বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১৬ জুন ১৯৮০

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

এই আমি হিমু

রোদের ছায়া

  • advertisement

     

    আজ আকাশে চাঁদ থাকার কথা, দুদিন আগেই তো ভরা পূর্ণিমা ছিল ।এই মধ্য কার্তিকে আকাশ এতো অন্ধকার কেন কে জানে? কার্তিকের আকাশ হবে মেঘ মুক্ত, থেকে থেকে হিমেল বাসায় গায়ে লাগবে, তা না কেমন গুমোট চারদিক! আকাশ নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো রোম্যান্টিক মন আমার না , আকাশ নিয়ে ভাবছি অন্য কারনে। মিতিঝিল চৌরাস্তা থেকে মিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি কাজলকে সাথে নিয়ে । রাত প্রায় সাড়ে বারটা বাজে । আকাশে হয়তো মেঘের চাদর বিছানো যেকোনো মুহূর্তে হুরমুর করে বৃষ্টি হলেই মুশকিল হবে। দুজনের কারো পকেটেই টাকা নেই । নাহ কথাটি বোধ হয় ঠিক হল না , টাকা নেই কাজলের পকেটে মাসের শেষ বলে। আর আমার পাঞ্জাবীর তো পকেটই নেই । পকেট ছাড়া পাঞ্জাবি পরতে পরতে পকেটের ব্যবহার ও গুরুত্ব দুটোই প্রায় ভুলে গেছি।

    কাজলের বড় মামা হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন , তার বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই যে ডাক্তার-হসপিটাল করবে তাই জরুরি ভিত্তিতে কাজলের তলব। এমনিতে উৎসব পার্বণে বেচারা কাজলের ডাক পড়ে না কিন্তু বিপদ আপদে কাজলই ভরসা ।  মানুষগুলো আসলেই কেমন যেন ! থাক এইওসব কথা , যা বলছিলাম তাতেই ফিরে যাই। রাত ১১তার দিকে কাজলের মামাতো বোন তিনু ফোন করে কাজলকে ঘটনা জানায় আর যথাশীঘ্র বাসায় যেতে বলে। ও কাজলের পরিচয় দেয়া হয়নি তাই না? কাজল আর আমি আপাতত রুম ম্যাট মানে আমার যাযাবর জীবনের বর্তমান সঙ্গি । মিতিঝিলের অফিস পাড়ার একটা কানা গলির ভিতর কাদের মিয়াঁর এই মেসে কাজল প্রায় দেড় বছর ধরে আছে । আর আমি আছি মাস খানেক হল।

     

    আমি কাজলের এই ঘরে এসে আস্থানা গেড়েছি মাস খানেক হল, বেশ আয়েসেই কাটছে দিন । বড় খালার কাছ থেকে না বলে আনা হাজার টাকার নোট প্রায় শেষের দিকে । কর্জ হিসাবে খরচ করছি , হাতে টাকা এলেই খালার বাসায় গিয়ে দিয়ে আসব সাথে খালার পছন্দের কুমিল্লার রসোমালাই ।

    পাঠক আবার ভাববেন না আমি খালার টাকা চুরি করে এনেছি।এই হিমু কখনো চুরি করে নি হিমুদের চুরি করতে নেই ।কারন মহাপুরুষরা কখনো চুরি করে না । বাবা আমাকে মহাপুরুষ বানাতে চেয়েছিলেন , সেটা কতটা হতে পেরেছি জানি না তবে চুরি করা, মিথ্যা বলা সচেতন ভাবে কখনো করিনি ।
    নাকি ভুল বললাম , মাঝে মাঝে মিথ্যা বলতে হয় অদ্ভুত সব কারনে । মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত!

     

     

    আমি আবারও আকাশের দিকে তাকালাম । এবার বোধ হয় দুই একটা তারা এদিক সেদিক থেকে আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে । মনে মনে রবি ঠাকুরের একটা বিখ্যাত লাইন আওড়ালাম ” রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর গভীরে” । আসলেই কি থাকে ? হালকা একটা সুবাসিত বাতাসও আমার মুখ ছুঁয়ে গেলো । আশেপাশে কোথাও কামিনি ফুলের গাছ হয়তো আছে । গন্ধটা খুন চেনা , কামিনি ফুলের। আমার যখন ৬/৭ বছর বয়স, আমার মা একটা কামিনির গাছ উঠোনে লাগিয়েছিল, কার্তিকের এই সময়টায় গাছে ফুল আসতো , মিষ্টি একটা সুবাস বাড়ির উঠোন জুড়ে খেলা করতো । আমি চোখ বুঝলে এখনো সেই কামিনি গাছটা দেখতে পাই। কিন্তু কি আশ্চর্য আমার মায়ের মুখটা তেমন ভাবে মনে করতে পারিনা ।

    আকাশ মেঘমুক্ত হতে শুরু করেছে । আমার মনে হল এই আকাশের মতো কাজলের মামা বাড়ির আকাশের মেঘও হয়তো সরে গেছে । সেখানেও এখন খুশির বাতাস বইছে । কাজলের মুঠোফোনটা তাড়াহুড়াতে আনা হয়নি তাই খবর নেয়া যাচ্ছেনা । কিন্তু আমার হটাত বেশ খুশি লাগছে । এই মধ্যরাতে একজন বন্ধুর পাশাপাশি পথ চলতে। একা একা তো অনেক রাত হেঁটেছি , একা থাকলে মাঝে মাঝেই কোত্থেকে যেন ভয়ের একটা শিরশিরানি টের পাই ।মনে হয় হিমশীতল এটা হাত আমার হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে ।
    ভাবছি এই বিষয়টা নিয়ে একদিন মিসির আলির কাছে যাবো, এই ভয়ের উৎস কোথায় সেটা হয়তো উনি বলতে পারবেন।

     

     

    আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি ফার্মগেট এর বড় ওভার ব্রিজটার কাছে। অনেকটা পথ হাঁটা হয়েছে । এতক্ষণ কাজলের দিকে খেয়াল করিনি । আহা বেচারা রক্তাক্ত পা নিয়ে এতটা পথ এসেছে , মুখে একটা কোথাও বলে নি । হয়তো বড় মামকে নিয়ে ভাবছে , অথবা তিনুর কথা, তিনুকে কাজল খুব পছন্দ করে সেটা ও নিজের মুখেই বলেছে । কিন্তু আমার মনে হয়েছে ওর পছন্দ নেহাত পছন্দ না ও তিনুকে খুব ভালবাসে । মেস থেকে বের হবার মুখে একটা কাঠের টুকরায় কাজলের পা লাগে , সেই কাঠের টুকরা তে পেরেক ভর্তি । বেচারা এতটা পথ এসেছে কোন কথাই বলেনি , হয়তো দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথা সহ্য করছে । ভালবাসার জন্য মানুষ কি না করে ।

    ”হিমু ভাই আর দাঁড়াতে পারছি না , আমার পা অবশ হয়ে গেছে । কি করি বলুন তো?” প্রায় ঘণ্টা খানেক পর কাজলের মুখ থেকে কথা বেরুলো ।
    আমি বললাম ওভার ব্রিজের সিঁড়িতে বসে থাকো , কিছুক্ষণ রেস্ট নাও । দেখি কি করা যায় । হয়তো একটা খালি অটো পেয়েও যেতে পারি ।
    ” হিমু ভাই পকেট তো একদম খালি , অটো পেলেই বা কি হবে।”
    কেন তোমার মামা বাড়ি গিয়ে তিনুকে বললে কি অটো ভাড়াটা দিতে পারবে না ?
    ” সেটা কি ভালো দেখাবে নিমু ভাই? ওদের বিপদের সময় গিয়ে টাকা চাইবো?”
    তোমাকে চাইতে হবে না , তোমার হয়ে আমি চাইবো ।
    আর বিপদের সময় অত কিছু ভাবতে গেলে হয় না । তোমার পোঁছানো টা বেশি দরকার তাই না ।
    ” কিন্তু হিমু ভাই আমার ভীষণ লজ্জা করবে ও বাসায় গিয়ে তিনুর কাছে গাড়ি ভাড়া চাইতে ।”
    আহা তুমি শুধু তিনুর কথা ভাবছ কেন তোমার মামার আরও একটা মেয়ে আছে না । তার কাছ থেকে চেয়ে নিবে।
    ” সেটা অবশ্য করা যায়। বিনু আপা শুনেছি প্রাইভেট টিউশনি করে , চাইলে হয়তো অটো ভাড়া দিতে পারবে । কিন্তু তিনুর কাছে আমি কিছুতেই চাইতে পারব না ।

    কাজলের অসহায় মুখের দিকে চেয়ে কেন জানিনা আমার চোখ ভিজে গেলো ।কেন একটা সহজ সরল শিক্ষিত ছেলে এরকম অসহায় অবস্থায় পড়বে ? আমি কিছুক্ষণ অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম । আমার চোখের পানি কাউকে দেখাতে ভালো লাগে না ।

    আমি নিজে ভিখিরি মানুষ , সবার কাছেই চাইতে পারি । এমনকি রুপার কাছে এক কাপ চায়ের টাকা চাইতেও একবার ভাবিনা । কিন্তু কাজলের কথা শুনে মনে হচ্ছে …সবার কাছে সব কিছু চাওয়া যায় না ।

     

     

    পাঠক তাহলে কাজলের সাথে আমার প্রথম দেখার ঘটনাটি শুনুন । মাস তিনেক আগে ভর দুপুরে গেছি কুদ্দুসের ” মায়ের দোয়া” হোটেলে । পকেটে তখন খালার কাছ থেকে আনা হাজার টাকার নোট । ভাবলাম কুদ্দুসের হোটেলের মাটন বিরিয়ানি ভর পেট খেয়ে নোট টা ওকে দিয়ে আসব । হাজার টাকার উপরে বাকি পড়েছে কুদ্দুসের কাছে । দরজায় গিয়েই শুনলাম ভিতরে বেশ রাগারাগি চলছে । কুদ্দুস অবশ্য বিনা কারনেই হোটেলে খেতে আসা মানুষের সাথে চেঁচামেচি করে । কিন্তু আজকের ঘটনা অন্য রকম । আজ একজন খেয়ে টাকা দিচ্ছে না । বলছে পকেট মার হয়েছে, খেয়াল করেনি । আমি আমার স্বভাব মতো এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি শান্তশিষ্ট শ্যামলা বর্ণের একটি ছেলে , কাজলকে তখন কলেজ পরুয়া ছেলেই মনে হয়েছিল । মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে আর বারবার মিনতি করছে ওকে ছেড়ে দিতে ও ওর মেস থেকে টাকা এনে দিবে । কিন্তু কুদ্দুস কিছুতেই মানবে না ।

    ছেলেটার সাথে দামি ঘড়ি বা মবাইল ফোন ও নেই যেটা রেখে ওকে ছাড়া যায় । কুদ্দুসের দোষ দিয়েও লাভ নাই , ওর হোটেলে এরকম ফটকা লোক প্রায়ই আসে , ২০০ টাকার খাবার খেয়ে ৫০/৬০ টাকার সস্তা ঘড়ি রেখে চলে যায় ।

    কুদ্দুস আমাকে পীরের মতো শ্রদ্ধা করে ।কেন করে সেই গল্প অন্য কোন দিন শোনাবো ।
    বললাম ওকে যেতে দেও কুদ্দুস ।
    কুদ্দুসঃ কি কোন হিমু ভাই , টেকা না লইয়া যাইতে দিমু?
    আমিঃ দেও , ও তোমার টাকা নিয়ে ফরে আসবে ।
    কুদ্দুসঃ আপ্নে কইতাছেন হিমু ভাই? তাইলে তো যাইতে দিতেই হইব । আপ্নেরে আমি পীর মানি হিমু ভাই!!
    ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি অপমানের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার খুশি, চোখে পানি কিন্তু মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি ।

    কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার সামনে এসে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বসলো। সালাম করেই উঠে প্রায় দৌড়ে হোটেল থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছিলো আমি ডেকে থামালাম । নাম , ঠিকানা জিজ্ঞাস করলাম। জানলাম বাড়ি বাউফল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রিতে পড়ে । নিচু মুখেই কথা বলছিল । কেমন যেন মায়া হল ।
    কুদ্দুসকে বললাম ওর বিল কত হয়েছে ?
    কুদ্দুসঃ একটা রুই মাছ, ডাল আর একটা ভাত । সাথে একটা চা , সব মিইলা ৭৩ টাকা।
    আমিঃ যাও আমার নামে ওই বিল করো । আর আমাকে বেশি করে মাংশ সহ ডাবল বিরিয়ানি দেও।
    কুদ্দুস আমাকে খাবার দিল, কারো খাবারের টাকাই নিলনা। আজব দুনিয়া !
    সেদিন থেকে কাজল আমার একরকম ভক্ত হয়ে গেছে । এর এক মাস পরেই আমাকে যখন কাকরাইল বাজারের মেস ছাড়তে হল কাজল কিছুতেই অন্য কোথাও উঠতে দিল না।

     

    কাজলঃ হিমু ভাই, মামার কি অবস্থা কে জানে? আমার খুব চিন্তা হচ্ছে ।
    আমিঃ খুব বেশি চিন্তা করো না , চিন্তা করে তো কিছু করা যাবে না , আর আমার মনে হচ্ছে তোমার মামার অবস্থা অতটা গুরুতর কিছু না । হয়তো মাথা ঘুরে পড়ে গেছে , বাসায় সাহস দেবার কেউ নেই সেজন্য সবাই ঘাবড়ে গেছে ।
    আর তিনুর হয়তো তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করছে তাই এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে । বী হ্যাপি ইয়াং ম্যান!

    কাজল মনে হয় আমার কোথায় একটু লজ্জা পেল, ভীষণ লাজুক ছেলে। এই ছেলে কিভাবে প্রেম করবে ? প্রেমে পড়লে লাজ লজ্জা ঝেড়ে ফেলতে হয় সেটা হয়তো এর জানা নেই ।

     

    ঠিক এই সময় একটা সি এন জি নামের অটো রিক্সা আমাদের সামনে এসে থেমে গেলো । হটাত থামার কারন দেখতে চালকের সিট থেকে একজন মোটা মতন লোক নেমে এল। বেশ কিছুক্ষণ রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় তীক্ষ্ণ চোখে অটোর দিকে তাকিয়ে থেকে রাস্তার দিকে তাকাল।অটোতে কোন সমস্যা খুঁজে পেল বলে মনে হল না এতো রাতে রাস্তায় বসে দুইজন মানুষ গল্প করছে দেখে এগিয়ে গেলো ।

    ” ভাইজান কয়টা বাজে বলতে পারেন?” চালকের প্রশ্ন শুনে কাজল বলল ” রাত দুইটার মতো বাজে ।”

    হিমু এবার চালকের দিকে তাকিয়ে অবাক হল। আরে এটা জয়নাল না ! বছর খানেক আগে এর সাথে পরিচয় হয়েছিল। রুপাকে নিয়ে কোথায় যেন যাবার কথা । রাস্তায় বের হতেই রুপার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলো , পরে রুপাকে এক রকম জোর করেই একটা অটোরিকশায় উঠেছিলো হিমু , সেই অটোর চালক ছিল এই জয়নাল। রুপা গন্তব্যে পৌঁছে একটা ৫০০ টাকার নোট বের করে দিয়েছিল । টাকাটা পেয়ে জয়নাল কেমন যেন অবাক হয়ে যায় । হাত তুলে লম্বা দোয়া শুরু করলো । বিষয় কি রুপা জানতে চাইলে বলে …

    ” আপা আপনি ফেরেস্তা হইয়া আজকে আমার ছি এন জিতে উঠছেন। সকাল থাইক্কা কোন পেসেঞ্জার পাই নাই । এই ভর দুফুরে আর কোন পেসেঞ্জার পামু ভাবি নাই, ঘরে আমার ছোড মাইয়ার অসুখ , ওষুধ কিনার টেকা আছিল না । আল্লায় আপনা গো পাঠাইছে আপা। আপা গো আল্লাহ বাঁচায় রাখলে জীবনে আর কোনোদিন আমি আপনা গো কাছ ত্থিকা পয়সা নিমু না ।

    জয়নাল- একবার দেইখাই আফানারে আমি চিনছি ভাইজান, চিনতাম না যদি ভাইজানের গায়ে ঐ হইলদা পাঞ্জাবি না থাকতো । ডাহা শহরে মনে লয় এই পাঞ্জাবি ভাইজানরই আছে !
    জয়নাল- ভাইজা আমারে চিনছেন নি?
    হিমু — জয়নাল কেমন আছো?
    জয়নাল– ভাইজান আফনের মনে আছে ! এক আফার সাথে আফনে আমার গারিত উঠছিলেন! আফায় আমারে ৫০০ টাকা দিছিল, মাইয়ার অসুখ আছিল। আফনে কইলেন ” বাড়ি যাও, তোমার মেয়ের অসুখ ভালো হয়ে গেছে ।” বাড়ি গিয়া দেহি সত্যই মাইয়া ভালো হইয়া গেছে । ডাবের পানি খাইতে চাইতাছে !! ভাইজান আফা ভালা আছেনি?

