চকিতে আতংকে বিস্ফোরিত হয়েছে ওর দুটো চোখ । রক্তহীন পাংশু মুখ থেকে একটি আর্তনাদ দিগন্ত কাঁপিয়ে দিল । মুহূর্তেমেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে নাদের । বিহ্বল আমি দেয়ালের আয়নায় তাকালাম । এ কি দেখছি আমি ! আয়নায় ভেসে উঠেছে একটি বীভৎস মুখচ্ছবি । রক্তাভ দুচোখ যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে । ঠোঁটের কোনে জমাট বাঁধা রক্তের ধারা , গলারচামড়া কেটে বসে গেছে নাইলনের শক্ত ফাঁস ............।
বাড়ীর ভেতর থেকে দুপদাপ শব্দে লোকজন ছুটে আসছে । এবার আমি দ্বিধাহীন চোখে পেছন ফিরে তাকালাম । নিশ্চয় ঘুঙুর নিয়ে কাছেই কেউ অপেক্ষা করছে.........।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement