লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ এপ্রিল ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৬৩টি

সমন্বিত স্কোর

২.৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকোমলতা (জুলাই ২০১৫)

কোমল পরশ
কোমলতা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৯

দীপঙ্কর বেরা

comment ৫  favorite ০  import_contacts ৯২৯
বিনীতা সবই মুখ বুজে মেনে নেয় । এ ছাড়া আর উপায় কি ? সংসারে শ্রম আর মন প্রাণ দিয়ে আগলে রাখার কোন দাম নেই । যে আয় উপায় করে আনে সেইই সব । তার হুকুমে ভুল কি ঠিক ভাবার দরকার নেই ।
যেটুকু সম্পত্তি শ্বশুর মশাই রেখে গেছেন তাতে ভালই চলে যায় । আরো বেশি আধুনিক খিদে সূরজের থেকে রিক আর রবেলা ভালই শিখে নিয়েছে । ফলে খরচ বাড়ছে আর ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ও জরুরী । কিন্তু তাতে বিনীতার জায়গা কোথায় ? রবেলা বেরনো সময়ও আজকাল বলে বেরয় না ।
অথচ যেই শেবন গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং বন্ধুত্বের সাথে চালাকিতে রবেলাকে ব্যবহার করেছিল তখন বিনীতাকে বলেছিল । নিজের মেয়ে ভুল করেছে । সামলে নিয়ে শেবন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের উচিত শিক্ষা দিয়েছিল যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে । সে কথা বাড়ির কেউ জানে না । সূরজকে বলে বিরক্তও করতে চায় । অফিসের চাপ আর সংসার আরো সচ্ছলে ব্যতিব্যস্ত । তবুও আজ বলে বসল – তোমার জন্য ছেলেমেয়েরা গোল্লায় গেল । সারাদিন ঘরে বসে বসে এ টুকু খেয়াল রাখতে পার না ।
সংসারে সকাল থেকে উঠে ঘরে বাইরে কাজের শেষ নেই যা মনে রেখে বলাও সম্ভব নয় তার কি না হিসেব দিতে হবে । আর সবচেয়ে কোমল জায়গা ছেলেমেয়েকে নিয়েই কথা শুরু হয় । এর আগে ছিল বাপের বাড়ি । বোন দুটোর বিয়ে হয়ে গেছে ভাইটাও কাজ পেয়েছে । ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই কাজে সূরজের হাত ছিল । তার কথাও শুনতে হয় । আর এখন রিক । ভিডিও গেমের ভূত মাথা থেকে ছাড়িয়েছে বিনীতা নানান ভাবে জীবনের লোভ দেখিয়ে । সূরজের মত হঠাৎ ক্ষেপে গিয়ে ছেলেকে যাই তাই বললে ছেলেও বিপথে চলে যেত । রাতে রিক ফেরেনি ফোন বন্ধ । আর সমস্ত দোষ গিয়ে পড়ল বিনীতার উপর । কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিল কিন্তু তার উপর জোর দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে তাই চুপ বিনীতা । আর তার জন্য কত কি তুলে রবেলার সামনেই চিৎকার ।

মাঝ রাতে বিনীতার চোখে জল । সংসারটা কি বিনীতার নয় । আয় করে দুমুঠো খাওয়ার জোগান দেয় তাই হুকুম । হৃদয়ের কোমল জায়গায় আঘাত করে । মেয়ে হয়ে জন্মটাই কি বৃথা ।
আর রিক । কি করে মাকে ভুলে গেল ? তার জন্য সূরজ সেই বিয়ের পরে বাপের বাড়িতে কি ভুল , কোথায় বেড়াতে গিয়ে কি লস , ছেলেমেয়ের কিসে ঠিক শিক্ষা আর সাথে বংশ পরিচয় – ঝগড়া আর বীভৎস হত , কিন্তু নেহাতই ভদ্রতা আর নিজের সংসার ভেবে বিনীতা চুপই ছিল । রাতের অল্প অল্প মেঘ ভরা আকাশ সীমাহীন তাই চোখের জলও বাঁধ মানছে না ।
হঠাৎ কাঁধের কাছে গরম নিশ্বাস । চোখের জল মোছার আগে হাত টেনে নেয় সূরজ । দুটো চেয়ার এনে বারান্দায় বসে । হাতে হাত রেখে বলে – রিক আমাদের ছেলে কোন ভুল করতেই পারে না । আমরা আমাদের দিক থেকে ওকে বিচার করলে সংসারে ওরাও বা এগিয়ে যাবে কি করে । আর তোমার উপর যদি আমার এটুকু অধিকার না থাকে তাহলে জীবন চিনব কি করে ?
সূরজকে এভাবে এত বছরে কখনও দেখেনি বিনীতা । একে অপরের কোমল জায়গাগুলো না চিনে কেবল নিজের আঘাতে কোমল বিশ্লেষণ করে সংসার ভুল ব্যাখ্যায় চলে যায় । আকাশের নীরব চাঁদের মত একটুখানি পাশে বসেই সূরজ বিনীতাকে কত কথাই বলেছিল সে সব কোমল হৃদয় কথা আকাশও শুনতে পায় নি ।
কিন্তু মাটি শুনতে পেয়েছিল । পরদিন রিক ফিরেছিল । সূরজ অফিসে গিয়েছিল । আর রবেলা আরো উচ্ছল আগামীতে এগিয়ে গিয়েছিল ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement