Untitled-1

ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দুর্ভোগ থেকে নরকযন্ত্রণা ভোগের মতো ব্যাপার অহরহ ঘটছে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বারবার হোঁচট খাওয়ার চেয়ে চৌকাঠের ঠিক আগে একটু থেমে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যস, এটুকুই আমাদের জীবনে বারবার আফসোসের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে। ভুলের জন্য কারণ দর্শিয়ে বলা হয়, ‘মানুষ মাত্র ভুল’ করে_ এ অপাংক্তেয় ব্যাখ্যার ব্যবহারও তখন কমে যাবে। ভ্রান্তিবিলাস থেকে বাঁচতে কী করবে? যে কোনও কাজই নিপুণভাবে করার জন্য যথেষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন। না হলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। সেই সঙ্গে বারবার ভুলভ্রান্তির জন্য জন্মায় হতাশা ও হীনম্মন্যতা। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে নিজের কর্মক্ষমতা সম্পর্কেও একটা অস্বচ্ছতা থেকে যায়। তাই প্রয়োজন ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। এ ব্যাপারে নেপথ্যে যেগুলো কাজ করে তা হল_

  • বুদ্ধাঙ্ক_ ইংরেজিতে যাকে বলে ইনটেলিজেন্ট কোশেন্ট বা আইকিউ,
  • ব্যক্তিত্বের ধরন,
  • অ্যাডাপটিবিলিটি বা মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা,
  • নমনীয়তা,
  • অ্যাটেনশন স্প্যান বা নজরদারির এলাকা,
  • লজিকাল অ্যাবিলিটি বা যৌক্তিকতা,
  • মেমরি বা স্মৃতিশক্তি,
  • আনবায়াসড অ্যাটিটিউড বা পক্ষপাতহীন মনোভাব,
  • লার্নিং স্টাইল বা শেখার পদ্ধতি,
  • জেনারালাইজেশন পাওয়ার বা শেখা জ্ঞানকে মনে রেখে বিবেচনা করার ক্ষমতা।

 

সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সঠিক পদ্ধতি

সিদ্ধান্তটা হতে হবে নিজের ভিতর থেকে। যাতে ফলাফল আর যাই আসুক নিজস্ব ব্যর্থতার প্রসঙ্গটা হয়ে যায় যেন গৌণ একটা বিষয়। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়, তা হল_

  • কঠিন সময়ে নিজের স্মৃতিশক্তিকে বারবার ওলটপালট করে দেখে নেয়া। কেবল শেষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘটনাকেই মনে রাখবে, সেটা কাম্য নয়। সামগ্রিকভাবে নতুন পরিস্থিতির ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’গুলো খতিয়ে দেখা।
  • আগের একই ধরনের পরিস্থিতিতে অমুক জিনিসটা কাজে দিয়েছিল বলেই যে এবারও সেটাই কাজে লাগবে তার কোনও মানে নেই। অর্থাৎ একই ধরনের প্রোগ্রামে প্রতিবার একই ‘ফেসভ্যালু’ই যে কাজে দেবে তা কিন্তু নাও হতে পারে।
  • সব রকম বিকল্পকেই গ্রহণ করা বা মাথায় রাখা দরকার। কোনও সিদ্ধান্ত আসার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাসম্ভব তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে প্রাথমিক কাজ। তারপর সেগুলোকে একত্র করে, নতুন সন্দেশের ছাঁচে ফেলার মতো করে সেই পরিস্থিতিতে বসিয়ে বিচার করে ভেবে দেখা বাঞ্ছনীয়। অমুকে ওই কাজটা তমুকভাবে করেছে বলে আমাকেও ওইভাবেই করতে হবে এ সিদ্ধান্ত পরে চূড়ান্ত আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এক্ষেত্রে নিজেকে ও নিজের পরিপার্শ্বকে এবং তার প্রাসঙ্গিকতাকে ভুললে বোকামি হবে।
  • নিজেকে নমনীয় রাখা, নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতার প্রতি আসক্তি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক কষ্ট করে, ভাবনাচিন্তা করে, সময় দিয়ে ওই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম বলে জোর করে সেটাতেই স্থির থাকতে হবে এটা কিন্তু এক ধরনের নির্বুদ্ধিতা। বারবার ভুল করার থেকে নিজেকে একটু ভেঙে, অহংবোধকে এক পাশে সরিয়ে রেখে। যুক্তি দিয়ে ভেবে সিদ্ধান্ত নাও। এক্ষেত্রে পরের ভালোটুকু মেনে নিতে তো দোষ নেই। মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে অনেক সময় আসল থেকে সুদটা অনেক লাভজনক হয়।

 

এরপরও ভুল হলে অন্তত নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিতে পারবে যে, তুমি তোমার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সৎ ছিলে। পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না, পারিপার্শ্বিক কারণ ও পরিবর্তিত অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়েছ। ব্যর্থ হলেও দেখবে আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে, অন্তত বলছ না ‘মানুষ মাত্র ভুল’।