‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ কে আসলে আমরা জানি বা বুঝে নিয়েছি ‘ভালবাসা দিবস’ হিসেবেই। এটা আসলে আমাদের কৃষ্টিতে কোন বিশেষ দিবস হিসেবে নেই। তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলা দিনটি বাংলাদেশেও যেন ভালবাসার উষ্ণ পরশ ছড়িয়ে দেয় প্রেমিক-প্রেমিকাদের মাঝে। তাই ভালবাসাটাই আসল উপজীব্য এটার কোন বহিঃপ্রকাশ নাই শুধু ‍প্রিয় মানুষটাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর অকাঙ্খাটা ছাড়া। সেরকমই ভালবাসার অভিব্যক্তি প্রিয় মানুষটার কাছে বলতে না পারার কষ্টে ভিন্ন উপায়ে আসলে প্রিয় মানুষটি তাকে ভালবাসে কিনা সেটা জানার একটা উপায় খোঁজে আমার এই গল্প -‘ভালবাসে, ভালবাসে না...
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৪১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৩

বিচারক স্কোরঃ ২.০৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভ্যালেন্টাইন (ফেব্রুয়ারী ২০১৯)

ভালবাসে, ভালবাসে না...
ভ্যালেন্টাইন

সংখ্যা

মোট ভোট ১৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৩

কাজী জাহাঙ্গীর

comment ৮  favorite ০  import_contacts ১৭৬
এক.
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট শেষ হতে না হতেই একটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে গেল সোহেল।তাই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে সব ক্লাসমেটদের একসাথে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া, রেজাল্টের আগ পয্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুনঃ পুনঃ মিলিত হয়ে আনন্দে মাতোয়ার হওয়া, এসব থেকে যেন ছিটকে পড়ল সোহেল। কাছের যে কজন বন্ধু, যাদের সাথে এখনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে, তারা যখন খবর দেয় আজ এখানে কাল ওখানে সবাই একত্রিত হচ্ছে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কোন বিশেষ দিবসের অনু্ষ্ঠানে সবাই মজা করে সময় কাটাচ্ছে তখন সোহেল খুবই আনমনা হয়ে যায়। বন্ধুদের সকলকে সে খুব মিস করতে থাকে আর তার অপারগতার কথা ভেবেও নিজের ভিতরে সংকুচিত হতে থাকে।চাকরির ব্যস্ততার কারনে সকল বন্ধুদের সাথে মিলিত হতে না পারার বেদনাটা মাঝে মাঝে আপসোসের কালো দস্তানা হয়ে যেন তাকে আঁকড়ে ধরে রাখে।
বিশেষ করে শেষ পর্বে তার স্পেশাল সাবজেক্ট এর টিমমেট তিতাস’র চেহারাটা যখন চোখের পাতায় ভেসে উঠে তখন সে যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়ে যায়। মনে হয় তার চাহনিটা এখনও তাকে চোখে চোখে হাতছানি দেয় ফিরে যেতে ফেলে আসা দিনে। অফিস থেকে ফেরার পর বন্ধুদের সাথে তোলা ছবিভর্তি পুরোনো এলবামগুলো একের পর হাতড়াতে থাকে সে। তিতাসের চোহারাটা দেখার জন্য যখন মনটা আকুলি-বিকুলি করতে থাকে তখন খুব কাছে থেকে তোলা তিতাসের ছবিগুলো পরপর রিডিং টেবিলের বুকপ্লেটের উপর ফেলে রেখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শুধু, কখনো ঘরের এমাথা ওমাথা পায়চারি করতে থাকলেও চোখগুলো লেপ্টে থাকে বুকপ্লেটে ছড়িয়ে রাখা তিতাসের ছবি গুলোর উপর। কখনো দুর থেকে, কখনো ছবির উপর উপুড় হয়ে ঝুকে নির্নিমেষ হয়ে থাকে যেন তিতাসকে পরখ করছে খুব কাছে এসে।

দুই.
অনার্স থেকে মাষ্টার্স পয্যন্ত সেশন জটের কারনে অযাচিত ভাবে দীর্ঘ্য হওয়া একটা বিশাল সময়ের পথ পাড়ি দিয়েছে সোহেল তিতাসের সাথে। ষোলশহর রেলষ্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ষ্টেশন পর্যন্ত পাশাপাশি সিটে বসে বা কখনো ট্রেনের বগির পাদানিতেও পাশাপাশি বসে ভার্সিটি ট্রেন সাভিসের গায়কদল ককপিট’র ‘অভিমানি তুমি কোথায় হারিয়ে গেছ….’গানটি শুনতে শুনতে ভার্সিটি যাওয়া, অথবা আর্টস ফ্যাকাল্টির দিকে মুখ করে থাকা ঝুপরি দোকানের সামনের জারুল তলায় বসে পোটলা ভাগাভাগি করে খাওয়ার সেই নষ্টালজিক স্মৃতিগুলো হদয়ের চাকতিটাকে যেন এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় তার।
সোহেল অনেকবারই খুব গভীর করে ভাবতে চেষ্টা করেছে তিতাসের আচরণকে, তাকে নিয়ে তিতাস কিছু ভেবেছে বা ভাবছে কিনা।পড়ালেখার সেই তুখোড় সময়ে ভালোলাগালাগির এসব ভাবনা কখনো সোহেলকে বিদ্ধ করেনি। খুব কাছের একজন বন্ধু বা স্বজনের মত তিতাস সোহেলের সাথে উঠবস করেছে, আড্ডা দিয়েছে, হাসি কান্না ভাগাভাগি করেছে, ক্লাসনোট নিয়েও যথেষ্ঠ সহযোগির ভুমিকা পালন করেছে মেয়েটি। তিতাসকে যে সে এত পছন্দ করে সেটা ঘুর্নাক্ষরেও কখনো ভাবেনি সোহেল। তবে মাঝে মাঝে কোন কারনে ভার্সিটিতে না গেলে অনুভুত হতো যে অনেকদিন যেন বন্ধুদের দেখতে পায়নি সে। কিন্তু সবাইকে ছেড়ে যখন একাকি পুরোদস্তুর একজন কর্মজীবি হয়ে গেল তখন থেকেই আস্তে আস্তে টের পেতে লাগলো তিতাসকে পছন্দ করে সোহেল বা তিতাসকে ক্ষনে ক্ষনে খুব কাছে থেকে দেখতে ইচ্ছে করে তার। নিজেকে নিজে অনেক প্রশ্নবানে জর্জরিত করে শেষ পয্যন্ত একটা চুড়ান্ত প্রশ্নে নিজেকে নতুন করে মুখোমুখি করার প্রয়াসে আয়নার সামনে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করার মতো নিজের কাছে নিজেই জানতে চাইল তবে কি তিতাসকে ভালবেসে ফেলেছে সে ?
নাহলে তিতাসের ছবিগুলো দেখে কেনইবা তার কছে এত মায়াবী মনে হবে। কেনইবা সেই নয়ন যুগলের কোমল চাহনি হাতছানি হয়ে ক্ষনে ক্ষনে নিঃসঙ্গ বেলায়, অলস দুপুরে, কমলা গোধুলীর আস্তরনে অথবা কুয়াশা ঘেরা চাঁদনিতে বারবার কাঁপুনি জাগাবে অন্তরে তার।
এটা কি ভালবাসা ? এই প্রশ্নটা দিনরাত সোহেল কে জর্জরিত করে চলে, একটা মুহুর্তও যেন প্রশ্নটা থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারেনা সে আর চোখের কোন থেকে তিতাসের ছবিগুলোকে কিছুতেই সরাতে পারে না।ইচ্ছে করে যখন তখন তিতাসের কাছে ছুটে যায়। এত বছর একসাথে থেকে যে কথা বলতে পারেনি এক্ষুনি সে কথাটা তিতাসের কানে কানে বলে আসে সে।কিন্তু এটা কী করে সম্ভব। হাজারো কাছের বন্ধু হলেও একজন মেয়ে বন্ধুর বাসায় হুট করে কি উপস্থিত হওয়া যায় ? হয়তো বা যায়, তুবুও একটা দ্বিধার দোলচালে মনটা ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে তার। তিতাসের বাসায় যাবে বলে ঘর থেকে বেরুলেও মাঝপথ থেকে সেই সংকোচটা অসম্ভব রকমের তীব্রতায় পিছন থেকে টেনে ধরে সোহেলকে।এক পা এগোয়ত দু’পা পিছিয়ে যায় তার।এই সংকোচটার কালো হাত তাকে আঁকড়ে থাকার কারনে তিতাসের দুয়ারে এসেও ফিরে আসে আবার।
তবে কি কোনদিনই সোহেল তার মনের কথাটা উচ্চারণ করতে পারবেনা তিতাসের সামনে। এসব এলোমেলো ভা্বতে ভাবতে ১১২সি মেহেদীবাগ থেকে বেরিয়ে ষোলশহর দু’নম্বর গেটে যাওয়ার পথে না গিয়ে হঠাৎ বামে মোড় ঘুরে যায় তার। গোলপাহাড় থেকে রিকশাটা ঘুরিয়ে দিয়ে এম এম আলী রোড় ধরে সোজা ম্যনোলা হিলের সামনে ফুলের দোকান ফ্রাওয়ার আইল্যান্ড়ের সামনে চলে আসে সে।রিকশা থেকে নেমে ফুটপাতের দেবদারুটার নিচে দাঁড়ায়। কতক্ষণ এদিক ওদিক তাকালেও কানের কাছে পড় পড় করে দেবদারু’র সুচালো পাতাগুলোতে দক্ষিণা হাওয়ার শব্দ বেজে উঠে।ইচ্ছে করেই পাতাগুলোকে আদর করার মত করে আলতো করে হাত বুলাতে থাকে। মনের ভেতর তার একটা বোঝাপড়া হওয়ার উত্তাল অবস্থা। এরকম সময়েই মনের ভেতর তার সাথে উপহাস করে ভাষ্মর বন্দোপধ্যায়ের দরাজ কন্ঠের কেউ একজন যেন আবৃত্তি করে চলে-
“মুহু্র্তটা কী যে চমৎকার
দেবদারুর পাতা আর দক্ষিণা হাওয়া
পরস্পরের মাঝে কী য়ে মাখামাখি,
অথচ আমার চোখ দুটি সেই কবে থেকে বিড় বিড় করে
তুবু কোন শব্দেরই রা’ নেই
একটা কথা বলবো বলে তোমার কাছে
যার শব্দগুলো দেবদারু’র পাতার মতো, দুজনের অন্তরের পাপড়িতে জাগাবে দোলা
অনেক সাহস করে দাঁড়াতে চাই সম্মুখে
কিন্তু পরক্ষনেই ভুলে যাই কী বলতে চেয়েছিলাম
আসলে আমি কি আর আছি আমার মাঝে ? নাকি বিলিন হয়ে গেছি অন্য কোনখানে…”

ফ্লাওয়ার আইল্যান্ডের সেলফে রাখা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত একটা বড় আকারের হাইব্রিড গোলাপের দিকে দৃষ্টি পড়তেই ধাতস্থ হয়ে যায় সোহেল। কল্পনার শিল্পকলা থেকে বাস্তবের নির্জন ফুটপাত ধরে হাটতে হাটতে এসে দাঁড়ায় সেই গোলাপের কাছে। মনে পড়ে আগামীকাল আটই এপ্রিল নিজের জন্মদিন তার। ব্যস্ত কোলাহলে ভরা ব্যাচেলর জীবনে কারো অভিন্ন্দন পাওয়ার কথা না ভেবেই হাতটা চলে যায় সেই গোলাপের দিকে।
তিন.
সকালের ফিল্ড ওয়া্র্ক শেষে আজ একটু আগে ভাগেই বাসায় ফিরেছে সোহেল। রান্না পর্বটা আগে থেকেই সেরে রাখে কাজের বুয়া। শরীরের উপর আজ অনেক ধকল গেছে। একটা জম্পেস গোসল দিয়ে তারপর দুপুরের খাবার, অতঃপর পুনরায় অফিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা, নিত্যদিনের এই হল রুটিন। আর অফিসের কাজ শেষে আবার মাঠে নেমে পড়া। তারপর একটানা রাত দশটা পয্যন্ত মাঠেই বিচরণ। ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানিগুলোর বিপনন প্রতিনিধিদের এটাই নিত্যদিনের কর্মভ্যাস। জন্মদিন হলেও কাজে ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই, তাই দুপুরের খাবার সেরে অলসভাবে খবরের কাগজটা উল্টাচ্ছিল সোহেল বিকেলের সেশনে বেরুবার আগে হাতে থাকা সময়টাতে। এরই মধ্যে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। দরজায় কে জানতে চাইলেও কোন উত্তর পাওয়া যায় না। পরপর কয়েকবার কড়ার আওয়াজ শুনে ‘শালার ভিক্ষুকের জ্বালায় একটু আরাম করে বসতেও পারলাম না’ বলে অগত্যা দরজা খুলল সোহেল।
কিন্তু দরজা খুলেত চক্ষু চড়াকগাছ তার। নিজেকে যেন বিশ্বাস হল না সোহেলের। তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে তিতাস ? তীব্র একটা ঝাকুনি খেয়ে হতচকিত হওয়া শরীরটা কেমন যেন শীতল হয়ে পড়েছে তার।কী বলবে তার কোন হদিস খুজে পাচ্ছে না সে, শুধু স্তব্দতায় দাঁড়িয়ে থেকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া এইমুহুর্তে তার করার কিছুই নাই বলে মনে হল। তিতাসের চোখের দিকে তাকিয়ে মিনিট দু’য়েক যাওয়ার পরই মুখ দিয়ে বেরুল - তুমি ?
বলেই এলোমেলো অগোছালো কাপড় এদিক ওদিক থেকে সরাতে শুরু করল সোহেল।তিতাস দুয়ারে দাড়িয়েই রুমের ভিতরের দিকে তার ছুটাছুটি দেখল কয়েক মিনিট তারপর বলে উঠল-
- এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তাই ভাবলাম তোমার বাসাটা খুজে দেখি পাই কিনা।
দুমাস আগে তিতাসদের বাসায় দেখা হয়েছিল। তিতাসকে বসতে দিতে দিতে তার মস্তিষ্কের কোষগুলো বলছিল যেন, দু’মাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে তিতাসের। এত মায়াবী চাহনির একোন তিতাস আজ চোখের সামনে। তিতাসের কথা শুনেই যেন ভাবনাটা থামলো তার।
-আরে এত ব্যস্ত হয়ে পড়লে যে, আমি বসেছি তো।
আসলেই তিতাসের উপস্থিতিতে সোহেল একেবারেই হতচকিত হয়ে পড়েছে, যেন হিতাহিত জ্ঞানশুন্য একজন। সে অফিসের ব্যাগ গোছাতে থাকে।শুধু তিতাসকে এটুকু বলল যে-
-তো কী খবর, কেমনে এলে ?
হয়তো তিতাসও বুঝতে পেরেছে হঠাৎ তার উপস্থিতিতে সোহেলের নাড়ীর অবস্থা কী তখন।সে জিজ্ঞেস করল-
-অফিসে যাবে ?
-হাঁ, বিকেল চারটায় অফিসে যেতে হয় একবার, তারপর ফিল্ডে।
এরপর পাগলাটা কেমনে যেন বলে ফেলল- বল কী খাবে ?
-না না কিছু খাবো না। সেই যে নতুন বাসার ঠিকানাটা দিয়ে এসেছিলে, এক আত্মীয়ের বাসায় এসেছিলাম এদিকে। ভাবলাম দেখি তোমাকে উদ্ধার করা যায় কিনা ।
-আমাকে উদ্ধার ?
-হাঁ, তোমার বাসা মানে তোমাকেই তো।
সোহেল মুখে কিছু বলতে পারে না।কিন্তু ভাবনার ঘুনপোকাগুলো আবার তাদের কাজ শুরু করে দেয়।তারা যেন বলতে থাকে, ঠিকই আমাকেই উদ্ধার করতে এসেছে। যাকে ভেবে ভেবে প্রতিটি মুহুর্ত এলোমেলো হয়ে যায় তার, ঘর, আসবাব সবই নিত্য এলোমেলো ভাবে পড়ে থেকে শাসায় তাকে, সে যদি খোঁজ নিতে আসে সেটাকে উদ্ধারইত বলা যায়। তবুও আনমনে সোহেল অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে।এধরনের একটা রোমান্টিক মুহুর্তকে ফেলে দিয়ে আজ অফিসে না গেলে কী হয় ?পাগলটার মাথায় কিছু ঢোকেনা।
যাকে একটা কথা বলার জন্য হৃদপিন্ডের এত উত্থান পতন, তাকে কাছে পেয়েও, সময় না দিয়ে সে নাকি অফিসে যাবে।ব্রীফকেসটা গুছিয়ে রেথে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই বাধা দেয় তিতাস।
-না থাক, বাসাটা চিনে গেলাম।আবার আসলে খেতে দিও।চল তোমার দেরি হয়ে যাবে।
তিতাসের চেহারাতে যেন কোন বিরক্তিরই ছাপ নেই, বরঞ্চ সোহেলের শিশুবৎসল বালখিল্যতা দেখে সে ঠোঁটে ঠোঁটে হাসে যেন। কথা শেষ করেই উঠে দাঁড়ায় তিতাস।হাবলা চোখে আবারো পাগলটা চোখাচোখি হয়ে থাকে মিনিটখানেক কিছু বলতে পারেনা, তার ইতস্ততাটা প্রকট হয়ে উঠে। সিদ্ধান্ত নিতে পারে না অফিসে যাবে না তিতাসকে সাথে নিয়ে বেরুবে। পরিস্থিতি দেখে তিতাসিই সোহেল তাগাদা দিযে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। কোন রকম বাক্য ব্যয় ছাড়াই সোহেল তিতাসের পিছু পিছু বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়।একটা রিকশা ঠিক করে তিতাসকে তুলে দেয়।হাত নেড়ে বিদায় দেওয়ার পর সোহেলের যেন আর পা চলে না। হঠাৎ বোধোদয় হয় তার, মনে মনে প্রলাপ বকতে থাকে- এ আমি কী করলাম…
তিতাসকে বহনকারী রিকশাটা অদৃশ্য হয়ে যায় আস্তে আস্তে। সোহেল ভাবতে থাকে ভালোলাগার, ভালবাসার মানুষটাকে এত কাছে পেয়েও কিছুই বলা হলনা, কিছুই জানা হলো না তার। তার এই অপারাগতার ক্ষোভে যেন গোধুলীটা আরো রক্তিম হয়ে আসে। অফিসের সময় গড়িয়ে যায়। কি ভেবে যেন সোহেল ব্রীফকেসের ভিতরে হাত গলিয়ে কাল রাতে কেনা সেই গোলাপটা বের করে আনে। তার পর প্রথমে আলতো করে তার উপর হাত বোলাতে থাকে, অতপর সিদ্ধান্ত নেয় গোলাপের পাপড়ি বিসর্জন দিয়ে সে পরীক্ষা করবে তিতাস আসলে তাকে ভালবাসে নাকি ভালবাসে না। বাসা থেকে বের হওয়া গলির মুখে প্রসস্থ ফুটপাতে দাড়িয়ে বড় গোলাপটার একটা একটা করে পাপড়ি ছিড়তে থাকে সে। পায়ের দিকে তার একবারও চোখ পড়ে না, ব্রীফকেসটাও পড়ে থাকে মাটিতে। গোলাপের পাপড়িগুলোয় লালচে হয়ে যায় তার চারপাশটা।সে শুধু জানতে চায় শেষ পাপড়িটা কী বলে তাকে। তিতাস কি ভালবাসে তাকে নাকি ভালবাসে না।গুনে গুনে ছিড়ার মত একটা পাপড়ি ছিড়ে আর মুখে অস্ফুট শব্দ বেরোয় ‘ভালবাসে’, আরেকটা পাপড়ি ছিড়ে শব্দ বেরোয ‘ভালবাসে না’। মাটির উপর ছড়িয়ে পড়তে থাকে একেকটা পাপড়ি।
-ভালবাসে, ভালবাসে না। ভালবাসে, ভালবাসে না। ভালবাসে, ভালবাসেনা…

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement