সকালে ঘুম থেকে উঠে, বাইরে আসলাম, রাস্তায়।
কেউ একজন দাঁড়িয়ে, হয়ত কারো অপেক্ষায়।
সুললিত কণ্ঠ, পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?
-হারাবো কোথায়, আমিতো দেই নি এখনো পদক্ষেপ
দাঁড়িয়ে গোড়ায়, নিজ দূয়ারের।
পষ্ট করে দেখি…ওমা, চোখে জিজ্ঞাসা, অপরূপ সুন্দরী,
-ও হ্যাঁ, মাত্র হারালাম…সবই, স্থানু আমি।

বৃষ্টির ছাট, নর্দমা আর জমে থাকা বরষা, একাকার।
কার্নিশের আশ্রয়ে ভেজা কাক নয়, আমার কল্পনার বনকন্যা।
আবার পথে নামে নাগরিক বন-দুহিতা।
এক হাতে টিফিন কেরিয়ার, আরেক হাতের তালুকে বানিয়ে ছাতা।

এক ইট দুই ইট লাফিয়ে, পৌঁছি গলির মোড়ে
কপালকুণ্ডলা এখানে দাঁড়িয়ে, একটু তোলা পাজামা
কৃতজ্ঞতা বর্ষা তোমায়, উঁকি দেয় উন্মুক্ত সুডৌল পা
মেঘের উপঢৌকনে, নাকি অন্তরের নির্যাসে
গাল দু’খানি ভেজা ভেজা।

নাগরিক মূল্যবোধের তাড়া, নিচতলা-উপরতলা বৈষম্য
পাছে লোকে কিছু বলে-মানসিক বৈকল্য
কল্পনায় আলাপচারিতাই শুধু, হয়না হাত দু’টো ধরা
কিংবা পাশাপাশি খানিকটা পথচলা!

ওয়াটারপ্রুফ বর্ষাতি ভেদ করে ভিজি আমি একেলা
যেমন সড়ক দ্বীপের টোকাই শিশুরা, গা খোলা।

ভেজা আকাশ কুসুম স্বপ্ন তাড়িয়ে,
শুকনো বাস্তবে ভাদ্দুরে গরমে কাঁপি।
বদ্ধ জলের শহরে হিমু নই, নবকুমার আমি
কাজ ফেলে শুধুই, ছপাত ছপাত হাঁটি।