কৈশোর
তোমাকে পেরিয়ে যৌবনে সীমানায়
আমি এখন দুর্দান্ত পুরুষ
দুমড়ে মুষড়ে একাকার করার আকাঙ্খা বাহুতে অহর্নিশ
কিন্তু তুমি পেয়েছো যেরকম
এখানে এখন সেরকম খেলার মাঠ নেই
কাকতাড়ুয়ার হাতে নাইলনের রশি বেধে
ধানের জালা ফেলা জমির এককোণে বসে টিন পেটানের সেই জমিটি
এখন চাপা পড়েছে বিশাল অট্টালিকার নীচে
ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জোয়ার জলে জাল ফেলে
মাছ ধরার সেই মাটিয়াল খাল এখন বিশাল নর্দমায়
মরে ভুত হয়ে গেছে কারখানার কালো বর্জে।
এবার আমাকে প্রশ্ন করো কৈশোর, আমি কেমন আছি…
আমার কাটা গায়ের ঘা’য়ে না হয় একবার লাগাও লবন
তোমার মতো উচ্ছলতায় এখন ইচ্ছে হলেই
দৌড়ে যেতে পারিনা জমির আ’ল ধরে
‘শফি কন্ট্রাকটরের খামার বাড়ী’,
চিংড়ি ঘেরের থাবায় উজাড় হয়েছে কেওড়া বন সেই কবে
ভেড়িবাঁধের ঘাসের সবুজ কার্পেট মোড়া পাড় নেই
কেওড়ার শ্বাসমুল ‍উঠা সমুদ্র পাড়ের ম্যানগ্রোভের ছোঁয়াটা নেই
হলুদ মঞ্জরীতে দোলো বাবলাকাঁটার ঝুলে থাকা ডালও নেই,
অসংখ্য বস্তির উচ্ছিষ্ঠ মলে ভরপুর ভেড়িবাঁধে
আমি এখন পড়ে থাকা যেন পরিত্যক্ত সুবোধ আবেগ
কৈশোর- তুমিতো ভালোই ছিলে
কেমন আছি, আমাকে প্রশ্ন করোনা কৈশোর…।