একবুক দূরে, নীল স্বাতী নক্ষত্রের দেশ। আর সামনের দিকে পা বাড়ালেই আবহমানকালের সেই হৃদয় মোচড়ানো মাথাব্যথা এবং মরীচিকা। কলেজে আমার তখন কাকতাড়ুয়া তৃতীয়বর্ষ ; উপাসনা রায় আরো দু’বছরের পিছনের ঝোপের বিন্দুতে দাঁড়িয়ে দু’চোখে দ্বীপ রেখে লতা-পাতায় চিত্রার্পিতা হতে চায়।
এরপর থেকেই ক্রমশ দ্রুত মূর্তিমতী হয় ; নিঃসঙ্গতার নদী। সম্ভব হয় ; নক্ষত্র জয়। যখন— হঠাৎ একদিন আসে তার উড়ো আকাশে আমার নেমন্ত্রণ।
তখন, সে শরীর উপুর করা একটি পাতলা-নীল বর্ণচোরা খাতা। তখন, আমি খুব সহজেই— সেই খাতার পাতার উপর ভিনদেশী নৌকার মতো অনভিজ্ঞতার কাঁটা-কম্পাস নিঙড়ে নিজেকে ভাসাই।
সেই জলকন্যা তখন ঝর্ণামাপিক বৃষ্টিসমাচার হয়ে এতটাই বেপরোয়া কস্তূরীমৃগ ; তার উপদ্রুত অঞ্চলে পা না রেখেই আমি হই ইত্যাকার উত্তরীয়। যদিও লাইভ-কাস্ট ছায়াময় ঘরে সে সুগন্ধের মতো বর্ধিত অস্থির। বাতাসের বংশীঠোঁটে শুকনো পাতার মতো বারবার অবারিত উড়ে যায়। তবুও একদা— হঠাৎ বৃষ্টিতে হারিয়ে যায় সবুজ-জটিল উপত্যকা।
তারপর সময় সময়ের মণ্ডপে এসে ; ঘোর পিশাচী হয়। আজ মুখ ফিরিয়ে হাঁটে উপাসনা সান্যাল।
আমি আজো ভেসে থাকি ; হলুদ পাতামোড়া প্রচ্ছদের ভিতর ভাঙা চিড়-খাওয়া শব্দের না হয়ে ওঠা কিছু পঙ্তিমালায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
আখতারুজ্জামান সোহাগ
অসাধারণ শব্দচয়ন। কাকতাড়ুয়া তৃতীয়বর্ষ, লতা-পাতায় চিত্রার্পিতা হতে চায়, উড়ো আকাশে আমার নেমন্ত্রণ, এ রকম বেশ কিছু মন কাড়া শব্দের উপস্থাপন রয়েছে। বেশ লাগল।
শুভকামনা কবির জন্য।
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।