তোমাকে নিয়ে লেখার কি সাধ্য আমার, মা!
পার্থিব সকল উপমার উর্ধ্বে থেকে
অনিঃশেষ তুমিই রচনা করে গেলে
পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটিতে কোমল
মমতা, ধূলিকণার পরতে পরতে।
লালন করেছ কতো-কিছু স্মৃতিকাতর অশ্রুতে!
শ্রান্তি সঁপে যাতাকলের চাপে নুয়ে
ঘরকন্নাকে নিসর্গ সাজিয়েছিলে,
কখনও তা অমসৃণ ছিলো হয়তো। দূষিত
ছিলো নানা হেঁয়ালি প্রহসনে। তুমি নিশ্চুপ
কোন অভিমানে!
বসন্ত কোকিলেরা হানা দিতো
বিনা আমন্ত্রণে, মাছ শিকারে মত্ত অবলীলায়।
ব্যতিব্যস্ত তুমি অগ্নিস্পর্শে; গৌর
থেকে অসিতবর্ণা হয়েছিলে ক্রমশঃ।

পড়ার মতো কঠিন বিষয়টা আয়ত্বে এসেছিল
ঊনোভাবে। কিন্তু বাবার আমুদে বন্ধুদের
আপ্যায়নে তোমার মধুমাখা হাসি আর
কলকাকলি ভরিয়ে দিতো আশপাশ।
গ্রীষ্মকালীন অশ্লীল দাবদাহে তালপাখার
মৃদু সঞ্চালনে, হিম শীতে-বন্যায়, দুর্যোগে
অহোরাত্র তুমি র্নিঘুম।
তুমি ছাড়া শঙ্কিত আমি, মা।

তোমার সারল্যের বলয় রেখার
উপরে রাহুর ছায়া দিঘল হয়েছিল।
মিহির তার তীব্রতা বাড়িয়েছিল
পৃথ্বীপৃষ্ঠে, নায়াগ্রাপ্রপাত সেদিন বিভৎস।
তুমি নিভৃতে আঁচল পেতে ছিলে
আগ্নেয়গিরির সমস্ত দহন আঁকড়ে ধরে
নিজ সত্তায়। স্মিতহাস্যে চলে গেলে
ত্রিদিব পানে-
অসীমের সীমা ছাড়িয়ে।
তোমার অযুত পান্ডুলিপি অপ্রকাশিত,
বিদীর্ণ পোকামাকড়ের খামচিতে।

তোমার হাসিমাখা অমলিন চাঁদমুখখানা
কতোদিন দেখি না মা!