বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৬ জানুয়ারী ১৯৭৩

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

তোমাকে আজও ভুলিনি

মিজানুর রহমান রানা

  • advertisement

    তোমাকে আজও ভুলিনি, কারণ তুমিই আমাকে শিখিয়েছ কীভাবে নির্ভুল শব্দ রচনা করতে হয়, তুমিই আমাকে শিখিয়েছ কীভাবে সংবাদ রচনা করতে হয়। তুমিই আমাকে সংবাদ রচনা করতে দিয়ে পিঠ চাপড়ে বলেছিলে, ‘তুমি সাংবাদিক হয়ে গেছো।’
    অথচ আমি কস্মিনকালেও সাংবাদিক হতে চাইনি, শুধু সাংবাদিক হওয়া নয়, আমার জীবনের কোনো লক্ষ্য, মানে স্বপ্ন ছিলো না বললেই চলে। নির্বিকার একজন মানুষ, যে তার স্বপ্ন, লক্ষ্য ও জীবনের কোনো চাওয়া-পাওয়ার মানে নিয়ে মাথা ঘামাতো না।
    তুমি আমার জীবনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিলে, আমাকে সংবাদপত্রের একজন একনিষ্ঠ কর্মী বানালে। মানুষজনের সাথে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান থেকে মিজানুর রহমান রানা নামে চিনিয়ে-জানিয়ে দিলে। তোমার শরীরের ওপর ভর করে আমি পৌঁছে গিয়েছি অনেক দূর-দূরান্তেÑ পাঠক সীমান্তে।
    মানুষ তার ব্যক্তি জীবনে প্রতিনিয়তই ভুল করে। আমিও তার ঊর্ধ্বে নই, কারণ আমি প্রকৃতপক্ষে কোনো সাধু মহাপুরুষ তো নই-ই, কখনোই তা হবার চেষ্টা-সাধনাও করিনি। আমার বড় হবার লোভ আছে, ব্যবসায় লাভ-লোকসানের খতিয়ান দেখার প্রয়োজন আছে, আছে প্রবৃত্তির নানা চাহিদা। এ চাহিদাকে আমি কখনোই অস্বীকার করতে পারিনি। নিজের ভুল-ভ্রান্তি ও সামাজিক টানাপোড়েন আমাকে মাঝে মাঝে কুরে কুরে খায়, আমি ভুগি পাারিবারিক, সামাজিক নানা সমস্যায়।
    মাঝে মাঝে আমাকে বৃষ্টির মতো একা একা কাঁদতে হয়, কোনো কারণ ছাড়াই। আমি ভুলে যাই অনেক কিছু, আবার আমার সামনে প্রতিভাত নিত্য-নতুন সমস্যা। এগুলো আমাকে একলাই সামলাতে হয়। আমি যে একা। একাই পৃথিবীতে আসা, একাই পথচলা। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের এই পথচলায় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমি দোদুল্যমান হয়ে মাঝে মাঝে ভুল করি আবার অনেক সময় তা আমাকে পৌঁছে দেয় আমার গন্তব্যে।
     এতো কিছুর পরও আমি তোমাকে ভালোবাসি, চরম বা মারাত্মক ভালোবাসি একথা বলবো না। কারণ এটা হচ্ছে নেগেটিভ বাক্য। আমি তোমাকে নেগেটিভভাবে দেখি না। তুমি সব সময় আমার জন্যে পজেটিভ এবং আশীর্বাদস্বরূপ। তুমিই আমার শুরু এবং গুরু। তোমার দেখা না পেলে আমি পেতাম না জীবনের দিশা, জীবনে ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার অমানিশা।
     তোমাকে ভর করে আমি এ জীবনের এ পর্যায়ে এসেছি, তুমি আমাকে ভুলে গেলে, আমি কীভাবে ভুলবো বলো? আমি প্রতিনিয়তই তোমাকে স্মরণ করি। যদিও আমি অন্য একজনের ঘর করছি, তবুও মনের মাঝে তুমি সদা-ভাস্বর এবং আমৃত্যু তোমাকেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাবো।
    তুমি ধনে-বলে-অর্থ সম্পদে ভরপুর বলে নয়, তোমার জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানোর গৌরবে আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তোমাকে শ্রদ্ধা করি বিনম্রচিত্তে।
    লেখক পরিচিতি : মিজানুর রহমান রানা, সংবাদকর্মী, ০১৭৪২০৫৭৮৫৪, mizanranabd@gmail.com

advertisement