লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৩৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ২০১৬)

সুদূরের পিয়াসী
ফাল্গুন

সংখ্যা

মোট ভোট

আল- আমিন সরকার

comment ১  favorite ০  import_contacts ৭৯৬
-দেখ ঐ জুটি সকাল থেকে দাড়িয়ে আছে হাঁটু পানিতে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে – বলে নীলিমা।

নিলয় একটু দূরে সাগরের দিকে তাকিয়ে আছে । নীলিমার কথা তার কানে গেল কিনা বুঝা গেলো না । সাগরের ঢেউয়ের গর্জন আর অবারিত সাগর বক্ষ তাকে নিয়ে গেছে অন্য জগতে । নীলিমা ঢাকার নামকরা এক প্রাইভেট ইউনিভারসিটিতে শেষ বর্ষের ছাত্রী আর নিলয় এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত । তারা দুজনেই এসেছে কক্সবাজারে কয়েক দিনের জন্য ।

নিলয় হোটেলের বারান্দায় দাড়িয়েছিল রাত আনুমানিক একটা হবে । পূর্ণ চন্দ্র পূর্ণিমা রাত । সাদা জোসনায় প্লাবিত সৈকত রূপালি আলোয় স্বপ্নিল । হটাৎ একটি মেয়ে একাকি সামনের রাস্তা দিয়ে সৈকতের দিকে যাচ্ছিল ।

মেয়েটি পরেছে লাল পেরে সাদা শিপন শাড়ী । তার সাথে ম্যাচ করে জুতা, টিপ আর লিপিস্টিক দিয়ে নিজেকে অপরূপ করে সাজিয়েছে । পূর্ণিমার রাতে আসমান থেকে পরী যেন নেমে এসেছে । অনেকটা মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েছিল নিলয় । কোন মেয়ে যে এত সুন্দর হতে পারে , এত ভাল লাগতে পারে তার জানা ছিল না ।কক্সবাজার যেন তাকে ভাল লাগা অনুভব করতে শেখাল ।মন্ত্র মুগ্ধের মত সে ও নেমে আসল রাস্তায় । যেমন বিলাসি পাখা ওয়ালা পিঁপড়ার দল নিজেকে সপে দেয় আলোর শিখায় ।

দোকান গুলি পার হয়ে নীলয় চলে যায় বালির মধ্যে , কোথায় যেন হারিয়ে গেল সেই মায়াবিনী ।
অস্থির ভাবে খুঁজতে থাকে এ দিক সে দিক । রাতে ভাটার জন্য পানি চলে গেছে অনেক দূরে । সাদা আলো ভেজা বালিতে পরে রূপালি কার্পেটের মত মনে হচ্ছে । রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে যাচ্ছে ঢেউ আছড়ে পরার শব্দে । তারই মাঝে মাঝে ঢেউয়ের শব্দের অবসরে কবিতা আবৃত্তির মত মনে হচ্ছে । যত কাছে যাচ্ছে তত জোরে কবিতার শব্দ গুলি শুনা যাচ্ছে ।

“এই ক্ষণ যেন মহাকালের বুকে বহমান,
শতাব্দী থেকে শতাব্দী পরে আসি ,
নিয়ত চলেছে ভাসি” । - নীলিমা আছে সাগরের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে । একটু থামলে --


“সে না রহিবে স্থির
বহিবে নিরবধি,
নিজেকে নিঃস্ব করে
নিষ্ঠুর অবহেলায়” । - বলে নিলয় ।

কে আপনি ? কোথায় পেলেন এ কবিতা – বলে নীলিমা ।
কোন বইতে নয়, ফেসবুকে কোন এক খেয়ালি কবির কবিতা থেকে পেয়েছি । আমি যদি ভুল না করি আপনি ও হয়তো একই সোর্স থেকে পেয়েছেন । অধমের নাম নিলয় সুদূরের পিয়াসি -- বলে নিলয় ।

ঠিকই বলেছেন, আমি নীলিমা - দৃষ্টি সীমা যেখানে শেষ, সেখানেই আমি থাকি । হটাৎ এই পথ মাড়াইতে আসা কেন – বলে নীলিমা ।

সময়ই পথ তৈরি করে, পথের বুকে চলাই আমাদের কাজ – বলে নিলয় ।

হ্যাঁ ভুল পথে আসলে তারও মাশুল পরিশোধ করতে হয় পাই পাই করে – বলে নীলিমা ।

“ভুলেই যদি ভরে জীবন
ভুলেই করিব বাস,
বলরে হে সর্বনাশী
তুই কি আমার নস ? ” -বলতে বলতে নিলয় আনমনা হয়ে যায় ।

আবার সেই হতচ্ছরা আপনার মাথায় চেপেছে – বলে নীলিমা ।

শুধু চেপেই বসেনি ! বশীভূত ও করেছে , তার সাথে এই সমুদ্র , পূর্ণিমা, ভেজা ভেজা বাতাস আর সামনে অপরূপ সুন্দরী । বিধাতা যেন সকল সুধা ঢেলে দিয়েছে উজাড় করে । এখানে আসার আগে আমার ধারনা ছিল না পৃথিবী এতো সুন্দর – বলে নিলয়।

“খুলিয়া গিয়েছে সুন্দরের দ্বার
রিক্ত নয় কেউ আর,
মিলনে, ভালবাসায়, যাদু মাখা কথায়
খুলবো আজি বন্ধ দোয়ার” – বলেই কেমন যেন লজ্জাবতী লতার মত গুটিয়ে ফেলে নীলিমা নিজেকে ।

“ ওগো লজ্জাবতী, লাজুক লতা
বুঝো কি মোর মনের কথা,
ঝেরে ফেলো সকল জড়তা
পূর্ণ হোক সকল অপূর্ণতা” – বলে নিলয় নীলিমার হাত ধরতে যায় ।



“ধরা নাহি দিব আজি তব বাহু ডোরে,
নিঃশেষ করিব না নিজেকে একেবারে ,
চলেছি সুদূরের পথ ধরি
দেখতে চাইলে দেখবে তোমারই সাথে আছি
-এই আমি ” - বলে নীলিমা

নিলয় চিৎকার করতে থাকে নীলিমা...! নীলিমা... !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement