লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ আগস্ট ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৪৯

বিচারক স্কোরঃ ২.০৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঅসহায়ত্ব (আগস্ট ২০১৪)

অসহায় আমি,আমরা অথবা সেই কুকুরটি
অসহায়ত্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ১৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৪৯

আফরান মোল্লা

comment ২১  favorite ০  import_contacts ১,০৬৬
অন্ধকার তিমিরে সেদিন
দূর থেকে ভেসে আসছিল
এশার আজান,
ঘামে ভেজা আমি
শুয়ে ছিলাম ঘরে
ইলেক্ট্রিসিটি ছিলনা তখন।

মিত্র আমার তিনজন ছিল
বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে
আফরান,আফরান ডেকে বলে ওরে
চল আসি একটু হাঁটিয়ে।

আমরা চারজন হাঁটতে বেরোলাম সাথে আমাদের কালো কুকুর
আমি বলি,ওরে বড়দের সাথে কিরে?
ভাগ নাহয় মারব মুগুর।

কুকুর সে তো প্রভু বিশ্বস্ত
মুগুরের কিসের ডর,
বিশ্বাস তার ছিল যে আমি
মারব না 'মুগর'।

চার বন্ধু,আর কুকুর মিলে
চলিলাম ব্রিজের দিকে
কুকুর সে তো চলে আগে আগে গন্ধ
শুঁকে ঝুকে ঝুকে।
চমকিত হয়ে সামনে সে চায়
যেন সামনে ঘোর বিপদ
ঘেউ ঘেউ করে তাড়িয়ে দেয় সে
সকল 'ভরা আপদ'।
বিজ্ঞের মত চলছে যে সে
আমরা বলি হেসে হেসে,
কিরে হয়েছিস বড় লাট?
হলি কি মোদের বডিগার্ড?

ব্রিজের ওপর ওকে নিয়ে ভয়
কখন না পড়ে চাপা
বলেও তারে বুঝাতে পারিনা
শেষে পড়বি মারা।
যেই না বলা অমনি একটা প্রাইভেট কার এসে
সামনের দুটো পা যে তাহার দিল যে মাড়িয়ে।
কু-কু করে সে যে দিল কি চিত্কার!
অসহায় মোদের মনে ব্যাথা লাগলো বিষমভার।
ফুটপাতে এসে শুয়ে গেল সে
ঝরছে রক্ত অনেক
আমরা হতবাক দৃশ্য দেখে
কেটে পড়তে চাইলো জন-এক।

কি আর করা?-
কুকুর সে তো!
না হলে কোলে করে
নিয়ে যাওয়া যেতো।
কুকুরই তো আর কিছু না
দিলাম মনকে বুঝিয়ে
হাটা ধরলাম বাড়ির পথে
ব্যাথায় ব্যাকুল হয়ে।
সেতো বারে বারে
চাইছে মোদের পানে
শুধিলাম ওরে, আছিস নাকি ঠিক?
ফিরবি মোদের সনে?
চোখে তার বিষম ব্যথা
ব্যথা মনে মোদেরও
অসহায় ছিলাম মোরা
আর অসহায় ছিল সেও!

ফেলে রেখে ওকে ঘরে এসে পরে
শান্তি লাগেনা হৃদয়ে
শুয়ে পড়ি বিছানায় যদি
শান্তি হয় ঘুমিয়ে।
ঘুম সে কী এত সহজে হয়
এত বড় দৃশ্য দেখে?
ছটফট করতে করতে ঘুমালাম শেষে
সূর্য আভা দেখে।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখলাম
হায় হায় একি দেখি!
মোদের মুখতো কুকুরের মতো!
কুকুর সেতো মানুষ!একি!
কুকুর রুপী মানুষ বলে
ছিলাম বড় বিশ্বাসী
খাবার না দিলেও যেতাম না ছেড়ে
মুখেও ছিল হাসি।
কি আর হতো
যদি নিয়ে যেতে
পশু চিকিত্সালয়?
তাহলে কি কমে যেত দাম?
জলাতঙ্কের ভয়?
জয়!মনুষ্যত্বের জয়!
বলতে গিয়ে সরি!
দেখি কথা ফুটেনা কারও
মুখ খুললেই বেড়িয়ে আসে
শুধুই ঘেউ ঘেউ!

ঘুম থেকে ওঠে আমি
দিলাম এক দউর,
যতই যাচ্ছি রাস্তা কমছেনা!
বরং হচ্ছে বড়!
ব্রিজের ওপর সেথা আর
পেলাম নাকো তারে
অসহায় অসহায় চিত্কার করে
চেঁচাই বারে বারে।
বলতে আসিনি,সরি আমি
বলতে আসিনি,মাফ চাই!
বলতে এসেছি,বড়ই ভালবাসিতাম
তবুও ছিলাম অসহায়!

তোকে বলা হলোনা হায়!
আমি,আমরা কিংবা
তুইও ছিলিস অসহায়!


[বি:দ্র:কবিতাটির মূল আমার জীবন
থেকে নেয়া।
ঘটনাটি সত্যিই
ঘটে আমার,আমার
বন্ধু
এবং কুকুরটির
সাথে।
তবে কুকুরটি আমাদের
ছিলনা।আমাদের
এলাকার একট ছোট
ভাইয়ের ছিল।
স্বপ্নের
ব্যাপারটা সম্পূর্ণ
কাল্পনিক।
তবে পরদিন
সত্যিই
গিয়েছিলাম
ব্রিজের উপর।
পাইনি কুকুরটিকে।
তবে ব্রিজের
ওইপাশ
থেকে আসা একজন
পথিকের
কাছে শুনেছিলাম
যে সে নাকি একটি ল্যাংড়া কুকুরকে দেখেছে ওইপাড়ে যেতে।]

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement