– ইদানিং রোজ রোজ, তুমি শুধু শুধু কেন আমার পিছন নিচ্ছো বলত ?
- শুধু শুধু পিছন নিচ্ছি, তোকে কে বলল ?
– তবে ?
– তুই, উড়ো মেঘ বুকে নিয়ে বেগার ঘুরে বেড়াছিস আর আমি চাই বৃষ্টি হোক।
– এছাড়া সারাদিন তোমার আর কোনো কাজকর্ম নেই ?
– না। আর থাকলেও করতাম না।
– ওঃ তাই ! প্রতিদিন এখানে-ওখানে এভাবে না দাঁড়িয়ে থেকে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে একটু সাহায্য করতে পারো তো !
– এখন তোর বদৌলতে সেটাই তো করছি।
– মানে ?
– মানেটা খুবই সহজ। বাড়ির এত কাজ এই বয়েসে মা আর একা একা সামলে উঠতে পারছে না ; হাজার হোক মায়ের বয়েসটাতো আর কম হল না ! আর তাছাড়া বাবাকেও সারাটাদিন কঠোর খাটা-খাটুনির পর বাইরে বেড়িয়ে উপযুক্ত ছেলের জন্য হন্যে হয়ে মেয়ে খুঁজে বেড়াতে হবে না। তা তুই আমাকে বিয়ে করবি তো ?
– আমার বয়েই গেছে তোমাকে বিয়ে করতে !
– দ্যাখ্‌ না করিস না। তাহলে আমি কিন্তু মরে যাবো।
– থাক্‌ থাক্‌ ! অনেক হয়েছে। আর অত বাহাদুরি দেখাতে হবে না। মরে যাবো ! মরতে পারবে ? একবার মরে গিয়ে দেখাও দেখি ! আর শোনো , ওসব মেয়ে ভোলানো নেকা নেকা কথা ছাড়ো। তার চেয়ে, আজ থেকে বরং একটা কাজের চেষ্টা কর। মাইনে অতবেশি না হলেও চলবে। শুধু দু’জনে মিলে যতটা সম্ভব কৃপণ হয়ে খরচ করবার পরেও যেন কিছুটা জমা হয়। সবকিছু বুঝতেই তো পারছো ? কয়েকদিন পর সদস্য সংখ্যা বাড়বে।
– বাবা ! দেখছি আগে থেকেই অনেককিছু ভেবে রেখেছিস।
– সে আর বলতে ! তোমাকে বিয়ে করব, আর আগে থেকে কিনা সামান্য এটুকুও ভাবব না ! এতটা কাঁচা মেয়ে আমাকে তুমি ভাবলে কি করে শুনি ?
– তলে তলে তাহলে এতদূর ? আচ্ছা , বিয়ের পর আমাকে কিভাবে ভালোবাসবি একটু বল ?
– একি ! তুমি আগাচ্ছো কেন ? দ্যাখো , আর আগাবেনা বলছি। চারপাশ থেকে লোকজনেরা আমাদেরকে দেখছে। বিয়ের আগে তুমি কিন্তু এসব কোনোকিছুই করতে পারবে না।
– কেন ? আমি আমার একমাত্র হবু বউকে আদর করব , ভালোবাসব এতে কে কি বলবে শুনি ? আর বললেও কে শুনছে !
– তুমি যাও। আমাকে এখনই এতটা ভালোবাসবার কোনো দরকার নেই। কি হল, যাও বলছি ! নাহলে আমি কিন্তু...
– কি করবি শুনি ?
– আমিও তোমাকে আদর করে ফেলব।
– এই শোন, পালাছিস কোথায় ? শুনে যা।
– আজ আর থাকতে পারবনা। রাত্রি হয়ে আসছে। বাড়িতে আবার জানাজানি হয়ে গেলে মুশকিল হবে। তুমি বরং কালকে আবার এসো। কখন, কোথায় দাঁড়াতে হবে সেসব নাহয় রাত্রিতে ফোনেতে বলে দেবো।