এক গ্রীষ্মের কাল বৈশাখে আমার দেশের
তপ্ত মাটির সাথে মেঘ মালতীর এক পলক দেখা হয়ে যায়,
প্রথম দেখায় দু’জন দু’জনকে পছন্দ করলেও
একটু পরেই যে যার পথে হারায়।

তারপর থেকে মৃত্তিকা মহাশয় মেঘ মালতীকে
খুঁজে খুঁজে খুব ক্লান্ত হয়ে দ্রোহের আগুনে ফেটে পড়ে,
মেঘ মালতীও মাটির আলসেমি দেখে মুখ গোমড়া করে
কালো হয়ে আকাশের গায়ে জমতে থাকে,
মেঘ তো জানতোনা যে মাটি মহাশয় নড়তে পারে না
প্রেমিকের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেই ভালবাসার কথা জানায়
ঠিক বর্ষার প্রথম দিনে।

যখন মেঘ মাটির কষ্ট বুঝতে পারে
তখন মেঘ তার এত দিনের জমে থাকা অশ্রু দিয়ে
তপ্ত মাটির ফাটল গুলো মুছে দেয় নিজ হাতে ।

একসময় নীল আকাশের সাদা মেঘের সাথে
সিক্ত মাটির প্রেম চলতে থাকে কাশ বনের অলিতে গলিতে;

তারপর মাটি তার ফল-ফলাদি দিয়ে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করে
মেঘ মালতীকে প্রথম বারের মত তার বাড়িতে দাওয়াত করে,
কিন্তু না, মেঘ মালতীর শাশুড়ি শীতের বুড়ি একমাত্র ছেলের প্রেমিকাকে
মেনে নিতে অপারগতা পোষণ করে,পুরো পৃথিবী কে অনুরোধ করে
কুয়াশার বলয় দিয়ে মাটিকে বেষ্টন করে রাখতে ।

মেঘ ও মাটির কষ্ট দেখে কুয়াশা লজ্জা পেয়ে
ক্ষমা চেয়ে নিজে সাক্ষী হয়ে ওদের বিয়ের আয়োজন করে;

অবশেষে মেঘ ও মাটি কোকিলের সাথে ফাগুনের গান গাইতে গাইতে
হারিয়ে যায় বাংলা বর্ষ পঞ্জিকার পাতায় ।

ঠিক এভাবেই সমাপ্তি ঘটে আমার বাংলা আমার দেশ
আমার মায়ের পুরো একটি বছর ।