    রুপার প্রসঙ্গটা হিমু সযত্নে এড়িয়ে গেলো, অনেকদিন রুপার সাথে দেখা করা হয়না । মাঝে মাঝেই ভাবি একবার গিয়ে দেখা করে রূপাদের বাড়ির ব্রাজেলিয়ান এক্সপ্রেসো কফি খেয়ে আসি পরমুহুরতেই মনে হয় থাক- কি হবে মায়া বাড়িয়ে …

    হিমুঃ অনেক বদলে গেছ দেখছি । মাথায় টাক। ভুরিও তো বানিয়ে ফেলেছ!!
    জয়নালের মুখে হাসিঃ — তা ভাইজান এতো রাইতে আপনারা কই যাইবেন? আমার গারিত উডেন , নামায় দিতাছি ।
    হিমুঃ কিন্তু আমরা তো যাবো মিরপুর, তুমি তো উল্টা দিকে যাচ্ছ।
    জয়নালঃ আরে হিমু ভাইজান , এইডা একখান কথা কইলেন! সোজা উল্টা আবার কি । উডেন দেহি আপনে ।

    জয়নাল অটো ফুল স্পিডে চালাচ্ছে । মনে হচ্ছে ব্যাটা এটাকে আকাশে উড়িয়ে নিবে সুযোগ পেলে । ।জয়নাল কি একটা হিন্দি গানও গুনগুণ করছে, সুরটা বেশ পরিচিত …”হাওয়া মে উরতা যায়ে” এরকম কিছু একটা …।
    কাজলের মুখটা ও হাসি হাসি , জয়নাল আর আমার কথা শুনে বেচারা হয়তো মামা বাড়ির কথা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেছে । রাতের এই প্রহরে শান্ত শহরের পথে তিনটি প্রাণী খুশি মনে চলছি ।

     

     

    চলছি, চলাই তো জীবন। প্রকৃতির অমোঘ টানে ছুটে চলছি সবাই যার যার গন্তব্যে ।

     

     

    Share on Facebook

    এই পোস্টে কোন ট্যাগ নেই | ৯৯ বার পঠিত

    facebook.com

advertisement

  • সাদিয়া সুলতানা
    সাদিয়া সুলতানা অনেকদিন হিমু পড়ি না। আসলে অনেক বছর পড়ি না। অনেক বছর রাইটার্স ব্লকে থেকে আবার পড়া ও লেখা শুরু করেছি। কিন্তু যেই হিমুকে নিয়ে এত উন্মাদনা....ভার্সিটি লাইফে পাগলের মত হুমায়ূন পড়তাম। সবার মতই হিমু মুগ্ধ করত আমাকে সেটা ঠিকই মনে আছে। এত ঝরঝরে ভাষা একেবারে হিমুময়...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী )
    ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী ) আরে মৌসুমী যে!!! পেয়ে গেলাম তোমাকে এখানেও, খুব্বিই ভালো লাগছে তাই। আরো ভালো লাগলো তোমার হিমুময় গল্পটাও। অসম্ভব সুন্দর লিখেছো। অনেক অনেক ভালোলাগা, শুভকামনা আর ভালবাসা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • ফাহমিদা   বারী
    ফাহমিদা বারী দারুণ! মন ছুঁয়ে গেল! গক তে এখন ভাল লেখার আকাল। ভাল লেখা পড়তে চাইলে তাই পুরনো লেখাগুলোকেই এখন নেড়েচেড়ে দেখি। তবে আমি এসেছিলাম অদিতি ভট্টাচার্যের সন্ধানে। উনার নামটা সার্চ করতে এই লেখাটিকে পেলাম।