লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ মার্চ ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভ্রমণ কাহীনি (নভেম্বর ২০১৬)

ভৈরবে একদিন
ভ্রমণ কাহীনি

সংখ্যা

Nasima Khan

comment ২  favorite ১  import_contacts ৩১৮
মা গঙ্গার মত নামী দামী নয়, সাধারণ এক নদী ভৈরব । যার পাদদেশে গড়ে উঠেছে শিল্প নগরী খুলনা । সেবার শীতে আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নিলাম, নদী ভ্রমণে বের হবো । মানে আমি আর কুহেলী । ভৈরব একটি শান্ত নদী, কেবল বর্ষায় এ কিছুটা উনমত্ত হয়ে পড়ে । আমরা ভৈরব নদীর ত্রী মোহনা খালিশপুরের বীপরিতে শ্মাশান ঘেষে কুলা পাটগাতী হয়ে গাজীপুর অবধী যাবো, তাও কীনা রাতে । গা ছম ছম করা রাত । শ্মশানে রাতের বেলা আইলে জ্বলে, যাদের মুখ দিয়ে আগুন ঝরে, শ্মশানে মড়ার খুলি বাতাসে ওড়ে । নদীর দুপাশে বিরান । জনমানবহীন জায়গা। আর ডাকাতের সুখ্যাতিও আছে ।
কুহেলীকে নিয়ে আল্লাহর নামে নৌকাতে উঠলাম, সঙ্গে রহিম মাঝি । রহিম মাঝির চোখ দুটি মদ খাওয়া মানুষের মত লাল থাকে । তাকালেই কেমন ঘেন্নায় গা ঘিন ঘিন করে ওঠে । অন্য কোনো মাঝি রাজি না হওয়ায় রহিম মিয়ার স্মরনাপন্ন হলাম । রহিম মিয়া বললো,- আজ ভরা পূর্ণীমা, নদীর চরে পরীরা আসবে স্নান করতে ।
কুহেলী বললো,- এই শীতে কী পরিরা গোসল করে ?
করে আপা, করে, মানুষ দেখলেই ঝাপ দিয়ে নৌকার গলুই ধরে নৌকায় উঠে পড়ে ।
কুহেলী দমবার পাত্রী নয়, বললো,- দেখো রহিম মিয়া ভয় দেখাবার অনেক সময় পাবে, দিনের বেলায় শোলপুরের ঘাটে বসে ভুতের গল্প করো, এখন একদম চুপ থাকবা । না হলে আমিই তোকে খাইয়া ফেলবো ।
গা আমারই ছম ছম করে উঠলো,- একী কুহেলী, না অন্য কেউ । সন্দেহ দোলা দিলো মনে ।
রহিম মিয়া কুল দিয়ে নৌকা বাইছে, শ্মশানের পাশে আসতেই বললো,- এখনই ওই বট গাছটায় ঝড় উঠবো ।
কুহেলী বললো,- আমার হাতের ইশারায় ঝড় থাইমা যাইবো হারামী, তুই নৌকা চালা ।

রহিম মিয়া একটু খানি হতবাক হয়ে তাকালো, তারপর নৌকা থামিয়ে লাফ দিয়ে শোলপুর শ্মশান ঘাটে নেমে পড়লো ।
কুহেলী আমার কানের কাছে ফিসফিস অরে বললো,- রহিম মাঝি আসেনি, এসেছে একটা ভুত । চলো আমরা নৌকা নিয়ে ফিরে যায় ।
কী বলো ফিরে যাবো ! এডভাঞ্চার রোমান্স, কিছুইতো হলো না ।
রহিম মিয়া তার চকচকে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বললো, এক লাগছিলো খুব, আপাই যাবেন, ঐ খানে যান। আন্ধারে কেউ নাই, কেবল বট গাছটার ধারে যাইয়েন না ।
রহিম মিয়ার আচমকা আগমনে আমি হতচকিত হলাম । মুহুরতে এক সেরে চলে এলো ?
কুহেলী বললো,- না, আমারে তুই মাঝ দরিয়াই নিয়া চল তোদের দুই জনকেই খাবো । আমি জ্ঞান হারালাম, রহিম মিয়া লাফ দিয়ে নদীতে পড়ে বাবারে মারে চেচাতে লাগলো । জ্ঞান ফিরলে দেখলাম, কুহেলী আমার চোখে মুখে পানি দিচ্ছে আর বলছে, ফানও বোঝো না, বীর বাহাদুরম ভয় প্যে জ্ঞান গেলো, আর তোমার ঐ পালোয়ান মাঝি নদীতেই গেছে বুঝি, চলো আর নৌকা ভ্রমনে কাওজ নেই, বাড়ী ফিরে চলি ।
আমি সভয়ে তাকিয়ে বললাম, চলো ফিরেই যাই ।
কুহেলী ফকির হাটের মেয়ে নৌকা থেকে গাছে ওঠা সব পারে । দিব্যি নৌকার হাল ধরলো । ঝিরি ঝিরি বাতাস বইছে নদীতে । ঝপাত ঝপাত করে বৈঠা ফেলছে কুহেলী । ঐ যে ঘাট দেখা যায় । রহিম মাঝি সাঁতরাচ্ছে আর চিল্লাচ্ছে ভাইজান , আমারে নিয়া যান ।
কুহেলীর কোনো দিকে কান নেই সে দ্রুত নৌকা নিয়ে ঘাটে এলো । পাঁচ মিনিটের নৌকা ভ্রমন । কিন্তু আমার আজও মনে পড়লে গায়ে কাটা দেয় ।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement