রূপা, এমন একটি বিখ্যাত-মায়াবি-মধুর নাম যা শোনামাত্রই আমাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ডিস্টাব হতে হয়। রূপা হল সেই মেয়েটা যার নামে আমার রক্তের ভিতর দ্রুত পুরুষ হয়ে ওঠার মতো সেইসব সুরভিত সুনামি আসে ; আর আমার বাহির-ভিতরজুড়ে সৃষ্টি হয় দারুণ দারুণ সানুনয় দুর্দশা। রূপা আমার সাতকাহন ভালোবাসার নাম। রূপা আমার পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই প্রবাস থেকে সংগ্রহ করা এক আকাশ খুশির ঠিকানা। রূপা হল দাঁতে দাঁত চেপে সকল ধরনের ধকল সইতে পারায় মহান মন্ত্র। সম্মোহনের অসমাপ্ত দুপুর ; চারদিক ছেয়ে, বহুদূর থেকে ছুটে আসা অসংখ্য খুশি ; অথৈ সোহাগব্যথা। রূপা, এমন একটি প্রস্ফূটিত লাজুক কমল যাকে হৃদয়ের ভিতরে অনেক দূর অব্দি বহুযত্ন করে রেখে তালা ঝুলিয়ে চাবিটিকে ফেলে দিই, বহুদূরের কোনো অজানা গ্রহে। রূপা এমন একটি হাইড্রোজের কবিরাজি নাম যার জন্য কতরকমভাবে বাঁচব ; আর বাঁচতে না পারলে সই, শুধু তার জন্যই খরস্রোতে খুব-খারাপভাবে মরব। সেই রূপার মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে থাকা রেশমি সুবাসই আমাকে সর্বদা বিভোর করে রাখে। এই রূপাই আমার সারাটাজীবনের সবটুকু বানভাসি কামনা-বাসনা
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ২৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৫৪

বিচারক স্কোরঃ ১.৫৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - ভ্যালেন্টাইন (ফেব্রুয়ারী ২০১৯)

কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিল।
ভ্যালেন্টাইন

সংখ্যা

মোট ভোট ১০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৫৪

সুব্রত সামন্ত

comment ৫  favorite ০  import_contacts ৫৪৬
সারাদিন নানান দরকারে চারিদিকে নানাভাবে ছুটে বেড়ানো এই আমি
আর ঘর ও হেসেলের টুকিটাকি প্রাত্যহিক কাজে ক্রমান্বয়ে গম্ভীর হয়ে থাকা রূপা ;
আবার আদিমাত্রার সারি সারি হাই এবং হ্যালোর মধ্যে ফিরে এলাম।
কেননা, বৃষ্টি আমাদের ফিরতে বাধ্য করেছিল।

কাল চক্রান্ত করা এক আকাশ কাকভেজা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরেছিলাম।
কাল রূপার টিমটিমে গন্ধভরা আঁচলে মাথা মোছার সেইসব যাবতীয়-অভিজাত সৌভাগ্যটুকু
আবার আমার হয়েছিল।
রূপা তার ব্যস্ত মৌলিক সময় থেকে সময় বের করে
চাল ধোওয়া ইমনকল্যাণ হাতের মজুত পদ্মরাগে
আমার মাথা আর গা মুছিয়ে দিয়েছিল।
আর অনতিদূরের আরো অন্যান্য সমবেত কিংবদন্তীদের ডেকে নিয়ে এসে
আমার নিসর্গের মৃগতৃষ্ণাকে তুলনামূলকভাবে তুমুল জাগিয়ে তুলেছিল।
আমি দীর্ঘ প্রবাসী ঢঙে তার অধিক নরম মুখের দিকে
বহুক্ষণ গুঁড়ি গুঁড়ি তাকিয়ে থেকে
তার ঠোঁটের ফার্স্ট ফ্লোরে পড়ে থাকা জমকালো তিলটাকে মুষলধারে দেখছিলাম ;
আর ত্রিকালের ঘরানায় বিপযর্স্ত হয়ে ইচ্ছেমতো ঢেউ ভাঙছিলাম।
রূপা আবার বহুপুরাতন হওয়া কথাকে নতুন করে খনন করে বলেছিল
‘এভাবে হ্যাংলার মতো তাকিয়ে তাকিয়ে কি দেখছ ?’
আমি তাকে মুখস্থ করা আন্তর্জাতিক ছড়ার মতো দু’বাহুতে
প্রবল বেপরোয়াভাবে জড়িয়ে নিয়ে একটি মানত করা গভীর-পাকাপুক্ত আলিঙ্গনের মধ্যে
হৃদয়ের বাতি জ্বালিয়ে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলাম।

কেননা, কাল রাতের সমস্ত আকাশ, চাঁদ, তারা
আমাদের সাথে বিস্তারিতভাবে মাতাল হয়ে রাত জেগেছিল।
কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিল।
আর সেই সুবাদে—
রাতারাতি বহুকিছু ডাকাতি হওয়াকেও একসাথে পরম-অভিন্ন-সুখে
চুপ করে মেনে নিতে হয়েছিল।
আসন ত্যাগের আগে পর্যন্ত
যথারীতি ফুল ও কাঁটার মধ্যে অচিরেই বুক পেতে দিয়ে
একে অপরকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হয়েছিল।
এবং এ সময় পৃথিবীর সমস্ত অন্তর্গত প্রেমিক-প্রেমিকারা
যেইসব হৃদয়ভরা লক্ষ-কোটি-নিযুত অপরাধ করে থাকে ;
আমাদেরকেও এক এক করে সবকটা করতে হয়েছিল।
কেননা, কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিল।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement