লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ এপ্রিল ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ৩৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশ্রম (মে ২০১৫)

হাড়
শ্রম

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১৩

হাসান ইমতি

comment ৩  favorite ০  import_contacts ১,৭৩৭
বাবা, এই হাড়গুলো কাদের ?

এগুলো প্যালিওলিথিক যুগের পুরুষ মানুষের হাড় ।

প্যালিওলিথিক যুগ কি বাবা ?

প্যালিওলিথিক যুগ হল আদি প্রস্তর যুগ, যে যুগে মানুষ মূলত পাথরের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে শিকারের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো ।

এই হাড়গুলো এতো বড় বড় আর মোটা মোটা কেন ? এখানে শুধু পুরুষ মানুষের হাড় কেন, মহিলা ও শিশুদের হাড় কোথায় ?

আদি প্রস্তর যুগের মানুষ খুব পরিশ্রমী ও শক্তিশালী ছিল তাই তাদের হাড় এতো বড় আর মোটা । এগুলো বেশীরভাগ শক্তিশালী পুরুষের হাড়, নারী ও শিশুদের হাড় সময়ের বিবর্তনে ক্ষয়ে ফসিল হয়ে গেছে ।

মাঝ খানের হাড়টি সবচেয়ে মোটা আর বড় কেন ?

ঐ হাড়টি সম্ভবত কোন গোত্রপতি বা দলনেতার, ঐ যুগে নিয়ম ছিল কোন গোত্রে যে সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী সে গোত্রের দলপতি হবে । সেজন্য ঐ হাড়টি সব হাড়ের চেয়ে বড় আর মোটা ।

পাশের শোকেসের ঐ হাড়গুলো কাদের বাবা ?

এগুলো নিওলিথিক যুগের মানুষের হাড় । প্যালিওলিথিক বা আদি প্রস্তর যুগ থেকে চাষাবাদ ও পশুপালনের সূচনার মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতা প্রবেশ করে নব্য প্রস্তর বা নিওলিথিক যুগে । কৃষিকাজের বিস্তারের সাথে সাথে বেশিরভাগ মানুষ যাযাবর জীবনযাত্রা ত্যাগ করে স্থায়ী বসবাস ও কৃষিনির্ভর জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করে। তবে কিছু সমাজে যাযাবর জীবনব্যবস্থা রয়ে যায়, বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল ও যেখানে আবাদযোগ্য উদ্ভিদ প্রজাতির অভাব রয়েছে। কৃষি থেকে প্রাপ্ত খাদ্য-নিরাপত্তা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদন এর ফলে গোষ্টীগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে আরও বড় সামাজিক প্রতিষ্টানের জন্ম দেয় । যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও এক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

এখানে সব হাড় গুলো এক রকমের কেন, এই যুগে কি কোন গোত্রপতি ছিল না ?

এই যুগে কৃষির উন্নতির সাথে সাথে সমাজে শ্রমভিত্তিক শ্রেণী বিভেদের সৃষ্টি হয় । শ্রমভিত্তিক শ্রেণীবিভাগের পথ ধরে সমাজে সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্চ, মধ্য ও সুবিধা বঞ্চিত নিম্নশ্রেণীর উন্মেষ ঘটে ও শহরগুলো গড়ে উঠে । এই যুগে প্যালিওলিথিক যুগের মত নেতৃত্ব কেবল শারীরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা সক্ষমতার উপর নির্ভরশীল ছিল না, নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করতো শ্রেণী বিভাজিত সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্চশ্রেণী । এই যুগের গড় পড়তা মানুষের শারীরিক গঠন একই রকম ছিল বলেই হাড়গুলোও একই রকমের ।



ঐ উল্টা দিকের শোকেসের হাড়গুলো কাদের বাবা ?

ওগুলো আধুনিক যুগের মানুষের । নিওলিথিক যুগে শ্রমভিত্তিক শ্রেণীবিভেদের ফলে সমাজে নানাবিধ জটিলতা বৃদ্ধিতে লেখন ও হিসাব পদ্ধতির উদ্ভব হয় এবং হ্রদ ও নদী তীরবর্তী সুবিধাজনক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সভ্যতা গড়ে উঠে । এর মধ্যে উন্নতি ও উৎকর্ষতার দিক দিয়ে মেসোপটেমিয়ার সভ্যতা, মিশরের নীলনদ তীরবর্তী সভ্যতা ও সিন্ধু সভ্যতা ছিল উল্লেখ্যযোগ্য । মানব সভ্যতার বিবর্তনকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, ইসলামী স্বর্ণযুগ ও ইউরোপীয় রেনেসাঁ । আধুনিক যুগের সূচনাকাল ধরা হয় পঞ্চদশ শতক হতে অষ্টাদশ শতকের শেষ পর্যন্ত যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপের আলোকিত যুগ । শিল্প বিপ্লব হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত আধুনিক কাল বলে বিবেচিত। ।

আধুনিক যুগের মানুষদের মাধ্যে কিছু হাড় এতো দুর্বল ও হালকা কেন ?

ঐ দুর্বল ও হালকা হাড়গুলো আধুনিক যুগের সমাজপতি বা নেতাদের আর সবল ও সুগঠিত হাড়গুলো সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের । শ্রেণীবিভাজিত আধুনিক যুগে সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্চশ্রেণীর বেশীরভাগ মানুষ কায়িক শ্রমকে এড়িয়ে গিয়ে ভোগ বিলাসে লিপ্ত হয়ে পড়ে । জীবিকা নির্বাহের অজুহাতে কায়িক শ্রম চাপিয়ে দেয়া হয় ভাগ্য বঞ্চিত সাধারণ মানুষের উপর তাই এ যুগের বেশীরভাগ সমাজপতি ও নেতাদের শরীর এ যুগের পরিশ্রমী ও সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ মানুষের মত সুগঠিত হয় না । এই বৈষম্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে আধুনিক মানুষের হাড় ।

মানব সভ্যতা তাহলে আধুনিক হল কি ভাবে, এই হাড়ের যাদুঘরে হাড় দেখে তো বোঝা যাচ্ছে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবনতি হয়েছে ?

এই উন্নতি হল জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি । প্রস্তর যুগ থেকে সে জ্ঞান বিজ্ঞানে আধুনিক হয়েছে ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়তো হয়েছে, কিন্তু এই হাড়গুলো তো সাক্ষ্য দিচ্ছে মানুষ হিসাবে তার আত্মিক ও শারীরিক অবনমন হয়েছে ।




advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement