লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৬
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

৬.২৮

বিচারক স্কোরঃ ৪.০৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftইচ্ছা (জুলাই ২০১৩)

স্বপ্নের বাড়ী
ইচ্ছা

সংখ্যা

মোট ভোট ৫৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৬.২৮

বিদিশা চট্টপাধ্যায়

comment ৪৮  favorite ০  import_contacts ১,৯৩৫
শেষ রাতে ট্রেনটা হুইসেল দিতে দিতে চলে গেল। বিছানায় উঠে বসলেন অনিমাদেবী। আজকাল কিছুতেই আর তেমন ঘুম হয় না। খনে খনেই ওঠেন। জল খান। ফের শুতে যান। এক একদিন এমন হয় যে সারারাত প্রায় জেগেই কাটান। সবাই ঘুমিয়ে গেলে অন্ধকারে বাড়ীটাকে কেমন কুহকে ঘেরা বলে মনে হয়। ধীর পায়ে থেমে থেমে সারা বাড়ীর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। সেই সব সময়ে বড্ড সুবিনয়ের স্মৃতি নাড়া দিয়ে যায়। আজকাল এই স্মৃতিই তো তার বাঁচার সম্বল। তার বিছানার পাশেই জানলাটা। বিছানায় উঠে বসলেই প্ল্যাটফর্ম দেখা যায়। জনমানবহীন আলোকিত প্ল্যাটফর্ম দেখে মনে হয় কত না রহস্য রোমাঞ্চ আছে ও পারে। এক আধটা মানুষও মাঝেসাঝে চোখে পড়ে। আজকেই যেমন স্টেশনের পাগলীটাকে দেখতে পাচ্ছেন। তারই মত বুঝি ইনসোমনিয়ায় ভোগে। কেমন একা একা ভূতের মত ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনিমার এই বেশ লাগে। ঘরে বসেই সে পৃথিবীর কত টুকরো টুকরো ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকে। অথচ প্রথম যখন সুবিনয় স্টেশনের কাছে জমিটা কিনেছিলেন কত রাগই না দেখিয়েছিলেন অনিমা। বাড়ি করার কথা তো চিন্তাই করতে পারতেন না।কিন্তু সময় সময়ের মত বয়ে গেল। সংসারের দায়ভার-করন-কারন- কর্তব্য পালন করে ,ছেলেমেয়ের লেখাপড়া সামলে আর অন্য কোথাও জমি কেনা হল কই? শেষকালটায় সুবিনয় ছটফট করতেন মাথার ওপর একটা স্থায়ী ছাতের জন্য।অনিমার মনেও যে নিজের একটা বসতবাড়ির রঙিন প্রজাপতিটা উড়ে উড়ে বেড়াতো না তা নয়। তবে সে যে মা। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা অগ্রাধিকার পায়। মেয়ে,সৃজার বিয়ে যাবতীয় এল আই সির টাকা থেকে হয়েছিল। ছেলে,শীর্ষর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্যাপিটেশান ফী প্রভিডেন্ট ফাণ্ড থেকে নেওয়া হল। পরে বাড়ি করার জন্য লোন নিয়েছিলেন সুবিনয়। তখন মাত্র আর পাঁচ বছর চাকরি বাকি। ভীষণ রাগ হয়েছিল অনিমার। তাদের বুড়ো বয়স নেই! বয়সকালে তো অসুখবিসুখ লেগেই থাকে। একবার নারসিং হোমে ঢুকলে মোটা মোটা টাকা বেরিয়ে যায়। কিন্তু সুবিনয়ের এত তীব্র ইচ্ছে ছিল নিজে দাঁড়িয়ে থেকে একটা বাড়ি বানানোর যে শেষকালটায় আর না বলতে পারেননি অনিমা।এই অত্যাধুনিক বাড়ি বানাতে বেশ মোটা টাকাই খসেছিল সুবিনয়ের। কিন্তু বাড়ীর মেঝেতে মার্বেল বসাতে আর সব ঘরে টাইলস বসানোর পয়সাটা যে কোত্থেকে এসেছিল তা আজও এক জটিল ধাঁধাঁর মত অনিমার মাথায় ঘুরপাক খায়।সংসারের হিসেব-পত্তর জমাখরচ সব তার নখদর্পণে।

নিজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অথচ একটা ভাড়া বাড়ীতে পড়ে আছে------এই ক্ষোভটা প্রায়শই শুনত সুবিনয়ের মুখে। একতলা হলেও একটা বাড়ি বানাব ----এত তীব্র ছিল এই আকাঙ্ক্ষা ,তাই হয়তো সংসার খরচ বাঁচিয়ে কোন ব্যাঙ্কে বা পোস্টাফিসে চোরাগোপ্তা টাকা জমাত। অথবা কোন রেকারিং হবেও বা। এর সদুত্তর আর কখনই পাওয়া সম্ভব হবে না। মানুষটার সাথে এই উত্তর চলে গেছে কোন অতীতের গর্ভস্তলে।
অনিমার কাছে এই স্মৃতি রোমন্থনের সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে সুবিনয়ের ডায়রি।


আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে উঠলেন। বালিশের তলায় একটা পেনসিল ব্যাটারির টর্চ থাকে। সেটা জ্বেলে খাট সংলগ্ন ক্যাবিনেটটা খুললেন । নেভি ব্লু ফোমের মলাট। আলতো করে সেটা ছুঁয়ে দেখলেন। প্রায়ই তিনি এমন করেন। হাত দিয়ে স্পর্শ করেন। বুকের মাঝে রাখেন। কিন্তু পড়তে ইচ্ছে করে না। বড্ড কষ্ট হয়। হুড়মুড় করে কোলাজের মত কত দৃশ্যাবলী চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে মনটা আজ বড় উতলা হয়ে উঠেছে। ঐ ডায়রি যেন টানছে। না জানি অনিমার অগোচরে সুবিনয় কি কি লিপিবদ্ধ করে গেছেন!
অবশেষে ডায়রির একটা পাতা খুললেন।
“অ্যাট লাস্ট লোনটা স্যাংশান হল। বাড়ীর কলাম তোলা এর আগেই অবশ্য হয়ে গিয়েছে। “
সময়টা যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।পড়ন্ত রোদে ধান খেতের আলপথ দিয়ে স্মৃতির সরণী বয়ে চলেছে। সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় আরো কটা পাতা ফতফত করে উল্টে গেল।অনিমা ফের চোখ রাখলেন ডায়রির পাতায়।
“আজকে অজিতেশ এসে বাড়ীটা দেখে যাওয়াতে এত আনন্দ হল! সাউথ ক্যালকাটার পশ এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। তবু তার মুখেও সেই একই কথা---নিজে প্ল্যান করে, খুঁটিনাটি দেখে বাড়ী তৈরির মধ্যে যে সৃষ্টির আনন্দ তার সত্যিই তুলনা হয় না।
---- লোকের বাড়ী বানাই অথচ নিজের একটা নিভৃত নিরালা যেন হয়ে ওঠে না!
----যা বলেছিস।
----আরে তোর তো আশি লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট।
-----ফ্ল্যাট আর নিজের বাড়ী কি এক হল রে!যত ফ্ল্যাট আর এপার্টমেন্ট দেখবি, সব জানবি একপ্রকার বড়োলোকদের বস্তি।ওতে কোন সুখ নেই রে! শুনতেই ভাল। এই যে বাড়ীর সামনে এক চিলতে ফুলের বাগান,পেছনে এক ফালি সবজি খেত---এ তুই পাবি কোথায়? কেমন নধর বেগুন,টোম্যাটো ফলে রয়েছে দেখ দেখি! সবুজ সবুজ পুঁইডাঁটা যে কতদিন দেখিনি তার ইয়ত্তা নেই। এ সব্জির স্বাদই আলাদা। আর বাজারের মালে তো সব পেস্টিসাইড আর কি ছাই পাঁশ সার দিয়ে তার গুনাগুন সব মাটি করে দিয়েছে। কোন স্বাদই পাইনা খাবারে আজকাল!”
অনিমার মনে পড়ল অজিতেশ ঠাকুরপোকে তিনি নিজে রেঁধে বেড়ে খাইয়েছিলেন সেবার। সরু চালের ভাত, শুক্তো, সবজি দিয়ে মটর ডাল,বেগুন ভাজা , পুঁইডাঁটা দিয়ে কাঁটা চচ্চরি, পাবদা মাছের রসা আর টোম্যাটোর চাটনি। এত তৃপ্তি করে খেয়েছিলেন অজিতেশ ঠাকুরপো! সেই পরিতৃপ্তির মুখ যেন আজও ভুস করে স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠে। রান্নার হাতটাও নেহাত মন্দ ছিল না অনিমার।
তখন প্রায় আসতেন অজিতেশ ঠাকুরপো। এখন অনিমার মত তিনিও বাতে কাবু। হাঁটাচলা যেন বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেঁচে থাকাটাই শাস্তি। সুবিনয় কেমন ফাঁকি দিয়ে তাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এক ভদ্রলোক এসেছিলেন অজিতেশ ঠাকুরপোর সাথে। কি যেন নাম বলেছিলেন? এদান্তি আর যেন চট করে কিছু মনেও পড়ে না। শরীরের সাথে সাথে স্মৃতিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথচ দিন কাটে সেই অতীতের টুকরো টুকরো ঘটনা প্রবাহের আবর্তেই। ঐ ভদ্রলোক অজিতেশ ঠাকুরপোর সাথে নার্সিং হোমেও এসেছিলেন সুবিনয়কে দেখতে। উনি মুখে তখন মাস্ক পড়ে এসেছিলেন। এসেই অজিতেশ ঠাকুরপো তাকে বাইরে নিয়ে এলেন। বললেন,

----আমার বন্ধু রইল। চল বৌঠান, তোমায় একটু খাইয়ে আনি। এই দুদিনেই মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে।
বাইরে বেরিয়ে এক প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান থেকে কচুরি-তরকারি, মিষ্টি আর চা খাইয়ে আনলেন। কাচের স্লাইডিং ডোর ঠেলে কেবিনে ঢোকার সময় নিজে কানে শুনেছিলেন সুবিনয় বলছেন,
----- নিজেকে অপরাধী ভাব্বেন না। আমাকে সুযোগ দিয়ে কত বড় উপকার করেছেন আমার তা আপনি জানেন না।
----কি যে বলছেন। আমায় প্রান দিয়েছেন। আমার জন্যই নাকি এ দশা হল আপনার---এই ভাবনা আমায় কুরে কুরে খায়।
-----এ ভবিতব্য। এ নিয়তি। কারো কিছু করার নেই।আপনার বদান্যতায় আমার অপূর্ণ সাধ পুরন হয়েছে। আর আপনি কিনা---
অনিমাকে দেখেই থেমে যান সুবিনয়। পরে এক আধবার জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা যে করেনি অনিমা তা নয়। সুবিনয় কেবলই বলত,
---বড্ড কষ্ট হচ্ছে গো কথা বলতে। এখন নয়।
এখন নয় তো কখনোই নয়। কিডনি ফেল করে গেছিল। এখানেও কেমন একটা ধোঁয়াশা লাগতো অনিমার । একটা আড়াল- আবডাল , ফিসফাস তিনি টের পেতেন। কিন্তু তখন মানসিক ভাবে এত বিপর্যস্ত যে অত তলিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল না। ডাক্তার একরকম জবাব দিয়ে দিয়েছেন। শেষের দুটো দিন অজিতেশ ঠাকুরপো, ছেলে,মেয়ে-জামাই কেউ তাকে যেতে দিত না। তারপর তো............।
অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল অনিমার। থম মেরে বসে রইলেন খানিক।ফের দু চারটে ডায়রির পাতা ওলটালেন।
“কেন যে আবার সেই স্বপ্নটা ফিরে এল? আমি ছুটে চলেছি। খোলা আকাশের নিচে শুধু ছুটছি আর ছুটছি । ঘরবাড়ী – কংক্রিট বিল্ডিঙগুলো দূর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মনে হয় ছোটবেলা থেকে অনিকেত অবস্থার জন্য অবচেতন মনে এর গভীর রেখাপাত ঘটেছে । পার্টিশানের সময় তল্পিতল্পা গুটিয়ে বর্ডার পেরনো। তারপর রিফিউজি কলোনি ।বাবা মোটামুটি একটা চাকরি পেলে এক কামরার ভাড়া বাড়ীতে গিয়ে উঠলাম। এক ঘরে ঠাসাঠাসি করে ভাই-বোন মিলে থাকা। অপরিসর ঘরে পড়াশোনার অসুবিধে। একটুখানি ঘরেই রান্না , তার পাশেই বাবা দাড়ি কামাচ্ছেন, দাদা পড়াশোনা করছে। ছোট বোনটা সেখানেই হিসি করে ফেলল আবার ঠাকুমাও সেখানেই কাশির দমকে হাঁফাচ্ছেন। পরে কিঞ্চিত অবস্থা ফিরলে বড় কামরার , বেশী ঘরের বাড়ী দেখা হত। কিন্তু সেখানেও জলের প্রবলেম আর বাড়িওয়ালার গঞ্জনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়নি। তাই মনের মত খোলা মেলা বাড়ীর অভিলাষ অনেকদিনের। হাত-পা ছড়িয়ে থাকতে পারব। তাই হয়তো ছোটবেলা থেকেই বাড়িঘর তৈরির কারিগর হওয়ার সুপ্ত বাসনা ভেতরে ছিল।“

সুবিনয় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ভাল ছাত্র ছিলেন। তার হাতের প্ল্যানিং-এর খুব সুনাম ছিল। হাতের লেখাটাও ছিল মুক্তোর মত। অফিসে তার কাজের সবাই পঞ্চমুখে প্রশংসা করত। একটা চাপা গর্ব ছিল সুবিনয়ের সেই জন্য। শিবপুর বি ই র ছাত্র ছিলেন। আচ্ছা ঐ ভদ্রলোকও শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ছিলেন বলেছিলেন না! চকিতে অনিমার মনে পড়ল। দু-তিন বছরের সিনিয়র। তবে কি ডায়রিতে ওনার নামের উল্লেখ থাকতে পারে? গূঢ় রহস্যটা যে কোথায়? সুবিনয়ের সাথে সেদিনের কথাগুলোর তাৎপর্য জানার জন্য হঠাৎ মনটা উদ্বেল হয়ে উঠল অনিমার। কি যেন নামটা ছিল? পেটে আসছে অথচ মুখে আসছে না। ডায়রির পাতাগুলো এবার খেয়াল করে অনিমা ওলটাতে লাগলেন। চোখ আটকে গেল একটা জায়গায়---
‘বাড়ীটা শেষ পর্যন্ত মনের মত করতে পারলাম। তবে কিছু জিনিস আরও সংযোজন , কিছু পরিবর্তন করলে ভাল হত। তবে এর কোন শেষ নেই। তাই ও নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাই না। অশোক অর্থাৎ আমার কলেজের কিছু বছরের সিনিয়র ,অশোক সেনকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হবে। দুজনের প্রয়োজনটাই এমন কাকতালীয় ভাবে মিলে গেছিল। এই বয়সে অনেকেই আমায় নাকচ করে দিতে পারত। ও সুযোগ দিয়েছে এর জন্য আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ।
গৃহপ্রবেশ করে আমার স্বপ্নের বাড়ীতে ঢুকে এক অভূতপূর্ব আনন্দ অনুভব করলাম। অনিমার মুখের ঐ হাসি, শীর্ষ ,সৃজার উৎসাহ- উদ্দীপনা আমার মণিকোঠায় চিরদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বহুদিনের প্রতীক্ষিত আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তিতে আমিও তখন টইটম্বুর। আর কিই বা চাই? কটা দিন অজিতেশের বাড়ীতে থেকে কাজটা সমাধা হয়ে গেল।অজিতেশ অনেকবার বারন করেছিল। টাকাপয়সা দিতেও চেয়েছিল। কিন্তু আমি কারো কাছে ঋণী থাকতে চাই না। কাজটা ঠিক করলাম কিনা জানি না। বেঁচে থাকতে অনিমাকেও কোনদিন বলতে পারব না। আর তাছাড়া কদিনই বা বাঁচব?”
চোখ ঝাপসা হয়ে এল অনিমার। ডুকরে কেঁদে উঠলেন। হা ঈশ্বর!সুবিনয় আসল কথাটা তাকে ঘুনাক্ষরেও জানতে দেননি।
অনিমা আস্তে আস্তে উঠে দেয়ালে মাথা ঠেকালেন। নিজে দিনের পর দিন ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে এ বাড়ী বানিয়েছেন।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,রক্ত জল করা পয়সা ও পরিশ্রম এই প্রতিটি ইট-কাথ-পাথরের ভেতর নিমজ্জিত। বুকে যেন ভারী পাথর চেপে বসে অনিমার। কি করে পারল সুবিনয় এ ব্যাপারে তাকে এতটা অন্ধকারে রাখতে? কি করে? অভিমান ও ক্ষোভে তার চোখে জল চলে আসে। কিন্তু কার ওপর অভিমান? কার ওপর ক্ষোভ ? কেবলই চোখে ভাসছে সেই আলেখ্য---- “অশোকের তুলনা হয় না। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সাথে সাথে ক্যাশ তিন লাখ টাকা আমায় দিয়ে দিল। একটা কিডনি নিয়ে কি মানুষ বাঁচে না? পৃথিবীর বুকে তো কত মানুষই একটা কিডনি নিয়ে চলাফেরা করছে। যাই হোক,এবার আমি আমার পছন্দমত মার্বেল- টাইলস বসিয়ে আমার স্বপ্নের বাড়ী সাজাব। এই স্বপ্নের বাড়ী গড়ে তবে এ গ্রহ ত্যাগ করব আমি।“

আজানুলম্বিত হয়ে অনিমা মার্বেলের মেঝেতে শুয়ে পড়লেন। সুবিনয়ের স্বপ্নের বাড়ী নাকি তার স্মৃতি-সৌধ ! এ যে তার পীঠস্থান। তবে বড্ড পিঠে লাগছে অনিমার। এই বলিদানের মেঝেতে কি শোওয়া যায়?
অনিমা পাশ ফিরলেন।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement