লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ অক্টোবর ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ২৮টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈশাখ (এপ্রিল ২০১৫)

চোরাবালি
বৈশাখ

সংখ্যা

আশরাফ উদ্ দীন আহমদ

comment ০  favorite ০  import_contacts ২৮২
ভীতসন্ত্রš— গৌরী গুটিশুটি মেরে চালার এককোণে একটু নিরাপদে লুকোতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, কিন্তু পুলিশের লোকটা কেমন নাছোরবান্দা, খামচা মেরে চুল ধরে টেনে তোলে তাকে, এর মধ্যে অন্যসব সিপাইরা গৌরীর ব¯ি—ঘরের চারদিকে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়ানো-ছিটানো সংসার-গেরস্থালী-টুকিটাকি জিনিসপত্র কালো জুতোর তলে তছনছ হচ্ছে নির্মমভাবে। কেউ কিছু বলছে না, সবাই ¯—ব্ধ, গৌরীও নির্বাক এক শৈবাল।
সিপাইরা চিৎকার করছে, খি¯ি—-খেউড় আর শোরগোলে বাতাস ভারী এখন। ‘ধরে-ধরে মাগীদের সব’...কেউ-কেউ চাপা ¯^রে বলে, মাগীদের ডাসা শরীর যেন কাশ্মীর আপেল...আরেক সিপাই শীৎকারের সুরে বললো, এ’ রাত্রে কি আর ভালো লাগে ওদের ছেড়ে...
শেষরাত্রের আকাশের কোলে নিসঙ্গ শুকতারার মতো জ্বলজ্বলে দুটো চোখ দিয়ে দেখছে গৌরী সম¯— ঘটনা-উপঘটনা। কোথায় যেন একটা গরমিল খাপছাড়া মনে হয় তার কাছে, সুতো কাটার ঘুড়ির মতো একটা ঘুড়ি নামহীন-গোত্রহীন কোনো ঠিকানায় পড়লো, কেউ হয়তো খোঁজও নিলো না। অথবা দেখার প্রয়োজন মনে করলো না, নোংরা ছিন্নভিন্ন মাদুর দলিতমথিত এখন। বিছানা-জলের গ­াস টিনের থালা দুটো মাটির হাঁড়ি, জলের পট সব কিছু কেমন ভেঙেচুড়ে মচড়ে এখানে-ওখানে যাচ্ছেতাই ভাবে পড়ে আছে।
একজন রাগী-গম্ভীর সিপাই ঝুপড়ির ভেতরের চারদিকের বেড়ার ঝোঁপে পরপর বার কয়েক লাথি মারতেই সম¯— কেমন ঝুরঝুর করে খষে পড়ে গেলো চোখের পলকে। টুকরো-টাকরা মরচে পড়া ঢেউ টিনের চাল মাথার ওপর, কয়েকটা বাঁশের ডগায় ঝুলে আছে বাবুই পাখির বাসার মতো, গৌরী হতভম্ব এখন,ওর চোখেরই সামনে ওর সাজানো সংসার তছনছ হয়ে ভেঙে পড়ে আছে, এক বছরের এই সাজানো জীবনের ছোট সংসার, কার যেন বা পায়ের তলে আজ লন্ডভন্ড, মঙ্গুকে ওরা ওমনভাবে টানাহেঁচড়া করছেই বা কেনো? কি এমন অপরাধ করলো ওই মানুষটা আবার। বুকের মধ্যে বড় রকম ফাঁপড় লাগে কিন্তু কিছুই বলতে পারে না মুখ ফুটিয়ে, কোন্ ভাষায় কথা বলবে, কি ভাষায় প্রতিবাদ করবে সে এখন। অশ্বথগাছের নীচে যে সংসার তারা একবছর ধরে একটু-একটু সাজিয়ে তুলেছিলো দুজনের মতো, আজ তা নিমেষে কেমন পরিস্কার হয়ে গেলো, এমন তকতকে ঝকঝকে কখনো সে দেখেনি, কারণ এক বছর আগে এখানে রাজ্যের জঙ্গল ছিলো, সে জঙ্গলে সাফ-সুতেরো করে বসবাসের যোগ্য করে তুলেছে ওরা দুজন মানব-মানবী। অথচ আজ একবছর পর সেই আ¯—াকুড়ের মতো জায়গাটা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া ¯^ত্তের্¡ও কি দৃশ্য অবলোকন করছে গৌরী।
তর“ণ এক সিপাই ফিসফিসিয়ে অন্য আরেক সিপাইকে বলছে, এসব মাগীরাই তো শহরটাকে বেশ্যাখানায় পরিণত করছে, আর যুবসমাজ নষ্ট হচ্ছে এদের বেসাতির জন্য...
কথার তাল রেখে অন্যজন সিপাই বলে, চোলাই-পঁচানি-ধেঁনো মদ আর ফেনসিডিল তো এরাই সাপ­াই দেয়, পঁচানি খাইয়ে সমাজটাকে পঁচিয়ে দিলো শালীরা...
সিটি কর্পোরেশনের কুকুর নিধনকারীদের মতো সিপাই কয়েকজন গৌরীকে মৃত কুকুরের মতো টেনেহিঁচড়ে ত্রিপল ঢাকা জলপাই রঙের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়, আর মঙ্গুকে তারপর চুলের মুঠি ধরে খামচে টানতে-টানতে ওই ট্রাকে তোলে, ট্রাক থানার ভেতর ঢোকে একসময়, গৌরী-মঙ্গু কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারে না, তা কেনো তাদের এমনভাবে অমানবিক অত্যাচার। মঙ্গুকে পরপর কয়েকটা বুটের লাথি মারায় সে একেবারে কাঁদোকাঁদো অবস্থায় শংকিত। মুখে ওর কোনো শব্দ নেই, চোখ দুটো বড় ভীতি নিয়ে স্থির হয়ে গেছে যেন।
থানার সেলে ঢুকিয়ে দিলো একসময় সিপাইরা ওদের দুজনকে। ভোরের আলো ফুটে উঠেছে আকাশময়, অন্যসব সিপাইরা কেমন জুলুজুলু নেশাগ্রস্থ চোখে তাকিয়ে দেখছে গৌরীকে, আর কেউ-কেউ দাঁত কিটমিটিয়ে কি সব খি¯ি—-খেউর করছে মঙ্গুকে,একটু-একটু সময় গড়ায়। থানার আশেপাশের গাছে-গাছে পাখিদের কিচিরমিচির মধুর ধ্বনি, থানার সেলের ভেতর তখনো ভোরের আলো ঢুকতে পারেনি, অন্ধকার থেকে একটু ফিকে আলোর রস্মি এসে সবে মাত্র। সেলের মাথার ওপরে যে জিরো পাওয়ারের ডিম লাইট সেটিও ফিউজ, তবুও রেশমী আলোটুকু কেমন নিজের অ¯ি—¡ত্ব জানান দিচ্ছে, গৌরী হতবাক, জীবনে কখনো সে এমন ঘরে তো আসেনি, কেমন সব ধোঁয়াটে-ধোঁয়াটে লাগে ওর কাছে, তারপরও ওর সম¯— শক্তি সম¯— স্মৃতি যেন একটু-একটু হারিয়ে যেতে থাকে। ¯^ামী নামের গোবেচারা মানুষ ওই মঙ্গু নিজের খোলসের ভেতর সিটিয়ে যাচ্ছে, কিভাবে সে তার বউকে বাঁচাবে অথবা নিজেকে বাঁচাবে সে তো জানে না কিছুই, কিভাবে সব যে কি হয়ে গেলো তাও জানে না, শহর নামেই কি তালগোল পাকানো কিছু, যা চর্মচ¶ে কিছু অনুমান করা যায় না।
পেটমোটা সিপাই খি¯ি—-খেউড় করে বললো, মাগীটা কোথায়, দে-না বাপ আমাকে মৌজ করি...
