লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৭৫

বিচারক স্কোরঃ ৩.৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপ্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

মুক্তির গান
প্রত্যয়

সংখ্যা

মোট ভোট ১৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৭৫

জোহরা উম্মে হাসান

comment ২৩  favorite ১  import_contacts ১,৯৮১
এক
সেই জঘন্য মানুষটা কোন না কোন ছল-ছুতা ধরে যে কোন সময় আবার যে নতুন কোরে উৎপাত শুরু করবে তা যেন আগে ভাগেই জানতো সালেহা ! আজ সকাল বেলা থেকেই মনটা ক্যামন যেন কু গাইছিল ! ছেলে মেয়ে দুটোকে স্কুলে পাঠিয়ে সে সবে তাঁর সেলাই ঘরের কেনা কাটার হিসেব খুলে বসেছে । এরই মধ্যে বাহিরের টিনের গেটটাতে কড়া নাড়ার একটা অপরিচিত শব্দ । গেটটা সাধারণতঃ নামেমাত্র শেকলে ভেজানো থাকে । পরিচিতজনেরা জানে কিভাবে তা খুলতে হয় । আর অপরিচজনেরা না বুঝে কিছুক্ষণ ঠেলাঠেলি করে । আর একটা সময় সশব্দে তা ঠিক ঠিক খুলেও যায় ।
গেটটা পেরিয়ে ঘাসে ভরা চিলতে একটা উঠোন । উঠোনের গা ঘেঁষে টিন আর ইটের দেয়াল গাঁথা তিনটে ঘর । সামনে বেশ বড় একটা টানা বারান্দা । তকতকে নিপাট ! সারি সারি তিনটে ঘরের মধ্যে একটা ঘর বেশ বড় আর আলো বাতাস ভরা । এই ঘরটাকেই সালেহা তার ‘সেলাই ঘর’ হিসাবে বেছে নিয়েছে । সালেহার সেলাই ঘরে গড়ে বিশ পঁচিস জন মেয়ে প্রতিদিন কাজ করে । তাঁদের বেশীর ভাগই সালেহার মতই পোড় খাওয়া অভাবী সংসারের ! ইদানীং কাজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে টানা লম্বা বারান্দাটার এক পাশটাকেও সেলাই ঘর হিসেবে ব্যবহার করছে সালেহা !
কিন্তু কে আবার এল এতো সাত সকালে ! সালেহা চোখ কান সজাগ রাখে । এত সকালে সাধারণত কোন অর্ডারি কাস্টমার আসেনা । তাদের বেশীরভাগই আসে বেলা দশটার পরে । তবে সালেহার সেলাই ঘরের অধিকাংশ কাস্টমারই এ গাঁয়ের মেয়ে বউ ঝি । ইদানীং অবশ্য দূর গাঁ থেকেও অর্ডার আসতে শুরু কোরছে । নানান ধরণের অর্ডার মাফিক সালোয়ার , কামিজ , ব্লাউজ , পেটিকোট এসব তৈরী হয় সেলাই ঘর থেকে । কোন কোন সময় বিয়ে শাদী হলুদে বড় বড় অর্ডার আসে । সেলাই ঘরের মেয়েরা নিখুঁত হাতে সাইজ মাফিক সে সব অর্ডারি জিনিস কাটে , সেলাই করে । আর সালেহা এসবের সবটাই তাঁর জহুরী চোখ দিয়ে দেখাশুনা করে । পরামর্শ দেয় ! যাতে করে সেলাই আর ডিজাইনগুলো নিখুঁত হয় আর তা সময়মত কাস্টমার এর হাতে পৌঁছে দেয়া যায় !
খুলে যাওয়া গেটটাকে সশব্দে দূরে ঠেলে ফেলে দিয়ে এক্ষণে যে মানুষটা তরতর কোরে তাঁর দিকে এগিয়ে আসছে - তাঁকে এখানে দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না সালেহা । আলমগীর ! আলমগীর নামের এই লোকটার সাথে অনেককাল আগে তার বিয়ে হয়েছিল বটে ! দু দুটো ছেলেমেয়েও হয়েছিল ! কিন্ত সে বিয়ে আর টেকেনি !
লোকটা বারান্দায় উঠে আসার আগেই লুটিয়ে পড়া সবুজ শাড়ীর আঁচলটা সারা শরীরে নিবিড়ভাবে পেঁচিয়ে নেয় সে । আঁচলের একটা অংশ মাথার উপরেও টেনে নেয় ! যদিও আইনত ঐ লোকটা এখন পর্যন্ত তাঁর স্বামী , কিন্ত সালেহার কাছে সে আজ নেহাতেই একজন পরপুরুষ বইত আর কিছু নয়! কিন্তু এতকালবাদে লোকটা কি চায় ? সে কি আবার নতুন কোরে কোন দুরভিসন্ধি আঁটছে ? এসব ভাবতে গিয়ে সালেহার বুকটা ধক ধক কোরে কেঁপে উঠে ।
আলমগীর দূর থেকে সালেহাকে দেখতে পেয়ে অতি পরিচিতের ভঙ্গীতে একটা মেছো হাসি হাসে । রাগে ঘৃণায় সারা শরীরটা জ্বলে যায় সালেহার ! সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হয় যেন একটা হিংস্র বাঘ খাদ্যের লোভে তাঁর দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। তবে এই পাঁচ বছরে লোকটা বেশ একটু নেতিয়েই গ্যাছে বলে মনে হোচ্ছে । টেরি কাট ঘাড় অবধি বড় বড় চুল আর চিপের ভিলেন ভিলেন বিশ্রী ভাবটা সামান্য হলেও কিছুটা গত হোয়েছে তাঁর মজবুত শরীর থেকে ।
-ক্যামন আছো বিবিজান , বলতে বলতে নিলজ্জের মতো হাসতে হাসতে আলমগীর বারান্দাটায় উঠে এসে একেবারে সালেহার গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। তারপর সোহাগ কেটে বলে - বসতে বলবানা , এতদিন বাদে আসলাম !
সালেহা কিছু বলে না । লোকটার ছোঁয়াচ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে যতটা সম্ভব দূরে গিয়ে দাঁড়ায়।
আলমগীর এসব গাঁয়ে মাখে না । একটা বিশ্রী হাসি দিয়ে বলে -আচ্ছা, কথা না কও বিবিজান । কিন্তু আমারে ত তুমি ভালো কইরাই জানো । অত সওয়াল জবাবের ধার ধারিনা আমি । হউক তুমার বাড়ী । কিন্তু এই দ্যাখো আমি কিন্তু ঠিক ঠিকই বইসা পড়লাম । বলতে বলতেই দূরে পেতে রাখা বেতের মোড়াটা একটু সরিয়ে নিয়ে তার উপর ধপ কোরে বসে পড়ে সে !
সালেহা বিমূঢ় ! বোবা ! একটা তাজা গাছকে আচমকা কোন কাঠুরে কুড়াল দিয়ে কাটতে আসছে দেখলে সেই গাছের যেমন অবস্থা হয় , তাঁর অবস্থাও যেন ঠিক তেমনি । কিছুই যেন বলার নাই , কওয়ার নাই তাঁর !
-কিন্তু না , এমুন কোরে বোবা হয়ে থাকলে সালেহা তোর চলবে না । কে যেন অন্তর থেকে বারে বারে ডেকে বলে তাঁকে! এবারে মাথায় তুলে দেয়া শাড়ীর আঁচলটাকে ফেলে দিয়ে রুঢ় কণ্ঠে সে লোকটাকে উদ্দেশ্য কোরে বলতে থাকে - ত কুন দরকারে এদ্দিন বাদে আমারে নতুন কইরা জ্বালাতন করতে আইলেন আপনি ? লজ্জা করল না আপনার এখানে আসতে ?
-হয় , ভালো কথা কইছো বিবিজান ! লজ্জা ! নিজের বউয়ের কাছে আইসতে আবার পুরুষ মানুষের লজ্জা ! জানই ত , তুমি এহনও আমার বিয়া করা বিবি । তালাক হইছে ? না , হয় নাই । আমি ত এহুনও আমার বিয়া করা বিবির উপর ভালবাসার জোর খাটাইবার পারি । পারি না ? কি কও বিবিজান , পারি না ? এতসব কথা বলতে বলতে বত্রিশ দাঁতের ফেকো হাসি হাসতে থাকে লোকটা । মনে মনে একটা আত্নতৃপ্তিও খোঁজে । যেন বড় একটা যুতসই কথায় সে ঘায়েল করতে পেরেছে সামনে বসা ঐ দেমাগি মেয়েমানুষটাকে ।
সালেহা্ এসব কথার কোন জবাব দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না । সে কেবলই চরম ঘৃণাভরে লোকটার দিকে বড় বড় চোখ কোরে তাকায় ! কিন্তু লাজলজ্জাহীন এই মানুষটার এতসব মিছে কথার হাত থেকে কি করে বাঁচা যায় ? কথা তো নয় , মনে হোচ্ছে কে যেন তার কানে গরম সীসা ঢেলে দিচ্ছে ।
সালেহাকে নিশ্চুপ হোয়ে বসে থাকতে দেখে মনে মনে বেশ একটু আশার আলো যেন দেখতে পায় আলমগীর । ভাবে , কথার জ্বালে একটু নরম করা গ্যাছে বটে বদরাগী মেয়েমানুষটাকে । তবে সাতগাঁ খুঁজে খুঁজে এই মেয়েমানুষটার কাছে সে ভালবাসার ফেরী কোরতে আসে নাই । কিন্তু এখন তো তাঁকে সেসব বুঝতে দেয়া যাবে না । সে মনে মনে নতুন ফন্দি আঁটে । ভয়ডরহীন মেয়েমানুষটা আগেভাগে যাতে কিছুতেই টের না পায় তার এখানে আসার আসল কারণ । আর সেই জন্য সে একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করে।
গলায় মেকী একটা দরদী দরদী ভাব এনে সালেহাকে আর একটু নরম করার জন্য সে ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে থাকে – বিবিজান তুমার সরিলের এ কি হাল । ভালা কইরা খাও না , ঘুমাও না বুঝি !
সালেহা কিছু বলে না । হাঁটুর সামনে মেলে ধরা হিসাবের খাতাটায় মনহীন মনটাকে দেয়ার বৃথা চেষ্টা করে ।
তবে আলমগীর এসবে দমে যাবার পাত্র নয় । একটু একটু কোরে কথার ফাঁদে এগিয়ে এবার সে আসল কথাটাই সালেহাকে বলে ফেলা শ্রেয় বলে মনে করে । সালেহার দিকে তাকিয়ে সে জোর গলায় বলে উঠে -তয় আমার আশা , সাগরকে ত দেখতেছিনা বিবিজান ? হেরা কই ? তাগরে দেখার জন্য তো মা রাতদিন ঘর বাইর করছে । হাহুতাস করে ঘর বাড়ী মাথায় কইরা কেবলি বলছে -হেরা আমার বংশের বাতি । তাগর মুখ না দেখবার পারলে আমার মইর্যাাও শান্তি নাইরে বাপ । তুই হেগরে নিয়ে চটজলদি নিয়া আয় বাপধন । তাই ত তমারে বিরক্ত করতে আসা এদ্দিন বাদে বিবিজান !
সালেহা মনে মনে যে ভয়টা পাচ্ছিল এতদিন ধরে , তাই আজ যেন তা ফলতে শুরু কোরছে ! তাকে বিবিজান বিবিজান কোরে ভালবাসার কথার ফাঁদে ফেলে- এদ্দিন বাদে লোকডা তাহইলে সন্তানদের উপর বাপের অধিকার ফলাইতে আসছে । আহা , কি বাপের নমুনা ?
নাহ , আর বাড়তে দেয়া ঠিক না । এবার কথার ধারে গলা কাটতে হবে দূরে বসা ঐ ধূর্ত মানুষটার । রাগে ক্রোধে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে সালেহা । চারদিক মাতিয়ে জোর গলায় বলে -হেরা ত তমাগর কেউ না । এক কাপড়ে নাবালগ পুলা আর মাইয়ারে নিয়া তু্মি আর তুমার মায়ের অত্যাচারে ঘর ছাড়ছি । এখুন কও , তাগর না দেখলে নিদ আসে না । শান্তি পায় না তুমার মা ! মিছা কথা কইতে লজ্জা আসে না?
সালেহার কথা দশ দিক ছড়িয়ে সেলাই ঘরে মাথা উঁচিয়ে কাজ করা মেয়েগুলোকে স্পর্শ কোরে । ওরা এ ওর মুখের দিকে চায় । চোখের ভাষা পড়ার চেষ্টা করে ! কালসাপ যেন ঢুকেছে তাঁদের ফুলের বাগানে । এই সাপটাকে শায়েস্তা না কোরতে পারলে সে একসময় গিলে ফেলবে তাদের সবাইকে !
সালেহা সেলাই ঘরের দেয়ালে টাঙ্গানো মাঝারি ঘড়িটার দিকে তাকায় । আশা আর সাগরের স্কুল থেকে ফেরার সময় এগিয়ে আসছে । এই মুহূর্তে ওরা যেন এই লোকটার সামনে এসে না দাঁড়াতে পারে তাঁকে সেই চেষ্টাই আগেভাগে করতে হবে । এর পরে কি হবে তা আল্লাই জানেন ।
মাষ্টার চাচা অনেকদিন আগেই সালেহাকে সাবধান করে দিয়েছিল । আইনের শেষ কাজটা ফেলে না রাখতে বারে বারে তাগাদাও দিয়েছিল । কিন্তু কি এক অজানা দুর্বলতায় সে সেই কাজটা করা থেকে বিরত থেকেছে । এক্ষণে যেন সে বুঝতে পারছে মাষ্টার চাচার কথাটা ফেলে দেয়া তাঁর একেবারেই ঠিক হয়নি ।
দুই
আগের সেই সব যন্ত্রণাভরা দিনগুলোর কথা কি ভুলে গেছে সালেহা ! যখন বউ আর সন্তানদের ঘরে ফেলে লম্পট আলমগীর রাত বিরেতে বাজারি মেয়েদের নিয়ে আনন্দ ফূর্তি করে বেড়াতো । জুয়া খেলে আর গাজা ভাং খেয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতো ! আর এসব ব্যাপারে ঘরের বউয়ের কাছে কোন কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত ছিল না সে ! তাঁর ভাবখানা এই যে - যা মন চায় তাই করে বেড়াবে সে । তাতে ঘরের বউয়ের কি । সে ঠিকঠাক মতো ভাত কাপড় পেলেই হোল ।
স্বামীর এতসব অনাচার দেখে শুনে প্রথম প্রথম লুকিয়ে লুকিয়ে কান্নাকাটি করতো সালেহা । নিজের লজ্জা আর যন্ত্রণার কথা কারো কাছে খুলে বলার ইচ্ছেও হোতনা তাঁর । আর কার কাছেই বা গিয়ে বলবে সে । এক ছিল নিজের বাপ মা । তারাই বা কি কোরতে পারতো । অভাবী ঘরের সুন্দরী মেয়েটাকে একটা অবস্থাপন্ন ঘরে বিয়ে দিয়েই বড় তৃপ্ত ছিল তারা !
তবে স্বামীর এইসব অনাচার দিনের পর দিন নীরবে মেনে নেয়ার মনোভাব পাল্টাতে বেশী দিন আর সময় নেয় নি সালেহা ! আগে আলমগীর বেশী বাড়াবাড়ি করলে , সে একরকম দুরু দুরু বুকেই তাঁর শ্বাশুড়ি করিমন বেওয়ার কাছে গিয়ে স্বামীর নামে নালিশ করতো । উত্তরে শ্বাশুড়ি কি বলে না বলে তাই ভেবে ভয়ে একরকম সেটিয়ে থাকতো । কিন্তু পরের দিকে তেজী শ্বাশুড়িকেও আর তেমন ভয় পেত না সালেহা।
যদিও শক্ত সামর্থ্য করিমন বেওয়ার সবসময় তাঁর একমাত্র ছেলে আলমগীরের সব অপরাধ ক্ষমা কোরে দেয়ার একটা অদ্ভুত প্রবণতা ছিল , কিন্তু মনে মনে সে তাঁর আচমকা তেজী হয়ে ওঠা ছেলে বউকে ঠিক ঠিকই ভয় পেতে শুরু করেছিল । ছেলের তাঁর অনেক দোষ । কিন্তু মা হোয়ে তো আর ছেলেকে ফেলে দেয়া যায় না । প্রাণপ্রিয় ছেলেকে ভালো করার জন্য দশ গাঁ খুঁজে খুঁজে সালেহার মতো সুন্দরী মেয়েকে ছেলের বউ কোরে এনেছিল সে। মনে বড় আশা ছিল , সুন্দরী বউ পেয়ে ছেলে তার বদ অভ্যাসগুলো ছাড়বে ! কিন্তু নাহ , তা আর হোল কই !
শেষের দিকে ছেলে বউয়ের রনরঙ্গিণী মূর্তি দেখে একেবারেই চুপসেই যেত করিমন বেওয়ার মতো কঠিন ধাঁচের মেয়ে মানুষটা । কোন কোন দিন বউয়ের আগুন লাল মুখ আর শরীরের নড়ন চড়ন দেখে সে ঠিকঠিকই বুঝতে পারতো এবারও ছেলে তাঁর বাজে পাল্লায় পড়েছে । কিন্তু এই পরের এই মেয়েটাকে তো সব বুঝতে দেয়া যাবে না। না হলে সে মাথায় চড়বে । তাই মনে কোরে চুপ থাকাটাকেই শ্রেয় বলে মনে হতো তাঁর!
মাঝে মধ্যেই নিজের মস্ত ঘরের আলিশান খাটটাতে বসে আয়েসী হাতে চিক্কন কোরে কাঁচা সুপারী কাটতে কাটতে করিমন বেওয়া ছেলে বউয়ের মন যোগাতে হাসি হাসি মুখে তাঁকে জিজ্ঞেস করতো- কি খবর গো বউ ? সব ভ্যালা তো ?
সালেহা ব্যঙ্গ কোরে বলতো – সত্য কোরে কনতো মা , আপনার পোলার মতো শয়তান একটা মানুষের সাথে ঘর কইরা কি আর ভ্যালা থাকা যায় ?
করিমন বেওয়াকে সেসময় বড়ই কাহিল দেখাত । বড়ই উদাস । তারপরও নিজের ছেলের মান বাঁচাতে ফিস ফিস কোরে বউকে শুনিয়ে শুনিয়ে সে বলতো – শোন গো বউ , পুরুষ মানুষ যুবুক কালে এমুন এক্তু ফুরতি ফারতা কইরাই থাকে । এতসব কি ধরবার আছে ? আর একডু ধৈইরজ ধর গো মা , বয়স বাড়লে সব ঠিক ঠাক হয়া জাব । আর তুমি হইছ পুলাপানের মা । তাগরে কথা ভাইবাও তুমার মাথা ঠিক রাখন লাগব ! স্বামীর কথা কুম ভাইব্যা আমার নাতি নাতনীদের সুখের কথা ভাবো গো মা , তাহইলেই শান্তি পাবা !

শ্বাশুড়ির এইসব শান্তনা বাক্য শুনতে একদমই ইচ্ছা হোত না সালেহার । সে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে উঠতো– বুকে হাত রাইখা কনত মা , স্বামী ভালা না হইলে মেয়ে মানুষের কি ক্যাবল সন্তানেই সুখ ! আর ধরেন , কয়বছর পর যখন পোলা মাইয়ারা বড় হইয়া বাপের কুকীর্তির কথা নিজ কানে শুনব তখন কি হবো !
তবে সালেহার শেষ কাইজাটা বেঁধেছিল শ্বাশুরি আর তাঁর ছেলে দুজনের সাথেই । অনেক কয়টা দিন এখানে ওখানে পড়ে থাকার পর আলমগীর যখন একদিন রাতের বেলায় বউয়ের মন গলাবার জন্য মিথ্যে আদর সোহাগ শুরু করলো , তখনই সালেহার অনেকদিনের বিদ্রোহী মনটা জোরেশোরে প্রতিবাদ করে উঠেছিল !
উচ্চ স্বরে কান্নাকাটি আর মারামারির শব্দ শুনে গভীর রাতেই খাঁ বাড়ীর উঠানে জড়ো হয়েছিল অনেকগুলো মানুষ । তখন মস্ত পাকা ঘরের ভিতর থেকে কেবলই ভেসে আসছিল একটা হিংস্র ক্রুদ্ধ পুরুষ কণ্ঠের অশাব্র গালাগালি আর মারপিটের আওয়াজ । আর সেই সাথে নারী কণ্ঠের করুণ আর্তনাদ !
করিমন বেওয়া গাঁয়ের আর দশ জন মানুষের সাথে ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই নিদারুন ঘটনার কেবল একজন নির্বাক দর্শক হয়ে পড়ে রইল । ছেলের বিরদ্ধে আগেও যেমন সে মুখ ফুটে কিছু বলেনি , আজও তেমনি কিছুই বললো না । এমনকি আলমগীর যখন চুল ধরে ক্রন্দনরত সালেহা আর তাঁর দুই সন্তানকে বাড়ীর চৌহদ্দি থেকে এক কাপড়ে বের কোরে দিল তখনও করিমন বেওয়া চুপ করে থাকাটাকেই শ্রেয় বলে মনে করলো আর মনে মনে ছেলের বউকেই দোষারোপ কোরে বোলতে থাকলো – মাইয়া মানুষের বেশী তেইজ থাকা ভালা না ! তেইজ থাকলে তার ফল হাতে হাতে ভোগ কইরতে হয় !

তিন
অতীতের এসব তিক্ত কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল সালেহা । বড় আনন্দে আর সুখেই ছিল সে তার সেলাই ঘর আর এখানকার মেয়েদের নিয়ে ! কারো অত্যাচার নাই । কারো দয়ার উপর নির্ভর কোরে চলার প্রয়োজন নাই ! স্বাধীন বড় স্বাধীন ছিল সে তার ছেলে মেয়ে দুটোকে নিয়ে । তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এর স্বপ্ন দেখে দেখে ।
কিন্তু আজ এই লোকটা এসে আবার যেন নতুন কোরে তাঁর অতীতের সেই সব গ্লানিকর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে অন্তরের জ্বালা আরও বাড়িয়ে দিল । লোকটা যে তাঁর নয়নের মনি আশা আর সাগরকে ছিনিয়ে নিতে এসেছে তা এক্ষণে বুঝতে এতটুকুও আর বাকি রইলো না তার !
ছেলে মেয়ে দুটো যাতে বেলাবেলি স্কুল থেকে ঘরে ফিরে না আসে- তাঁদেরকে যেন এই বদমাইশ লোকটা আর হাতের নাগালে না পায় , তার জন্য একটু আগে সেলাই ঘরের সাথীকে চুপিসারে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়েছে সালেহা । সাথী খুব বুদ্ধিমতী আর সংবেদনশীল মেয়ে । সে হাভেভাবেই বুঝে গেছে ঐ বারান্দায় বসে থাকা বিশ্রী মানুষটার মতলব । সালেহার কথা মতো সে আশা আর সাগরকে ওদের কোন বন্ধুর বাড়ীতে স্কুল ছুটির পর আপাততঃ রেখে আসবে ।
সেলাই কলের সব মেয়েরা যেন এক্ষণে জেনে গেছে সালেহার আসন্ন বিপদের কথা ! আসলে সেলাই ঘরের মেয়েগুলো বড় দুখী । সালেহার মতই দুঃখী ওরা । কারো ছেলে সন্তান না হওয়ার কারণে স্বামী তাঁকে চিরজন্মের জন্য পরিত্যাগ কোরেছে ! কারো বা বিয়ে হয় নাই যৌতুকের অভাবে । কেউ কেউ সংসারের সীমাহীন অভাব থেকে মুক্তি পেতে সেলাই এর কাজ করছে ! এ গাঁয়ে তাদের একমাত্র পরিচয় হোল সেলাই মাইয়া ! ওদের আসল নাম প্রায় ভুলে গেছে সবাই । ভুলুক । কিন্তু মাস্টার চাচার মতো দরদী কিছু মানুষ আছে বলেই সেলাই ঘরের মেয়েরা আজও মাথা তুলে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখছে !
মেয়েরা দূর থেকে আলমগীরকে বারে বারে দ্যাখে আর নিজেদের মধ্যে কি যেন বলাবলি করে । প্রতিদিনের মতো আজ আর কাজে তেমন কোরে মন বসাতে পারছে না তারা । সালেহার বিপদ মানে তাদেরও বিপদ এটা বেশ ভালভাবেই বুঝে গেছে মেয়েগুলো !
চার
সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর হতে চলল । সেলাই ঘরের টানা বারান্দাটায় একভাবে বসে থাকতে থাকতে আলমগীর প্রায় ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে । সালেহা নামের এই মেয়েমানুষটাকে যে সহজেই বশ মানানো যাবে না তা সে আগে ভাগেই জানতো । যদিও এখন তাঁর জীবনে সালেহার তেমন গুরুত্ব নাই কিন্তু ঐ মেয়ে মানুষটার পেটে জন্ম নেয়া ছেলে মেয়ে দুটির এখন ম্যালা দাম তাঁর কাছে , তাঁর মায়ের কাছে ! মোমেনা নামের বোকার হরদ মেয়েমানুষটাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর আলমগীর একরকম মহা শান্তিতেই আছে । সালেহার মতো স্বামীর কাম অকাম নিয়ে অযথা মাথা ঘামায় না সে !
এতদিন সব ভালয় ভালয়ই চলছিল । ছেলে আর ছেলে বউকে নিয়ে মায়ের মাথাও বেশ ঠাণ্ডাই ছিল । তেমন কোন বড়সড় রাগারাগি , ঝগড়াঝাটি নাই । কিন্তু গোল বাঁধালো যেন দ্বিতীয় বউ মোমেনা নিজেই । মোমেনার গর্ভে ছেলের সন্তান দেখার জন্য তাঁতিয়ে উঠেছিল করিমন বেওয়া । তাহলেই সালেহা নামের ঐ দেমাগী মেয়েমানুষটার কাছে তাঁর জয় । কিন্তু হাজারো বৈদ্য-কবিরাজ কোরে কোরেও যখন মোমেনার পেটে কোন সন্তান এল না , তখন প্রথমেই করিমন বেওয়ার সব রাগ গিয়ে পড়লো মোমেনার ঘাড়ে । সে গলার স্বর সপ্তমে চড়িয়ে গাঁ মাথায় কোরে সদাই বোলতে থাকলো -এই বাজা মাইয়া লোক দিয়া আমাগো আর চইলবো না ।
-তাহলে কি করণ লাগব ? আলমগীর মাকে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে !
- এখুনো জানিস না , কি করন লাগবো ? শোন আমি যা কই তা অহনি কর । ঘরে ফিরায় আন আমার নাতি নাতনী দুইডারে । তা হইলেই আমার খালি ঘর পুরা হইল !
- কিন্তু হেই বদরাগী মেয়েমানুষটা যদি ত্যাগরে না ছাড়ে ?
- ছাড়বো । সেই গায়ের দুই চার জন বদ মানুষের লগে বুদ্ধি পরামস কর । পয়সা ছিটা ! হের পর চিলের নাকাল ছোঁ দিয়া নিয়া আয় ত্যাগরে ।হে একা মেয়েমানুষ হয়া তর লগে পারবো ?
পাঁচ
বেলা গড়িয়ে যায় । বেড়ার গায়ে চালতে গাছের ছায়াটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় । গাছের মাথায় বসা দাঁড় কাকগুলো ভুড়ীভোজ শেষে পাতার গায়ে গায়ে পড়ে পড়ে ঝিমোয় । আলমগীরের আর প্রতীক্ষা যেন সহ্য হয় না । এক্ষণে কেন জানি তাঁর মনে হয় , যে আশাতে সে এখানে এসেছিল তাতে একটু একটু কোরে ঘুন পোকা ধরতে শুরু করেছে ।মনে মনে বেশ একটু শঙ্কিতই হয় সে । কিন্তু না, কিছুতেই পোলা মাইয়া দুইডারে এহান থিক্যা না নিয়া যাওন যাইবনা ! না হলে মায়ের হাসি মুখ আন্ধার হইয়া জাইব ।
সালেহাকে খুশী করার জন্য আলমগীর একগাদা উপঢৌকন নিয়ে এসেছে । সামনে পড়ে থাকা কালো মাঝারী রঙের সুটকেসটা নানা রকমের শাড়ী , জামাকাপড় আর টুকটাক গয়না গাটিতে ভরা ! এসব পেয়ে যদি সালেহার মন একটু গলে যায়- এই আশা । কিন্তু বজ্জাত মেয়েমানুষটা এ পর্যন্ত সুটকেসটা ছুঁয়েও দেখে নি ! আর দেখবে বলেও তো মনে হোচ্ছে না ! তবুও হাল ছাড়ে না আলমগীর ! মিনমিনে গলায় বলে- বউ একডু ত খুইলা দেখবার পারতা সুটকেসের জিনিস পত্রগুলা । বড় শখ কইরা তমার লগে এডা অডা খরিদ করলাম ! তারপর এসব বাদছাদ দিয়ে বড় পেরেশানীর ভঙ্গিতে সালেহার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আসল কথাটাই বলে উঠে সে – বিবিজান , পোলা মাইয়া দুইডার কি অহনও ছুডী হয় না । শুনছি তো হেগরে স্কুল ছুডি হয় বেলা একটায় ।
-তার মানে এই লোকডা আইজ সব শুনে বুইঝাই তাঁর কাছে এসেছে ! না হলে পোলা মাইয়া দুইডার স্কুল ছুটির টাইম সে জানলো কি করে ? সালেহা মুখ ফুটে কোন উত্তর দেয় না বটে । কেবলি পাথরের মত শক্ত মুখ করে আলমগীরের দিকে তাকায় ।
আলমগীর তা পরোয়া করে না । ঐ পাথুরে মুখ হাতুড়ি শাবল দিয়ে ভাঙ্গার ক্ষমতা তার আছে । ভালোয় ভালোয় সন্তানদের তাঁর হাতে হাসি মুখে তুলে না দিলে সালেহাকে শায়েস্তা করার ক্ষমতা সে রাখে । হোক না ভীন গাঁ । এখানে আসার আগে গাঁয়ের কয়েকজন মাস্তান ছোকরার সাথে সে দফায় দফায় বৈঠক কোরেছে এ ব্যাপারে । তারা তাঁকে সাধ্যমত সাহায্য করার কথাও দিয়েছে । তবে এ সবের বিনিময়ে আলমগীরকে একটা মোটা অংকের টাকা খরচ কোরতে হয়েছে । হউক । টাকা পয়সার চিন্তা করে না সে । লাগলে আরও পয়সা ঢালবে সে তার সন্তানদের জন্য । ছেলেমেয়ে দুইটাকে এখান থেকে না দিয়ে কোনমতেই ফিরে যাবে না সে ।
তবে এখানে আসার আগে একটা সমস্যা ছিল বটে ! আর তা ছিল সালেহার সেই পীরিতের মাস্টার চাচাকে নিয়ে । লোকটা নাকি খুবই ভয়ংকর । অন্যায় দেখলে যে কারো উপর লাফিয়ে পড়তে তাঁর সময় লাগে না। এই মাস্টার চাচা স্কুলের কাজে ঢাকা শহরে গেলেই আলমগীরকে এখানে আসার সিগন্যাল দিয়েছে সেই মাস্তান ছ্যামড়াগুলো । কিন্তুক আর না । আর সময় দেওয়ার কুন মাইনে হয়না ।এবার খোঁজ পরে সেই সব হিংস শ্বাপদের , যারা আলমগীরকে মোটা অর্থের বিনিময়ে তাঁর ইচ্ছে পূরনের অঙ্গীকার কোরেছে । তবে এ্যাকশনে যাওয়ার আগে সালেহাকে শেষ বারের মতো বাজিয়ে দেখতে চায় যেন আলমগীর ! বলে -তাহলে এডাই কি তুমার শেষ কথা বিবিজান । পুলা মাইয়া দুইডারে আমার ছামনে আনবানা !
সালেহা উচ্চকন্ঠে চিৎকার কোরে বলে উঠে – না, না , না । আমার জবান থাকতে না । জান থাকতে না !
-তয় তুমার কথা ত সব মানা যাইব না আর । তাগরে নিয়া যাবই যাব বইলা মনস্থির করছি । আর দ্যাহ , এই গাঁয়ের সব মানুষই চায় পুলা মাইয়ারা অগরে বাপের সাথে জাউক ! বাপের পরিচয় এর চেয়ে আর কি বড় পরিচয় আছে এ দুনিয়ায় ?
টিনের দরজাটাতে প্রচণ্ড ঝাঁকি দেয়ার একটা শব্দ বাজে । ঝন । ঝন । ঝন । অনেকগুলো অসহিষ্ণু হাত পায়ের তাণ্ডব ! ওরা চারদিক গ্রাস করতে করতে চিলতে উঠানের গায়ে পা দেয় ! সবুজ কচি কচি ঘাসগুলো ওদের পায়ের আঘাতে ছিড়ে কুড়ে একশেষ হোয়ে যায় !
আলমগীর ধূর্ত শৃগালের মতো সজোরে কুটিল হাসি হাসে । আর সেই নির্মম হাসি টিনের চাল , বারান্দা , উঠোন সব সব ফুটো করে সেলাই কলের মেয়েদের বুকে যেয়ে প্রচণ্ড একটা বারি খায় ! কি , কি কোরতে চায় এখন এই শয়তানের দোসর মানুষটা । মেয়েগুলো কল ছেড়ে দ্রুত একত্রে জমা হয় !
এখন কি করবে সালেহা । তার হাত পা যেন অবশ হয়ে আসছে ! হু হু কোরে গাঙ্গের বাঁধ না মানা জল যেমন বাধাহীন চিত্তে গ্রাস করতে থাকে দোকান পাট , দালান বাড়ি , জমি জমা মানুষ আর জনপদ – এও ঠিক তেমনি । অসহিষ্ণু হাতগুলো যেন ভেঙ্গে গুড়িয়ে শেষ কোরে দিতে চায় তাঁর এতদিনের সাজানো বাগান টাকে । চারিদিকে একটা নিগূঢ় , কালো অন্ধকারের যেন তলিয়ে যাচ্ছে , ডুবে যাচ্ছে সে ।
মার মার কাট কাট প্রচণ্ড একরাশ শব্দ । কিসের ? ওরা কারা ? সবার হাতে একটা কোরে শক্ত বাঁশের লাঠি । কারো হাতে দা কাঁচি কিনবা কুড়াল । সালেহার সেলাই ঘরের মেয়েরা সবাই দ্রুত এগিয়ে আসছে । আজ তাদের সবার বিপদ । সাথী নামের মেয়েটা এগিয়ে এসে সালেহার ডান হাতটায় গুঁজে দেয় একটা বিশাল রাম দা। ফিসফিসিয়ে বলে- ওই শকুনের থাবা থেইক্যা আমাগো বাঁচতে হোলে এমুন যুদ্ধ কইরাই বাঁচতে হবে গো বুজান ।
বিশ পঁচিশ জন্য নারী । একে একে ওরা হৈ হৈ রৈ রৈ করে এগিয়ে আসছে আলমগীরের দিকে ! যেন বাঁধ না মানা জোয়ারের পানি । নদীর দু পারে যুবতী বরষার ভাঙ্গন। সাগরের প্রবল ঢেউয়ের সীমাহীন গর্জন । নমরুদের হাত থেকে নবীকে বাঁচাতে খোদা যেমন লাখ লাখ আবাবিল পাখীকে পাথর ঠোঁটে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন , এও যেন ঠিক তেমনি । সবাই যার যার মতো ভয়ঙ্কররুপে সজ্জিত ।
সেলাই ঘরের নারীদের মিলিত হুঙ্কারে একসময় প্রাণভয়ে পলকা কাগজের টুকরার মতো বাতাসে মিলিয়ে যায় শয়তান আলমগীর আর তাঁর দলবল !
এবার সুগভীর প্রশান্তিতে উঠোনের সবুজ ঘাসের বুকে পা মেলে বসে প্রত্যয়ী মেয়ের দল । তাদের ঠিক মাঝখানটায় সালেহা । বুজান , এবার গলা মিলান –একডা মুক্তির গান গাই আমরা । বীথি সবার হয়ে খলখলিয়ে বলে উঠে !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement