আব্বা যখন জেলে ছিলেন

অসহায়ত্ব সংখ্যা

রূপক বিধৌত সাধু
আব্বাকে যেদিন পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, সেদিন আমি ত্রিশালে । রাজিব ফোন করে আমাকে ঘটনাটা জানায় । আমি হতভম্ব হয়ে যাই । আব্বা আধ-পাগলা ধরনের মানুষ । আমার জানামতে কখনো কারো ক্ষতি করেননি । সুতরাং কারো সাথে তাঁর শত্রুতা থাকার কথা নয় । হঠাৎ এমন কী ঘটল !
আম্মাকে ফোন দিয়ে কী হয়েছে জানতে চাইলাম । আম্মা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন । তারপর বললেন, তুই চিন্তা করিস না, তোর মামা আনতে গেছে; আজই ছাড়া পাবে !
আমি আব্বা-আম্মার একমাত্র ছেলে । কষ্ট লাগাবে; এটাই স্বাভাবিক । পৃথিবীতে এমন কোন সন্তান নেই, যে মা-বাবার দুর্দিনে অস্থির হয়না । বুঝলাম, আমার কাছে অনেক কিছুই গোপন করেছেন আম্মা । অবশ্য পরে আমি সবকিছু জানতে পেরেছিলাম ।
দাদার সাত ছেলে । সবাই বড় এবং বিবাহিত । তাঁদের সন্তানাদি আছে । এক ভিটাতে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় আমি যখন খুব ছোট, দাদার বাড়ি হতে একটু দূরে আমাদের নতুন বাড়ি বানানো হয় । প্রায় রাস্তার পাশেই এর অবস্থান । দাদার বাড়ির পূর্ব পাশে একটা বাড়ি আছে, যেটাকে পূরবাড়ি বলা হয় । ঘটনা সে বাড়ি ঘিরেই ।
এ বাড়িতে পাঁচটা পরিবার । রফিকুল, সফিকুল, শরিয়তউল্লাহ, মজিদুল্লাহ এবং আজিতুল্লাহ সপরিবারে থাকে । প্রত্যেকের দু-তিনজন করে ছেলে মেয়ে । রফিকুল আর সফিকুল দুই ভাই । জমি-জমা নিয়ে চাচা শরিয়তউল্লাহ্‌র সাথে বিরোধ । সেদিন হঠাৎ চতুর্মুখী ঝগড়া বেঁধে গেল । পুরুষ-মহিলা পরস্পর পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল । রফিকুল আর সফিকুল এক পক্ষে অন্যপক্ষে শরিয়তউল্লাহ ও আরিফ (আজিতুল্লাহ’র ছেলে)। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে রফিকুলের বউ বেশি আঘাত পেল । সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রফিকুল আর সফিকুলের পরিবার । তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেয়া হয় । অথচ তাদের দোষ সামান্যই ছিল । রফিকুল শুধু পুরনো জমিটা মাপতে গিয়েছিল । শরিয়তউল্লাহ আর আরিফ গিয়ে তাকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে । সফিকুল ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যায় ।
এলাকাবাসী ছুটে আসায় রফিকুলেরা বেঁচে যায় । বিকেলে নালিশ বসে । এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আসেন । আসেন রাজনৈতিক নেতারাও । শরিয়তউল্লাহ্‌র সাথে তাদের বেশ ঘনিষ্ঠতা । কোন কিছু যাচাই বাচাই না করে রফিকুল সফিকুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় । আব্বা তির্যক ভাষায় এর প্রতিবাদ জানান । কারন, আব্বা-ই লোকজন নিয়ে তাদের উদ্ধার করেছিলেন । ঘটনা সম্পর্কে তিনি আগেই অবগত ছিলেন । তিনি জানতেন কে প্রকৃত দোষী । তাই এই অন্যায় অবিচার তিনি মানতে পারেন নি ।
নেতারা একটা বিশেষ দলের । আমি কোন দলকে দোষ দেইনা । ব্যক্তির দোষ দলকে দেয়া ঠিক না । কারণ, একই দলের সবাই খারাপ হন না । অবশ্য মাঝে মাঝে ব্যক্তির দোষ দলের ওপরও বর্তায় । সে অন্যকথা ।
রফিকুল সফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা হয় । আব্বাকেও আসামী করা হয় । আরও আসামি করা হয় সফিকুলের ছেলে শিমুলকে, যে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল । কিছু্দিন পরে-ই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে ।
আব্বা প্রায় এক সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন । আমাদের বেশ সমস্যা হয়েছিল তাঁকে ছাড়াতে । কারণ, আমাদের গোষ্ঠীতে কেও কখনো মামলা মোকদ্দমায় জড়ায়নি । আইন কানুন মামলা মোকদ্দমা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অতি সামান্য । বাস্তব জ্ঞান বলতে গেলে নে-ই । কোর্ট কাচারি, উকিল- মোক্তার আর বিচারক সম্পর্কে যা জেনেছি; তা ঐ বিটিভির বাংলা সিনেমা দেখেই । আমার এক মামা আর দুই চাচা ব্যপারটা সামলান । আমি যদি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি, এই ভয়ে আম্মা আমাকে আব্বার সঙ্গে দেখা করতে দেননি ।
এক সপ্তাহ পর আব্বাকে যখন দেখি,আমার খুব কান্না পেয়েছিল । আব্বা সাতজন ভাইকে বড় করেছেন । দুজন বোনকে বিয়ে দিয়েছেন । কখনো নিজের উন্নয়নের কথা ভাবেননি । পাড়া-প্রতিবেশী আব্বার সমবয়সী অনেকেই এখন অনেক টাকা-পয়সার মালিক । অথচ আব্বা যেমন ছিলেন, তেমনি আছেন । তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থার কোন অগ্রগতি হয়নি । শুধু বয়স বেড়েছে আর কিছুই বাড়েনি । আমি আব্বাকে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলাম ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
ওয়াহিদ মামুন লাভলু ভাল লিখেছেন। শ্রদ্ধা জানবেন।
মহসিন মিজি ছোট্ট গল্পটি হৃদয় ছুঁয়ে গেল। অনেক ভালো লাগলো। সাহসীকতার সাথে সত্যের পক্ষ নেওয়ার মানুষ যে এখনো আছে সমাজে, এই চিত্রটা দেখতে পেলাম গল্পটিতে। ধন্যবাদ লেখককে।
আখতারুজ্জামান সোহাগ সৎ, প্রতিবাদী মানুষকে এ রকম অনেক সময় কারাবরণ করতে হয়। গল্পে বাস্তবতা উঠে এসেছে। ছোট পরিসরের গল্প ভালো লেগেছে।
সাদিয়া সুলতানা মনে হচ্ছিল লেখকের জীবনের গল্প। সত্যিকারের অসহায়ত্ব তো এটাই।
শামীম খান সাবলীল কথকতা । সুন্দর হয়েছে । শুভ কামনা ।

১৫ জুন - ২০১৪ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "মা আমার মা”
কবিতার বিষয় "মা আমার মা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল,২০২১