মঙ্গু বুঁনোশুয়োরের মতো ¶েপে ওঠে মুহূর্তে, কি লিবেক সিপাই...
আচমকা পেটমোটা সিপায়ের নেশা ছুটে যায়, লাল টকটকে চোখ দুটো চিমনির ভাটার মতো গনগনিয়ে জ্বলতে থাকে, শরীরের মদ্যে পৃথিবীর তাবৎ লাভা-অগ্নিগিরি টগবগিয়ে ফুটে উঠে। গগণবিদারী চিৎকার দিতেই আরো তিনজন সিপাই পরপর ঢোকে সেলের ভেতর, ওদের চোখেও জ্বলš— তাওয়ার উত্তাপ ঠিকরে বের“চ্ছে, বাতাস একটু-একটু থেমে যায় নাকি হঠাৎই থেমে গেছে বোঝা যায় না। গৌরী হারিয়ে ফেলে নিজেকে, কি কান্ড হতে যাচ্ছে বোঝে না, মুখের মধ্যে কেউ যেন বিশাল গামছা দিয়ে চেপে রাখে, কোনো শব্দ করতে দেবে না তাকে। ক্রমে-ক্রমে আলো ফুটে ওঠে কিন্তু সেই আলোকে সেলের ভেতর ঢুকতে দেবে না ওরা কেউ। অন্ধকার করে রাখতে চায়। একেক করে মঙ্গুর ওপর ঝাঁপটে পরে, পরপর লাথি মারে, মারে বুকে, এলোপাথারি মারতেই থাকে যেন বুকের ভেতর থেকে কলজেটাকে টেনে বের করে ছিঁড়ে ফেলবে, প্রতিবাদহীন গৌরীর অসাড় শরীর ছিঁড়ে খায় পেটমোটা সিপাই, তারপর উপযুপরি অর্থাৎ পালাক্রমে চলে পাষবিক নির্যাতন, গৌরীর কোনো সাড়া নেই, মরা মাছের চোখের মতো নিস্পলক চোখ দুটো কি খোঁজে কিছুই জানে না।
সেঁচাবাঁশের বেড়ার ঘরটা চোখে ভাসে, গ্রামের বাড়িতে তারা যখন ছিলো, তখনও তো তাদের সামনে পাষবিক অত্যাচারের ভয়াল প্রাচীর চোখ বের করে দাঁড়িয়ে ছিলো, শিবু-ঝনটু-নিতাই-গঙ্গা-ফটকে সবাই ঈষাৎ চোখে তাকিয়ে দেখতো তখন, গৌরীর ডাসা শরীরের মধ্যে কতোখানি মধু আছে, তাই নিয়ে কতো গবেষণা কতো গাল-গল্প কতো খি¯ি—-খেউর ছুটে বেড়াতো সাতগাঁয়ে, মঙ্গুকে ভালোবেসে ধর্মীয় বিধান মতো গলায় মালা পড়েছে এতে আবার কার কি! চাষার“ মঙ্গু সাঁওতালের শরীরে যথেষ্ট তাগাদ আছে, মন বলে সু¶è একটা জিনিসও আছে, আর আছে অনেক-অনেক ¯^প্ন। কিন্তু গাঁয়ের মানুষগুলো মঙ্গুকে গাঁয়ে থাকতে দেয়নি, সামš— বেনিয়াদের দাদন-ব্যবসা তামাম দীণদরিদ্র সাঁওতাল স¤প্রদায়কে নিস্পীষিত করে, সে সঙ্গে খাস জমি বন্দ্যেব্যবস্থা আইনের ম্যারপ্যাঁচে সর্ব¯^ খুইয়ে বসে নিঃ¯^ নিলিপ্ত প্রাšি—ক সাঁওতাল চাষী। ভাগীচাষীদেরও সেই তিমির অবস্থা, জোরদার সামš—দের নৃশংস দাদ্ভিকতার কাছে নতজানু হয় অভাবের করাল গ্রাসে সাঁওতাল সমাজের ভগ্নদেশ ভাগচাষী। মঙ্গু খাস জমি আইন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ওই ভাগবাঁটোয়ারা মেনে নিতে পারেনি, উদবিড়ালের মতো পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরার চিš—া চেড়ে ভয়াল নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েছে শ্রেণীশত্র“দের ওপর। উদ্বাস্তু নয় উচ্ছিষ্ঠ কোনো মামুলি কিছু নয়, তারা আপদম¯—ক এই ভূমির ভূমিপুত্র। সামš—দের শিকার, রোদে জ্বলা আগুনের শিখা,সাঁড়াশির ডগায় তবুও অর্নিবাণ জ্বলে ভূইফোঁড় ওইসব বেনিয়া রক্তবীজের প্রতিশোধের মো¶ম অগ্নিবান। কিন্তু সামš—দের সঙ্গে জোড় বাঁধে খে¶িয়া সাঁওতাল ব্যাপারী, পঞ্চনন-মনসাঙ্গন-মুন্দেজ্ঞান এবং তেড়িঙ্গানান, হাত শক্ত হয় বৈদেশিকদের, সঙ্গবদ্ধ হয়ে মঙ্গুর পেছনে কুত্তা লেলিয়ে দেয় অর্থাৎ রাতারাতি জনযুদ্ধের আসামী বলে থানাতে রিপোর্ট করে। কঠিন স্পাতের সঙ্গে যুদ্ধ করেও মঙ্গু দমে যায়নি অথচ সেদিন মাঝরাত্রে থানার লোকেরা ওদের বাড়িতে হানা দেয় আচমকা। কোনো না বুঝে নববিবাহিত বউ গৌরীকে এক-কাপড়ে নিয়ে পালিয়ে যায় গ্রাম থেকে গ্রামে আরো অনেক-অনেক দূরে, তারপর অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এই শহরে আ¯—ানা গড়ে তোলে। জীবনের নানান খুচরোখাচরা কষ্ট ভুলে যায়, জীবনকে অন্যভাবে অন্য রকম করে ভাবতে শেখে, গৌরীও যেন জীবনের আরেক জীবন, মঙ্গু যেন গৌরীর শাঁখার নকসা অথবা সিঁদুরের জন্য সিঁথি, দুজনে অনেক-অনেক ভালোবাসতে জানে, পেছনের জীবনের খন্ড-খন্ড স্মৃতির রাশি কখন যে মন থেকে মুছে যায় ভাবেনি। চোখের সামনে বিশালায়তনের নীলাকাশ, হাতের মুঠোয় তুলে নেয় রাত্রের আকাশ থেকে গুচ্ছ-গুচ্ছ সফেদ শুভ্র জ্যোৎস্নার ফুলঝুড়ি। গৌরীর চোখে রাত্রি জাগা কতো ¯^প্ন, কতো মধুর স্মৃতি আর মঙ্গুর ভালোবাসা তারপর অন্যরকম কিছু।

আজ এই মুহূর্তে গৌরীর চোখে তামাম ছবি দুলে ওঠে বাতাসের তরঙ্গে ফুলে-ফুলে। সত্যিই কি মঙ্গু পরাজিত, গৌরী পরাজিত, জীবন-সংসারের মধ্যেখানে বিশাল ফারাক, তারপরও মানুষ কোথায় যায় কচ্ছপের মতো, খরগোস নিন্দ্রাচ্ছন্ন বলেই কি কচ্ছপ তার দ্রাঘিমা অতিক্রম করতে পারে, নাকি অন্য কোনো ইন্দ্রজালে আটকে যায় চরকা নাচনে, ধাঁধায় পড়ে কঠিন সময়।
লাথির পর লাথি খেয়ে মঙ্গু বিধ্ব¯—-সংবিৎ হারিয়ে একটা হিম পাথর যেন। চোখ দুটো আধবোঁজা হলেও পারে না বেনিয়া সমাজের হাত থেকে নিজেকে র¶া করতে প্রিয়তমা গৌরীকে ছিনিয়ে নিতে। চোখের মধ্যে ফারাক্কা ভেঙে প­াবণ, বুকের জলভারে সমানে ফুঁসছে, তারপরও সে অসার, কালমিন্দিরের চূড়ায় একটা কাক উড়ে এসে বসে, মঙ্গু দেখছে কিন্তু তীর-ধনুকে নিশানা ঠিক করতে পারে না। গৌরী সামš— প্রভূদের সময়ের হাতে বন্দি, বুকের মধ্যে আকুপাকু করে নিজের দেশ নিজের গ্রাম , মঙ্গুর জন্য হাঁসপুকুরিয়া গ্রাম ছেড়ে শহরমুখো যাত্রা, জীবন মানে কতো রকমের অংক, সাঁওতাল জাতিদের জীবন বলে কি শুধু মার খাওয়া পড়ে থেকে, শকুনের মতো মরা খুবলে-খুবলে খাচ্ছে সিপাইগুলো, ভীতসন্ত্র¯— গৌরী চোখের জলের উন্মুক্ত স্রোতে ভেসে যায় দিক নির্দেশনাহীন, আজ কি আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে, বর্ষার জলে ভিজে তাদের সেই গ্রাম হাঁসপুকুরিয়া আরো সতেজ এবং সবুজ হতো, সবুজের সমারোহে নিজেকে ভরিয়ে তুলতো অন্যরকম গৌরী করে, তারপর একদিন মঙ্গুর সঙ্গে চোখাচোখি এবং আড় চোখে তাকানো, নিজেকে তারপর আরেকটু সাজিয়ে তোলা, আরেকটু বর্ষায় কদমফুলের মতো জাগিয়ে রাখা।
নানান গাছের ছড়াছড়ির মধ্যে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা এবং সবুজ অরণ্যে ভেতর হারিয়ে যাওয়া। আজ সব কেমন নি¯ে—জ নিভূ-নিভূ চোখে মহুয়া রসের নেশার মতো মনে হলেও বুঝে পায় না, কেনো তাকে টেনে হ্যাঁচড়ে এখানে আনলো এরা, একটি বছরের সংসার,জরাজীর্ণ জীবনের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে গাঙচিলের মতো ডুবসাঁতার খেলা।
Ñও মাগীকে কোটে দিয়ে লাভ নেই ও¯—াদ, ওর নাঙকে কোটে...
Ñজব্বর কথা একখান, জনযুদ্ধের সর্দ্দার বলে রিপোর্ট করবো শালার নামে।
জনযুদ্ধের আসামী মঙ্গুকে কোথায় নিয়ে গেলো থানার লোকেরা, গৌরী জানতে পারেনি তারপরও, দুদিন হাজতে সিপাইদের কামভোগের পর জীবš— এক গৌরীকে ধ্বংসস্তুপকৃত লোকালয়ে ফেলে দিয়ে যায় কে বা কারা যেন, মেঘের ডাকাডাকিতে কান ঝাঁলাপালা হয়ে যায় ওর, বিধ্ব¯— শরীর নিয়ে কচ্ছপের মতো আ¯ে—-আ¯ে— হাঁটে সে, দূরের আকাশ তোলপার হয়ে ছুটে আসছে বুঁনো মোষের মতো তার সামনাসামনি কিন্তু সেই থির প্রবাহিত নদী যেন থেমে গেছে বাচড়া আর বনকুসুমের ঝোঁপে। মনে হয় গৌরীর চারপাশে সোঁদালি আর আকন্দফুলের ঝাঁড়, কোথায় যাবে সে জানে না, এদিক-সেদিকে বাঁশঝাড়, ওপাশে পানের বরোজ সার বেঁধে, নানান গাছের সমারোহের মধ্যে দিয়ে গৌরী হাঁটছে,বট-অশ্বথ জাম-কাঁঠাল-আম পাকুড়-সেগুন অশোক কদম অর্জূন রাঁধাচুঁড়া-কৃষ্ণচূড়া শিমুল-আমলকি সবেদা-ফলসা গাছের ছায়া ভরা আশ্রয়ে জলজ বন্যেবুড়োর ঝোঁপ, কুলগাছের মাথায় ¯^র্ণলতার ঝাঁড়, ভরা বর্ষায় হাঁসপুকুরিয়ার ¯^তন্ত্র সৌন্দর্য আরো বিকশিত, শুধু মঙ্গু নেই বলে চৈত্রের সুনসাম দুপুরের মতো গৌরীর বুকের ভেতরটা একেবারে ফাঁকা। তাপ উত্তাপ নেই, আনন্দ নেই, সব আনন্দ এবং ভালোবাসা যেন কারা চুরি করে নিয়ে গেছে কোথায়! বিষন্নতায় ছেয়ে যাচ্ছে বুক, চোখের ভেতর শূণ্যতা, বিড়বিড় করে শুধু গৌরী বলে, সামš—বাদ জিন্দাবাদ, দাদনব্যবসা জিন্দাবাদ...চোখের যবনিকায় তবু ভেসে আসে প্রশ¯— নদীর ছলছল কলবল করা ধ্বনি, উথালপাথাল বুকের ভেতরটা এখন নদী যেন, ওই নদীর বুকে খরা নেই, ফারাক্কা বাঁধের মতো নির্মম কোনো পাথর চেপে ধরেনি, নিজেকে নিয়ে নিরš—র সে ছুটে চলে, সজিব ও সবুজ একটা দেশ, একটা গ্রাম বড় বেশি মায়া ভরা আর জ্যোৎস্নায় সিক্ত, হাতছানি দিয়ে অবিরত ডাকছে।
আকাশে তখনো ভেজা জ্যোৎস্না, মেঘ সরে যাওয়ার পর বাঁকা চাঁদের হাসিটুকু ছড়িয়ে জ্যোৎস্নার সঙ্গে ছোট-ছোট তারকারা বাসর সাজিয়েছে, ঠান্ডা-ঠান্ডা একটু বাতাস। ঝোঁপে-ঝাড়ে জোনাকি মেয়েরা মিটিমিটি আলো---গৌরী কোথায় যাচ্ছে জানে না সে কিছুই, দূরে কুকুর ডাকছে অনবরত, নাগরিক ¯—ব্ধতা বিড়ালের পায়ে-পায়ে, পুলিশের গাড়ি ছুটে যায়, গৌরী নির্জন পৃথিবীর একটা সোপান। অন্ধকার শহরের ভেতর আরেক অন্ধকারের যাত্রী, কোথায় কে যেন ঘাঁপটি মেরে আছে, বিশ্বাস ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে, আচ্ছন্ন শরীর সূর্যা¯ে—র মতো রহস্যের কঠিন গভীরতায় ডুবে যায়, কেউ যেন ডাকছে, সুতীব্র চোখে শুধু বিস্ময়, ওরা অন্ধকার সমুদ্রের তলদেশে নিয়ে যায়, তারা খুবলে-খুবলে খায় শরীরের তাবৎ সৌন্দর্য, তারপর ছুঁড়ে ফেলে মুদ্রিত বর্ণমালার শব্দহীন গভীর বালিতে এবং প্রাগৈতিহাসিক চোরাবালিতে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement