চারপাশে কতকি, আকাশে অগণন তারা, ঝলমলে
রুপালী চাঁদ, ঝির ঝির বাতাশে শিহরিত ফুলেল তরুলতা,
বিক্ষিপ্ত বাতির দায়বদ্ধ আলো আপন মনে জ্বলছে
নিরবে, আর নিথর অট্টালিকাগুলো জোছনার প্রশান্ত প্লাবনে
গা ভিজিয়ে চেয়ে আছে সুশোভিত আকাশে।

তবু যেন রিক্ত, বিবর্ণ, বিপণ্ন এ রাত নীল আঁধারে আজ
স্বপ্নের জোছনা যেন আগুন হয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে পুরু পৃথিবী;
যেন এখানে সেখানে রোদন করছে আহত স্বপ্নেরা, জানালার
পাশে আলুথালু হয়ে বিলাপ করছে বিরহী বাগান বিলাশ,
আর সব দিয়ে শূন্য যে অন্তর? বুকের বদ্ধ খাঁচায় নির্মম যন্ত্রণার
আঁধারে খুঁজছে নির্মোহ কষ্টহীন শান্তির পৃথিবী।

একদিন উদাসী আন্তরে সহসা গেয়ে উঠেছিল ভালোবাসা
নামের এক আচীন পাখি, যেন কার আহবানে অলখে, অজান্তে;
তার মোহিনী সুরের মূর্ছনা ঝরিয়ে, তার বর্ণময় রূপের আলোকে
বিমোহিত, উদ্ভাসিত করেছিল আমার ক্লান্ত ঘুমন্ত প্রাণ।

আমি বুঝতে পারিনি সে সুরের বিষাক্ত শিকড় কত গভীরতাকে
স্পর্শ ক রে, তার বহু রূপের দহন কত তীক্ষ্ণ কত জ্বালাময় ,
কত নির্মম আর বিপণ্ন সে ভালোবাসবাসার আর্তনাদ কত করুণ।
যার জন্য অন্তরের এত সব আয়োজন, চারপাশে এত সব রোদন
আজ তার সুখের আলোয় পূর্ণ রাত আর বিরহীর বিষণ্ণ রিক্ত রাত।