আমার “আমি”কে কখনো হাসতে দেখিনি
নতজানু হয়েছি, হয়ে থেকেছি শুধু হুকুমের দাস
জন্ম থেকেই কঠোর নিয়মের বেড়াজালে, শাসনে-অনুশাসনে
বাবা'র কঠিন চোখে রক্তনদী যেনো বারোমাস!
তাচ্ছিল্য- তিরস্কার আর বঞ্চনা
আপদ- জঞ্জাল- এসবের গঞ্জনা!

আমার “আমি”কে কখনো হাসতে দেখিনি
দেখেছি জন্মদাত্রী মা কিভাবে
চারদেয়ালের ভাঁজে ভাঁজে আমারে লুকায়!
চুপ! চুপ! চুপ! দুরন্ত কিশোরী তুমি একদম চুপ!
অবগুণ্ঠন খুলে দেখা হয়নি সবুজ
তবে দেখেছি তোমাদের পাশবিকতার রূপ!

আমার “আমি”কে কখনো হাসতে দেখিনি
নামটা জুড়ে গেছে পতিদেবতা'র সাথে
রোজ রোজ কি অবলীলায়
আমার সোনার পালক কেটে ফেলে সে!
ধ্রুপদী স্বপ্নেরা ডানা মেলতে পারেনি অসীমে
আচ্ছা, কতটুকু ঘাম ঝরালে ওবাড়িতে প্রিয় হওয়া যায়?

তোমারা কঠোর নিয়ম বানাও! আরো বানাও
যেদিন শূলে চড়িয়েছিলে আমাকে, আমি কিন্তু প্রাণভরে হেসেছি
যদিও জানি দায়টা আমকেই নিতে হবে!
তবুও তোমাদের সকল দীনতা- হিংস্রতা উপেক্ষা করে
পোষ্টমর্টেমের অপেক্ষায় জেগে আছি এখন লাশকাটা ঘরে!