স্বাধীনতার কবিতা লিখতে এখন ভয় হয়!
কখন আবার স্বাধীনতার বিরোধী নর-পশুরা
যুদ্ধ ঘোষণা দিয়া দেয়,
কখন আবার তাজা রক্ত দিয়া দেশটারে
অপবিত্র কইরা পালায়!

আমাগো মরণের ভয় নাই!
ভয় শুধু-
ঐ নর-পশুরা যদি দেশটারে আবার রক্তে গোসল করাইয়া দেয়
আবার যদি রক্তের চাপ লেগে থাকে এই এই বাংলার মাটিতে
আবার যদি কোন মায়ের কোল খালী হয়
আবার যদি হামাগুড়ি দেয় শিশু তার রক্তাক্ত মা-বাবার মৃত দেহে
আবার যদি আমার মা-বোনের ইজ্জত নিয়া টানাটানি শুরু করে,
-শুধু এই ভয়টা তাড়া করে সারাক্ষণ!

৭১রে’তো অনেক রক্ত দিয়া দেশটারে পবিত্র রাখছি,
দেশের ইজ্জত রক্ষা করছি,
কিন্তু তার বিনিময়ে কি পেলাম?
...কিছুই পেলাম না।

আজ স্বাধীনতার উৎসব হয়, কিন্তু স্বাধীনতার গল্প হয় না!

যারা এদেশের জন্য লড়াই করেছে মৃত্যুর সাথে,
যাদের গায়ে মিশে আছে বারুদের গন্ধ,
যারা হাত ভিজাই ছিলো সঙ্গির বুকের তাজা রক্তে
দাপন দিয়ে ছিলো প্রিয় জনের রক্তমাখা মৃত দেহ!

যারা স্বাধীনতার পতাকা এঁকে ছিলো জীবন দিয়া
আর আমরা তা রক্ষা করতে পারিনাই,
দু’একটা শকুনের বাচ্চারা এই দেশে থাইকা
দেশটারে ধ্বংশ করতো চাই,
কখন ছোঁবল মারবো সে আশায়
চারদিকে ঘুর ঘুর করতাছে,
আর আমরা তার প্রতিবাদ করতে পারিনা!

পারতাম- যদি ওদের ডোলের বাজনে আমরা না নাচতাম,
তাহলে ওদের রক্ত দিয়া দেশটারে গোসল করাইতাম,
দেশটারে পবিত্র করে-
আবার লিখতাম, আমার সোনার বাংলা কবিতা।