সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্তে, সূর্যাস্ত হতে সূর্যোদয়ে

সকাল হতে রাতে, রাত হতে সকালে-

বিররামহীন সন্ধানে নিবিষ্ট মনে রত আমি দ্রোহের খোঁজে ।

অনাচার বিনাশে খুঁজি দ্রোহ, মিথ্যার বিষদাত ভাঙতে খুঁজি দ্রোহ

অত্যাচারীর বিপরীতে সত্য-সুন্দরের পথে খুঁজে বেড়াই দ্রোহ

এই ক্ষয়ে-যাওয়া দূর্গন্ধময় নষ্ট সমাজের নষ্টামি-নোংরামি-ভন্ডামি আমূল-

মূলোৎপাটনে খুঁজে ফিরি দ্রোহ ।

দ্রোহ খুঁজি কবিতায়, খুঁজি গল্প-নাটক-উপন্যাসে

বিজ্ঞজনের আলোচনা-সমালোচনায় খুঁজি দ্রোহ,

দ্রোহের খোঁজ করি, বাসষ্ট্যান্ডে-চা দোকানে, জটলায়, মিছিলে-সমাবেশে ।

তারুন্যের উত্তপ্ত প্রানে, ছুটন্ত রক্তকনিকার সঞ্চারনে খুঁজি দ্রোহ ।

আমি খুঁজি সুকান্ত-নজরুল, খুঁজি খালিদ-তারিক-ওমর, খুঁজি নেতাজী-তিতুমীর

খুঁজি মতিউর-হামিদুর, খুঁজি আসাদ-নূর হোসেন ।

সদা খোঁজ করি, বিদ্রোহ-বিপ্লবের অগ্রসেনানী যারা অতীতে ছিল,

আজ তাদের উত্তরসূরীদের ।

কিন্তু হায় ! মন্দ কপাল আমার !

আমি ব্যর্থ হই বারবার, চারদিকে শুধুই শুন্যতা আর হাহাকার ।

দ্রোহ নাই কোথাও, আজ দৈত্য-শোষকের অট্টহাস্যে মাজলুমেরা-

সদা নিপীড়িত, সদা নির্যাতিত, নিরুপায় হয়ে আর্তনাদে গগন কাঁপায় ।

তাই, আমার চোখে শুধুই শুন্যতা, এক বর্ষা হতে আরেক বর্ষা, এক বসন্ত হতে আরেক বসন্তে ।

অনুসন্ধিৎসু মনে দৃষ্টি মোর আপন মনে খোঁজে চলে দ্রোহ, -শুন্যতা পূরনে ।