লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ জানুয়ারী ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

সেই সাইকেলওয়ালা মেয়েটি
পূর্ণতা

সংখ্যা

মোট ভোট ১৬ প্রাপ্ত পয়েন্ট

মাহাদী সাগর

comment ৭  favorite ০  import_contacts ১,০৫২
আজ হিমার চোখে লাজুক-লাজুক ভাব। একদিন যেই হিমার কাছে যেতে টিকিট কাটা লাগত তিন দিন আগে থেকে, ফন্দি আটা লাগত সাত দিন ধরে, হিমার স্কুলে যাওয়ার পথে বসে থাকতে হতো দিনের পর দিন। সেই হিমা আজকে আমার খুব কাছের একজন। হিমার জন্য ক্লাসে তিন বার ফেল, চাকরি চলে যাওয়া, তবুও মনে হত হিমা আমার থেকে অনেক দুরে। কিন্তু আজ সেই ছোট্ট হিমাকে বড় করে পেয়েছি। আজ সে আমার ঘরে বধূ সেজে এসেছে। এটাই আমার ভালবাসার 'পূণর্তা'।

হিমাকে যখন প্রথম দেখি , তখন ক্লাস সেভনে পড়ে। ওর রনি মামার বিয়ে উপলক্ষে মামা বাড়ি আসে। আমাদের বাড়ির কাছেই ওর মামা বাড়ি। হিমা খুব সুন্দর সাইকেল চালাতে পারত। একদিন রনি মামার সাইকেলটা নিয়ে হিমা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। হিমার অবাক কান্ড দেখে সবাই ছি...ছি...... করতে লাগল।বুড়োরা বলেই ফেলল, মেয়ে মানুষ আবার সাইকেল চালায় নাকি! সাইকেলের পেছনে মেয়েদের বসাও পাপ। যে যাই বলুক, শহরের মেয়ে হিমা কিছু মনে না করে আপন মনে সাইকেল চালাতে লাগল। সবাই হিমাকে আড় চোখে দেখলেও, আমার কাছে খুব সুন্দর লাগত।কিছুদিন পরে হিমা আবার শহরে চলে গেল। অচিন পাখি লুকিয়ে-লুকিয়ে চলে গেল গন্তব্যে, রেখে গেল কিছু কাদানো স্মৃতি। খুজতে-খুজতে আমার জীবনের দু’টি বছর পার হয়ে গেল, তবুও খুজে পাই নি “সেই সাইকেলওয়ালা মেয়েটি”।

হিমার অদৃশ্য প্রেমে পরে এক ক্লাসে ফেল করলাম একটানা তিনবার।আধার রাতে প্রদিপ নিভানো দেখে বাবা আমাকে শহরের একটি কলেজে ভর্তি করে দিলেন। কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়ার কিছু দিন পরে ছোট্ট একটা চাকরি জুটে গেল।কেটে গেল আরও দুটি বছর।হিমাকে একদম ভুলেই গেছি। অফিসে যাওয়ার সময় গড়িতে দাড়নো হঠাৎ দেখি সিটে বসা একটি পরিচিত মুখ।মুখটি চিনতে দেরি হল না চার বছর আগে দেখা “সেই সাইকেলওয়ালা মেয়েটি”।


কয়েক দিনের মধ্যে মেয়েটির সাথে ভাব জমিয়ে ফেললাম।দ্বিতীয় পরিচয়ে তার নাম জানতে পারলাম ‘হিমা’। হিমার জন্য আমার দির্ঘ দিনের প্রয়াসের কথা ব্যক্ত করলাম।হিমার সাথে পার্কে বেড়াতে যেতাম। নিয়মিত অফিস করা হত না, অফিসের কাজে ফাঁকি দেওয়ায়। একদিন আমার চাকরিটা চলে গেল।ভাঙ্গা তরী ডাঙ্গা খুজে পল না। টাকার অভাবে আমাকে বাড়ি ফিরতে হল।হিমা হারিয়ে গেল জীবন থেকে।

নিঃসঙ্গ জীবন কাটানো ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।হিমার কথা স্মরণ করে লুকিয়ে-লুকিয়ে চোখের জল ফেলতাম দিন-রাত।আমার জীবনের অপূর্ণতায়, পূর্ণতা নিয়ে ঊদিত হল স্বপ্নের রবি। নদীর জল শূকাতে লাগল, ভেসে উঠল ডুবো তরী। হঠাৎ এক জোৎস্না রাতে লাল পেড়ে শাড়ী পড়ে এক রমণী এসে আমার পাশে বসল। আমার হাতটি চেপে ধরে বলল, আমি এসেছি।এই আগন্তুক অন্য কেউ নয়, সে আমার ভালভাসার সেই সাইকেলওয়ালা মেয়েটি - হিমা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement