সারাদিনের বর্ষনমুখরতা কেড়ে নিয়েছে রাত্রিটুকুও
অবিরাম বারিধারায় ক্লান্ত প্রকৃতি অবসন্নপ্রায়।
প্রকৃতির অবসন্নতা গায়ে মেখে জানালার ধারে বসে থাকা এক নারীমূর্তি
আর তাকে ঘিরে থাকা নিঃস্তব্ধতা।
এই নিঃস্তব্ধতা তার বড় প্রিয়
এরই মধ্যে যেন সে খুঁজে পায় কারো নিঃশব্দ উপস্থিতি।
খুব সন্তর্পণে যেন কেউ ছুঁয়ে যায় তার হৃদয়, আর
রেখে যায় অসীম নীরবতা।
রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভূত হয় কারো নিবিড় আলিঙ্গনে মাধুর্য,
হাত বাড়িয়ে তাঁকে ছুঁতে চায় সে, কিন্তু পারে না,
যেন হঠাৎ করে হারিয়ে যায় কোন শূন্যতায়।
নশ্বর মানবদেহ তো আজ পার্থিব নয় আর
কারো নীরব উপস্থিতি তো শুধুমাত্র তার মনে
কেমন করে ছুঁয়ে দেখবে তাঁকে একটিবার,
সমস্ত সত্তায় কেমন করে অনুভব করবে তাঁর শরীরের উষ্ণতা
সেই অধিকার যে আজ আর নেই তার।
তবু, সমস্ত অধিকারের শেষ কণাটুকু নিয়ে
কেউ ছুঁয়ে যায় তার মনকে, আজীবন।
আর উপহার দিয়ে যায় - স্মৃতির পাতা থেকে উঠে আসা কিছু মুহূর্ত, ও
মন খারাপ করা রাত্রির নিরব কান্না।