রাত তখন আনুমানিক তিনটা। পন্ডিত মাহীকে বিষধর সাপ তাড়া করছে এরূপ লোপ হর্ষক স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে আচমকা লাফ দিয়ে উঠে মাথা নিচু করে বিছানায় বসে রইলাম। লা হাউলা ওয়ালা কু'উয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম পড়ে ভাবছিলাম আমি এ কি স্বপ্ন দেখলাম ? সাপ মাহীর পিছু নিচ্ছে কেন ? মাহীর কোন বিপদ হলোনাতো ? মাহীর মোবাইল নাম্বার আমার নিকট ছিলনা। ফোন করলাম রনীলের কাছে। রিংটোন সম্পূর্ণ বাজল, রিসিভ নেই। নিশ্চই ঘুমিয়ে আছে। নীরোকে ফোন করলাম তাও একই অবস্থা। নাহ, এত রাতে ফোন করে আর কাউকে বিরক্ত করা উচিৎ হবেনা। অবশ্য সূর্য ভাইকে ফোন করলে সে বিরক্তবোধ করবেনা। তাই শেষ চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম, মোবাইল বন্ধ। ইতোমধ্যে আমার ভয়ের রেশ কিছুটা কাটল। তারপরেও আমার মন মানছিলনা। স্বপ্নটা কারো সাথে শেযার না করে স্বস্তি পাচ্ছিলামনা। পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রীকে জাগিয়ে ঘটনা বলছিলাম। বলা শেষ হতে না হতেই বিরক্তভরা কন্ঠে সে জানালো তুমি বন্ধুমেলার বন্ধুদের নিয়ে বেশি ভাবতো তাই উদ্ভট কী দেখেছ ! গল্পকবিতা মাথা থেকে ঝেরে ঘুমানোর চেষ্টা করো ভাল ঘুম হবে। এই বলে কাঁথা মাথা পর্যন্ত টেনে ঘুমের ভান ধরল। আমিও বালিশে মাথা রাখলাম।

ঘুম কিছুতেই আসছিলনা। বরং স্ত্রীর কথায় ভাবনার মাত্রটা বৃদ্ধি পেল। বন্ধু মেলায় না গেলেকি ছোট গল্প লেখা শিখতে পারতাম ? যদিও গল্প শেখানো যায়না, তবে শেখা যায়। হঠাৎ শুরু হঠাৎ শেষ এবং শেষ হয়েও হবেনা শেষ, রয়ে যাবে কিছু রেশ। হতে পারে তা জীবন থেকে নেয়া নতুবা কল্পকাহিনী,ভূত-প্রেত, বা বিজ্ঞান ভিত্তিক। যাই হোক না কেন বর্ণনা এমন ভাবে হতে হবে যেন বর্ণনা নিয়ে পাঠকের মনে কোন সন্দেহের জন্ম না নেয় তথা বাস্তব আর সত্য মনে হয়। এছাড়া বর্ণনা হতে হবে সাবলীল ও সৃজনশীল। পশ্চিম আকাশের সূর্যের আলো পথিকের গায়ে পড়লে একটি ছায়া এসে পথে পড়ে। সেই পথ দিয়ে চালক গাড়ি চালানোর সময় ছায়া দেখতে পেলেও ছায়ার জন্য উঁচু নিচু বোধ করেনা বিধায় নির্বিগ্নে গাড়ি চালিয়ে যায়। ঠিক ছোট গল্পেও বর্ণনা তদ্রুপ হতে হবে। লিখতে যেয়ে অনেক সময় বিভিন্ন শাখা প্রশাখার জন্ম নেবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে এতে পাঠককে যেন হোচট খেতে না হয়। তাছাড়া দেখতেও বেমানান। যেরূপ হাতের পাঁচ আংগুল উচু নিচু হলেও এদের মধ্যে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে। কিন্তু হাতের তালুতে আংগুল গজিয়ে উঠলে যেমন বিশ্রি দেখায়, ছোটগল্পের ক্ষেত্রের এরূপ অমসৃণ তথ্য দেয়া ঠিক হবে না। আর মনে রাখতে হবে গল্প অনেকেই লিখে কিন্তু সবার গল্প পাঠকের দৃষ্টি কাড়ে না। যেভাবে একটি গাছে দশটি গোলাপ ফুটে থাকে, আমরা সেখান থেকে দু’একটি যত্ন করে কেহ খোপায়, কেহ হাতে রাখি। বাকিগুলে অযত্নে অবহেলিত হয়ে গাছেই পড়ে থাকে। তেমনি গল্পের বেলায়ও তাই। সেজন্য লেখায় চমক থকতে হবে যেন তা পাঠকের মন অনায়াসে জয় করা যায়। আর একটি গল্প লেখার পূর্বে ন্যূনতম একশ গল্প পড়তে হবে। লেখক সেই হতে পারে যে ভাল পাঠক। এই কথাগুলোও শিখেছি বন্ধু মেলায়। সেই বন্ধু মেলাকে ভুলে থাকতে পারি ? ঘুম আর হলনা।

এসব ভাবতে ভাবতেই ফজরের আযান কানে আসল। ওঠে অযু করে নামাজ আদায় শেষে পাচারী করছিলাম। এরই মধ্যে অফিসের প্রধান গেটে রক্ষিত বাঁশি বেজে উঠল। প্রথম বাঁশি প্রস্তুত হবার, দ্বিতীয় বাঁশি অফিসে প্রবেশ করার, তৃতীয় বাঁশি সময় শেষ। সকাল সাতটায় শেষ বাঁশি বাজে। এই বাঁশির তালে তালে যথাসময়ে উপস্থিত হতে যেভাবে ভীত উদ্বিগ্ন হয়ে যথাসময়ে যথা নিয়মে অফিসের কাজকর্ম করি, তার শত ভাগের এক ভাগও যদি সৃষ্টিকর্তার হুকুম পালন করতাম তাহলে বোধ হয় জাহান্নাম নিয়ে দুশ্চিন্তা মাথায় আসতনা। যাই হোক প্রতিদিনের ন্যায় মোবাইল বাসায় রেখে অফিসে চলে গেলাম।

অফিস থেকে ফিরে দেখি মোবাইলে তিনজনের চল্লিশটি মিস কল। শামসুল আরেফিন, আহমাদ মুকুল ও খোরশেদ আলম কলগুলো করেছিল। গুরুত্ব বিবেচনা করে আহমাদ মুকুল ভাইকে কল বেক করি। ফোন রিসিভ করেই আমাকে ধমকের স্বরে বলেন, কোথায় থাক ? এতবার ফোন করলাম কোন রিসিভ নাই। আমরা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মামুর বাসায় আছি। তিনি আর নেই। মাহী তাকে খুন করে জেল হাজতে। আর আয়শাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খুনটা সম্ভবত ওরা দু’জনেই করেছে। এরূপ সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমি কি বলব বুঝে উঠার পূর্বেই মুকুল ভাই বলেন লাশ দাফন সম্পন্ন, শাওন ফোন করেছে এখন রাখি। তুমি চলে এসো। আমি নির্বাক স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। রাতের স্বপ্ন দিনের আলোর মত পরিষ্কার হলেও বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হচ্ছিল। মাহী আর আয়েশা দু’জন দু’জনকে ভালবাসে। মিজান মামুও তা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখতনা। বরং এগিয়ে যেতে উৎসাহই দিত। তাহলে তারা খুন করবে কেন? আর মাহী তো এরূপ ছেলে নয় যে খুন করতে পারে। নম্র ভদ্র শান্ত আর চাল চলনেও অমায়িক নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। সবচেয়ে বড় কথা সে একজন লেখক। আর লেখকরা কি মানুষ খুন করতে পারে ? না না, তা কিছুতেই হতে পারেনা। আর মিজান মামুওতো মাহীর চেয়ে বহুগুণে উন্নত চরিত্রের এবং তিনিও একজন লেখক। তারতো কোন শত্রু আছে বলে আমার মনে হয়না। তাহলে খুন করল কে ? ফোন করলাম সুমির কাছে। সুমি বলল ভাইয়া, মিজান মামু খুন হয়েছে, মাহী রক্তাক্ত জামাসহ গ্রেফতার। দু’টাই আমার কাছে বেদনাদায়ক। তবে মাহী এ’কাজটি করতে পারে আমার কেন যেন বিশ্বাস হচ্ছেনা।

সুমির কথা আমার সহমত হওয়ায় বিশ্বাসটা দৃঢ় হল, মাহী খুন করতে পারেনা। দাফন যেহেতু সম্পন্ন, সেখানে গিয়ে লাভ নেই। তাই ছুটে গেলাম জেল খানায়। আমার আগমনের সংবাদে মাহী অপেক্ষাগারে আসে। ওর মায়াবী চেহারা দেখে আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছিল। ও দরদভরা কন্ঠে জানালো, বিশ্বাস করেন ভাই আমি খুন করিনি। তাহলে খুন করল কে ? আমিতো শুনছি তোমার গায়ের জামা জুড়ে রক্ত ছিল এবং লাশের পাশ হতেই তোমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তুমি ছাড়াকি সেখানে আর কেহ ছিল ? মাহী বলল, না, তখন সে কক্ষে আমরা দু’জন ব্যতিত আর কেহ ছিলনা। তবে মামু বলেছিল বিষন্ন সুমন নাকি এসেছিল, আমি যাওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে চলে গেছে। বিষন্ন সুমনের আগমনের কারণ জানতে চাইলে মামু বলেন, তার নাকি আয়সাকে খুব ভাল লাগে। এই ভাল লাগা আমার অপছন্দের ছিল। শুনা মাত্রই আমি ক্ষিপ্ত হয়ে যাই। আর আমি ক্ষিপ্ত হলে উত্তেজনা বশত ক্ষাণিক সময়ের জন্য অন্য মনস্ক হয়ে পড়ি এবং ধ্যান ধারণা লোপ পায়। চেতন ফিরে আসলে দেখি মামু লাশ হয়ে পড়ে আছে। আমার সমস্ত গা রক্তে মাখা। তবে খুন আমি করিনি। আর আমার নিকট কোন অস্ত্র ছিলনা। এমনকি গ্রেফতারের সময়ও পুলিশ কোন অসত্র পায়নি।

জানতে চাইলাম, জ্ঞান ফেরার পর তোমার কি মনে হয়েছিল এখানে তৃতীয় কেহ এসেছিল ? মাহী তাৎক্ষণিক উত্তর দিল, হ্যা, এসেছিল। কে এসছিল তাকে চিনতে পারিনি, শুধু ছায়ার মত একজনকে বেরিয়ে যেতে দেখি। এতেও আমি ভীত হই এবং পূণরায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে আসলে নিজেকে পুলিশের গাড়িতে যাচ্ছি বলে মনে হয়। তারপর এখানে।

খুনের পর থেকে আয়সাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সে বিষয়ে তুমি কিছু জানো কি ? পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমি আর আয়সা ফোনে সিদ্ধাস্ত নিয়েছিলাম রাতে মামুর বাড়ি থাকব। আমি রওয়ানা দেই, আয়সাও ফোন করে জানিয়েছিল সে রওয়ানা দিয়েছে। আমি পৌঁছি । সে পৌঁছার পূর্বেই দূর্ঘটনা ঘটে। তার সাথে আমার দেখা হয়নি। আর এখন কোথায় আছে তাও জানিনা।

মাহীর কথার রেশ ধরে ভাবনায় এলো, আয়সা কি খুন করেছে..! না না, তা কিকরে সম্ভব ! সেতো মেয়ে মানুষ। তবে খুন যে-ই করুক আমি নিশ্চিত মাহী করেনি। স্বাক্ষাতের সময় অতিক্রম করায় চিন্তা করিওনা, আমি ব্যপারটি দেখছি, এই বলে মাহীকে বিদায় জানিয়ে চলে আসছিলাম। মাহী আবারো বিনীত স্বরে বলল, বিশ্বাস করেন ভাই আমি খুন করিনি। আমি সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, সে বিশ্বাস আমার আছে আর আদালতে ঠিক এভাবেই বলবে যেভাবে আমাকে বললে, আমি খুন করিনি।

ফেরার পথে গাড়িতে না চড়ে পায়ে হেটে রওয়ানা দিলাম। হাটছি আর ভাবছি। ধরে নিলাম পন্ডিত মাহী খুন করেনি। আমারও তাই বিশ্বাস। কিন্তু বিশ্বাসের নিভূ নিভূ প্রদীপ নিয়ে লড়াই করা মাহীকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। আর মাহীর অন্য মনস্ক হবার সত্যতাইবা অন্যদের নিকট কতটুকু গ্রহণযোগ্য ! এবিষয়ে কোন ডাক্তারের সাথে আলাপ করলে ভাল হয়। চলে গেলাম ডাক্তার সুরাইয়া হেলেন এর নিকট। তাকে ঘটনা হুবহু বর্ণনা করলাম। সে জানালো, এতে অবিশ্বাসের কিছু নেই। বেশি উত্তেজিত হলে, ভয়ে বা আতংকে এরূপ হতে পারে। তাকে অনুরোধ করে নিয়ে গেলাম মাহীর কাছে।

পর্যবেক্ষণ করে তিনি জানালেন মাহীর মস্তিস্ক প্রায়ই ঘোলাটে হয়। বিশেষ করে সে যখন কোন কারণ বশত উত্তেজিত হয় তখন চেতনা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমার সাথে আলাপ কালেও তেমনটি হয়েছে। জানতে চাইলাম কি রকম ? ডাঃ বললেন, আপনার কথার রেশ ধরে সত্যতা প্রমাণের জন্য আমি তাকে উত্তেজিত করতে বলি, আপনি আর আয়সা অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলেন। মিজান সাহেব তা দেখে ফেলায় আপনারা দু’জনেই তাকে খুন করেন। আয়সা ছুড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়, আপনি লাশ গুম করতে গিয়ে ধরা পড়েন। একথা শুনামাত্রই মাহী অন্য মনস্ক হয়ে অদ্ভুত ভিন্ন স্বরে বলতে থাকে, ওই ছেমড়ি, আমি খুন করেছি তাতে তোর বাপের কি ? তোর বাবারে খুন করেছি ? এই বলে আমার উপর আক্রমণ করার লক্ষ্যে ক্ষিপ্ত হতে যেয়েও তা না করে ধপাস করে বসে কিছুক্ষণ নীরব থাকে। এক সময় মাথা তুলে জানতে চায় আমি তাকে কি প্রশ্ন করেছিলাম ? অর্থাৎ সে কিছুক্ষণ আগে যে আচরণ দেখিয়েছিল তা তার স্বরণে নেই।

ডাঃ সুরাইয়ার বর্ণনা মোতাবেক আমার দ্যোতানার ভাব একেবারেই কেটে যায়। কথাগুলো আদালতে বিচারককে বুঝিয়ে বলার অনুরোধ করলে সে রাজি হয়। মাহীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য রওশন জাহানকে অনুরোধ করলে সেও রাজি হয়। তবে রওশন সংশয়ে ছিলেন জিততে পারবেন কিনা ! কেননা বাদী পক্ষের উকিল জিয়া (নীরব) ভাই আর তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছে মামুন ম আজিজ, ফাতেমা প্রমি ও ইফতেখার। তারপরেও সে লড়তে প্রস্তুত বলে আমাকে জানিয়ে দেয়।

আমার অগ্রগতির খবর বিষন্ন সুমন জানতে পেরে আমাকে ফোন করে মাহীর পক্ষে মামলায় লড়তে নিরুৎসাহিত করে। এতে খুনটি সে করেছে কিনা এমন একটি প্রশ্ন আমার মনে দোলা খেতে থাকে। আমি তাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে মামলায় লড়ে যাব এবং সফল হব বলে জানালে সে জানায় এতে আমার বিপদে পড়ার আশংকা আছে।

বিষন্ন সুমনের ধমকিতে আমি একটুও বিচলিত হইনি। তবে আমার পক্ষে জনমত বৃদ্ধির লক্ষ্যে, জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য মাহীর আত্মপক্ষ সমর্থনে মিডিয়াতে প্রচারের জন্য তির্থক আহসানকে মিনতি করলে সে তাই প্রচার করে। অপরদিকে কলকাতায় আমার এক লেখক বন্ধু আছে যার নাম ধীমান বসাক, সে একজন মানবাধিকার কর্মী তাকেও বিস্তারিত জানাই। সেও কলকাতা ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে মাহীর স্বপক্ষে বিবৃতি দিতে থাকে।

একটু সংকোচ বোধ করলেও বাদী পক্ষের উকিল জিয়া ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে তার সহনশীল দৃষ্টি কামনা করি। এত সে কোন পাত্তাই দেয়না। তবে এতটুকু আশ্বাস দেয় যে, সে চায় প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি হোক। কোন নিরপরাধের শাস্তি সেও কামনা করেনা। হোক সে বাদী পক্ষ বা আসামী পক্ষ। তার কথায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হলেও নিরাশ হলামনা। অন্ধকার রজনীতে এক পলক জোনাকির আলোর মত আশ্বাস।

মামলার তারিখ নির্ধারণ হলো। তারিখ মোতাবেক আদালতে সবাই হাজির। আমাদের আবেগী কথায় এই প্রমাণ করতে পারছিলামনা, মাহী নির্দোষ। ডাঃ সুরাইয়া স্বাক্ষ্য দেয় মাহী আধা পাগল। আর পাগলের কোন বিচার হতে পারেনা বরং তার সূচীকিৎসা করানো উচিৎ। জিয়া ভাই একথা কিছুতেই মানতে রাজি না। কারণ ডাক্তারের নিকট মাহী যে পাগল সে সংক্রান্ত কোন প্রমাণ নেই। সে মাহীকে জেরা করতে করতে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে জিয়া ভাই মাহীকে বললেন, মাহী আর আয়সার অনৈতিক মেলামেশা দেখে ফেলায় তারা মিজান মামুকে খুন করে। কথাগুলো মাহীর নিকট তিক্ত লাগছিল। সে সাপের ফানা তোলার মত ক্ষিপ্ত হতে থাকে। জিয়া ভাইয়ের কথার তিক্ততা যখন অতি মাত্রায় রূপ নেয়, মাহী উত্তেজিত হয়ে কাঠগড়া থেকে লাফিয়ে নেমে এসে জিয়া ভাইকে এলোপাতাড়ি ভাবে প্রহার করতে থাকে আর অদ্ভুত ভিন্ন স্বরে বলতে থাকে, হ্যা আমি খুন করেছি। তাতে তোর বাপের কি ?

জিয়া ভাইকে যেভাবে প্রহার করছিল আমার তাতে মায়া হয়। যদিও সে আমার ইচ্ছার বিপক্ষে তথাপিও আমি তাকে খুব ভালবাসি। তাই দ্রুত ছুটে যাই তাকে রক্ষা করতে। এতে কিছু উত্তম মাধ্যম আমার গায়েও লাগে। একপর্যায়ে মাহী ধপাস করে বসে পরে। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ। গোটা পরিবেশ নীরব। মাহীর তখন বোধশক্তি ছিলনা। অল্প কিছুক্ষণপর ধ্যান ফিরে আসলে সে জানতে চায়, আমি নিচে কেন ? আর আমাকে কি যেন বলছিলেন ?

মাহীর এমন আচরণে জিয়া ভাইয়ের বিশ্বান হয় সে সত্যিই পাগল। বিচারকও বুঝতে সক্ষম হয় মাহী মানষিক ভাবে সুস্থ নন। তার চিকিৎসা হওয়া জরুরি। তাই বিচারক মামলা থেকে মাহীকে অব্যাহতি প্রদান করে মানষিক হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

আমি এত স্বস্তি বোধ করি। বাঁধভাঙ্গা আনন্দ বইতে থাকে আমার অন্তরে।

হাসপাতালে নেয়ার পূর্বে শেষ বারের মত মাহীর সাথে একান্ত স্বাক্ষাতে যাই। মাহীকে জানাই তোমার ফাঁসি হবেনা, চিকিৎসা হবে। তারপর কৌতুহল বশত জানতে চাই, আচ্ছা মাহী আদালতে কি ঘটেছিল তোমার কি মনে আছে ? মাহী বলল, হ্যা, ডাঃ সুরাইয়া বলছিল আমি পাগল। আর কিছু মনে নেই ? না তো, আর কিছু হয়েছিল নাকি ? ও আমাকে ফিরতি প্রশ্ন করলে আমি না বোধক উত্তর দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে আসছিলাম। এমন সময় মাহী আবার জিজ্ঞাসা করল, বিন আরফান ভাই, জিয়া ভাইয়ের কি বেশ লেগেছে ? আপনিও হয়তো কিঞ্চিৎ ব্যথা পেয়েছেন, তাই না ? তার কথায় আমি ভীত ও অবাক হয়ে যাই। জানতে চাই তাহলে তুমি আর আয়সাই খুনটা করেছ ? মাহী উত্তরে বলে, আয়সা খুন করবে কিভাবে ? ঐ আপদকেইতো প্রথমে খেয়ে ম্যানহুলে ফেলে দেই।




বিঃদ্রঃ গল্পকবিতার বন্ধুদের আমার স্মৃতিতে অমর করে রাখার জন্য চরিত্র নির্বাচন করেছি । হাজী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ভাইয়ের দীর্ঘজীবন কামনা করছি । মাহী ও আয়্সার জীবন ফুলের মত সুন্দর হোক ।


বিজ্ঞপ্তিঃ এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।