আলো ঝলমল পৃথিবীর পরতে পরতে আঁধার আছে জানি, সুনীল আকাশে সাদা
মেঘের ভেলায় ভেসে আসে কবিতার ভাষা, বসন্তের বর্ণিল আবহে সাজে সবুজ
অরণ্য, মৃদুমন্দ মলয়ে জুড়ায় বিদগ্ধ প্রাণ, জেগে উঠে কবির অনুসন্ধানী অন্তর; আবার
কালো মেঘে ভর করে আসে ঝড়ের ভয়াল হুঙ্কার, লন্ড ভণ্ড হয় চাঁদ তারা খচিত
উদার আকাশ, বিধ্বস্ত হয় ফুলেল সবুজ অরণ্য, মৃত্যু হয় ভালবাসায় বোনা কবিতারা।
যে অগ্নি শিখার স্নিগ্ধ আভা পথ দেখায় অন্ধকারে, আলোকিত করে জীবনের নানা
অলিগলি, জাগিয়ে তোলে প্রাণ, রাঙ্গিয়ে তোলে স্বপ্নিল চোখ শত রঙ্গে, খোলে দেয়
চেতনার অসংখ্য দ্বার আর বিকশিত করে চিন্তার চরাচর। সেই কাঙ্ক্ষিত অগ্নির ভেতরে
সর্বগ্রাসী দহনের ভয়, নিষ্ঠুর লেলিহান শিখায় তার বিনাশী আগ্রাসন, দুর্বিনীত পদক্ষেপে
ধ্বংসের খেলা, বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তার নিষ্ঠুর উন্মত্ত অবাধ আস্ফালন।
যে জল-বায়ু জীবনের উৎস, সুখ স্পর্শে যার প্রকৃতি সাজে নানা রূপে নানা
রঙ্গে, প্রাণে প্রাণে বিকশিত হয় সৌন্দর্য আর ভালবাসার বিমল ধারা,ঝংকৃত হয়
স্বর্গীয় সুর,অনন্ত জীবনের স্বপ্ন দেখায় ছোট্ট জীবনের সীমানা ডিঙ্গিয়ে যেতে, সেই
জল-বায়ু হয় প্রাণঘাতী, স্বেচ্ছাচারী আপন খেয়ালে তছনছ করে অবাধে আক্রোশে;
শান্তির রূপান্তর হয় অশুভ শক্তির অশান্ত উন্মত্ততায় আর জীবন হয় ভয়ার্ত।
মানুষের জন্য মানুষের বড় ভালবাসা আবার মানুষের জন্য মানুষের বড় ঘৃণা, বড় ভয়।
প্রকৃতির সব সৌন্দর্য, কদর্য, হিংস্য, হীনতা, নিষ্ঠুরতা ভালবাসা, রূপ রস গন্ধ আর সৃষ্টি-
ধ্বসের মিশ্রণ এই মানুষ। বোধের বহুরূপে এক রূপে বহুরূপ, এক জাতে বহু জাত,একই
চোখে বিচিত্র রং তাইতো মানুষে মানুষে বিভেদের দেয়াল, মানুষই মানুষের জীবন, মানুষই
মানুষের মৃত্যু, বিপণœ হয় মানবতা, আতংকিত হয় শান্তিপ্রিয় স্বত্বা, সমাপ্ত হয় জীবনের সীমানা।