বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৭

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

একটি অণুগল্পঃ হেরা গরম পানি দিয়া চছু করে!!

জালাল উদ্দিন মুহম্মদ

  • advertisement

    জরিনা কাম করে ঢাহার শহরে। ঈদের ছুটিতে সে গ্রামে এসেছে। এ কয়দিনে তার চেহারা মাশাল্লা অনেক সুন্দর হইছে। বাড়ির লোকজন তারে দেইখ্যা অনেক খুশীত হইছে। জরিনার চোখে-মুখেও খুশীর ঝিলিক। বাড়িতে পৌঁছেই সে এক চক্কর পাড়া ঘুরে এল।সবাই তাকে দেখে অবাক হয়ে বলছে, 'আরে তুইতো দেহি জরিনা সুন্দরী হইয়া গেছস!'

    জরিনা রাতে ছোট বোন মর্জিনার সাথে শুয়ে গল্প করছে। শীতের রাত । জড়াজড়ি করে শুয়ে আছে দু'বোন। মর্জিনার চোখে অনেক কৌতূহল, বুবু তুই ক্যামতে এমন সুন্দর হইলি?
    জরিনা খুশি খুশি গলায় বলল, তেল-পানি আর যত্নে থাকলে সুন্দর হউন যায়- বুঝলি?
    -তুমি ঢাকায় কি কর বুবু?
    জরিনা গদ গদ হয়ে বলল, কোন কাম-কাজ নাই।থালা-বাসন ধুই আর ঘর মুছি। বুঝলি? ইনাদের অনেক কাজের লোক। সারাদিন বাসায় থাকি। টিভি দেখি আর সাজুগুজু করি।
    মর্জিনার চোখে বিস্ময়, অরা বুঝি খুব বড়লোক, বুবু?
    -হ মর্জিনা, অ'রা হইলগা রাজা বাদশা।

    -খাওয়া-দাওয়া ক্যামন গো বু ? তুই যে এমন সুন্দর অইলি, অ'গো বাড়িতে তুই খাস কি? 
    -খাওয়া-দাওয়ার কোন শেষ নাই। অনেক খাবার! কত খাবি? প্রতিদিন গোস্ত, মাছ ফেরাই,চাইনিস, নুদস, আরও কত কি! আমি কি অত সবের নাম জানি?
    মর্জিনার জিবে জল এসে গেল। মনে মনে বলল, আহা! আমি যদি বুবুর সাথে ঢাহা যাইতে পারতাম!
    মর্জিনার আগ্রহের যেন শেষ নেই, অ'দের বাসায় আর কি কি আছে বুবু ?
    -কি নেই বল! টিভি, ফিরিজ,কাপড় ধওনের মেশিন---, আর হুনবি, রান্না যে করে কোন লাড়কি লাগে না, বুঝলি? আর হুন, অ'রা যে গোছল করে, একটা পাক্কা চিকচিক লম্বা গামলার মত।এইডারে তারা বাতটব কয়। অনেক গুলান বুতাম আছে, একটাতে টিপ দিলে গরম পানি আর একটাতে টিপ দিলে ঠাণ্ডা পানি বের হয়। আবার কম গরম, বেশী গরম পানির ব্যবস্থাও আছে। আর কি চাস? বুঝলি?
    মর্জিনার চোখ বড় বড় হয়ে আসে। তার মাথায় কোন মতেই আসছে না ব্যাপারটা। এই গরম পানি আসে কই থাইক্যা? বুবুরে অত কথা জিগাইলে রাগ করব কিনা কে জানে? শেষতক কথাটা আর আটকাইয়া রাখতে পারে নাই মর্জিনা, বুবু এই যে বললি, নল দিয়া গরম পানি আহে, ঠাণ্ডা পানি আহে, এগুলি গরম করে কে?
    জরিনা যেন কিছুটা চিন্তায় পইরা যায়। সেও কি অত কিছু জানে! জরিনা হেসে বলল, জানিস অ'রা না পায়খানার পরে চছু করে গরম পানি দিয়া। হাত দিয়া চছু করে না। একটা নলের মত, টিপ দিলেই বেগে পানি বের হইয়া আসে। এটা পায়খানার জায়গায় ধইরা রাখলেই সব পরিস্কার!
    মর্জিনার চোখ মুখ গোল হয়ে গেল, হায় আল্লাহ, সে তো দেহি তেলেস্মতি কারবার!
    বলেই কেন জানি মর্জিনার মন খারাপ হয়ে গেল। জরিনা ছোট বোনের গালে আদর দিয়ে বলল, কিরে চুপ করলি ক্যান?
    মর্জিনা কি যেন ভাবলো। সে জরিনার আরও কাছে ঘেষে আসলো। খুব ভয়ে ভয়ে মিনতির সুরে বলল, বুবু আমারে তুই লগে নিবি?
    জরিনা ছোট বোনের মুখের দিকে চেয়ে হাসল, তুই ছোট মানুষ, ঢাহা যাইবি ক্যান? তুই লিখাপড়া শিখবি, অ'গ মত বড় লোক হইবি। কি পারবি না?
    মর্জিনা প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। লেখা পড়ায় ভাল। তার আনেক বড় হইবার স্বপ্ন। 
    মর্জিনার খুব মন খারাপ হল দেইখ্যা জরিনা তারে বুকে জড়াইয়া লইল এবং মুখে হাসি দিয়ে বলল, আচ্ছা তুই ঢাহা গিয়া কি করবি?
    জরিনা তেমনি বুবুর গলা জড়িয়ে মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলল, বুবু আমি একবার ঢাহা যেতে চাই। একবার শুধু গরম পানি দিয়া চছু করমু। তারপর দেইখ বাড়িত আইসা কেমন লেখাপড়া করি!
    জরিনা মর্জিনার চোখের দিকে চেয়ে রইল।

advertisement