সারাদিন নানান দরকারে চারিদিকে নানাভাবে ছুটে বেড়ানো এই আমি
আর ঘর ও হেসেলের টুকিটাকি প্রাত্যহিক কাজে ক্রমান্বয়ে গম্ভীর হয়ে থাকা রূপা ;
আবার আদিমাত্রার সারি সারি হাই এবং হ্যালোর মধ্যে ফিরে এলাম।
কেননা, বৃষ্টি আমাদের ফিরতে বাধ্য করেছিল।

কাল চক্রান্ত করা এক আকাশ কাকভেজা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরেছিলাম।
কাল রূপার টিমটিমে গন্ধভরা আঁচলে মাথা মোছার সেইসব যাবতীয়-অভিজাত সৌভাগ্যটুকু
আবার আমার হয়েছিল।
রূপা তার ব্যস্ত মৌলিক সময় থেকে সময় বের করে
চাল ধোওয়া ইমনকল্যাণ হাতের মজুত পদ্মরাগে
আমার মাথা আর গা মুছিয়ে দিয়েছিল।
আর অনতিদূরের আরো অন্যান্য সমবেত কিংবদন্তীদের ডেকে নিয়ে এসে
আমার নিসর্গের মৃগতৃষ্ণাকে তুলনামূলকভাবে তুমুল জাগিয়ে তুলেছিল।
আমি দীর্ঘ প্রবাসী ঢঙে তার অধিক নরম মুখের দিকে
বহুক্ষণ গুঁড়ি গুঁড়ি তাকিয়ে থেকে
তার ঠোঁটের ফার্স্ট ফ্লোরে পড়ে থাকা জমকালো তিলটাকে মুষলধারে দেখছিলাম ;
আর ত্রিকালের ঘরানায় বিপযর্স্ত হয়ে ইচ্ছেমতো ঢেউ ভাঙছিলাম।
রূপা আবার বহুপুরাতন হওয়া কথাকে নতুন করে খনন করে বলেছিল
‘এভাবে হ্যাংলার মতো তাকিয়ে তাকিয়ে কি দেখছ ?’
আমি তাকে মুখস্থ করা আন্তর্জাতিক ছড়ার মতো দু’বাহুতে
প্রবল বেপরোয়াভাবে জড়িয়ে নিয়ে একটি মানত করা গভীর-পাকাপুক্ত আলিঙ্গনের মধ্যে
হৃদয়ের বাতি জ্বালিয়ে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলাম।

কেননা, কাল রাতের সমস্ত আকাশ, চাঁদ, তারা
আমাদের সাথে বিস্তারিতভাবে মাতাল হয়ে রাত জেগেছিল।
কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিল।
আর সেই সুবাদে—
রাতারাতি বহুকিছু ডাকাতি হওয়াকেও একসাথে পরম-অভিন্ন-সুখে
চুপ করে মেনে নিতে হয়েছিল।
আসন ত্যাগের আগে পর্যন্ত
যথারীতি ফুল ও কাঁটার মধ্যে অচিরেই বুক পেতে দিয়ে
একে অপরকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হয়েছিল।
এবং এ সময় পৃথিবীর সমস্ত অন্তর্গত প্রেমিক-প্রেমিকারা
যেইসব হৃদয়ভরা লক্ষ-কোটি-নিযুত অপরাধ করে থাকে ;
আমাদেরকেও এক এক করে সবকটা করতে হয়েছিল।
কেননা, কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিল।