এক
জাবেদ সাহেব আজ খুব ঘামছেন। যতোটা না গরমে তার চেয়ে বেশী দুঃচিন্তায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো। অথচ রাশেদ এখনো বাড়ি ফেরেনি। ছেলেটা তো এতো দেরী করে না! দেশে খুন-খারাপি, ছিনতাই আর গুমের ঘটনা ক্রমশই বাড়ছে! ছেলেটা যে কেনো এমন করে?
গতকাল বেশ বকাবকি করেছে ওকে। তবে কি এখনো অভিমান করে আছে?

ছেলেকে নিয়ে যারপর নাই তিনি চিন্তিত। একমাত্র ছেলে বলে কি সব কথা মেনে নেওয়া যায় ?

রাশেদের মা মারা যাবার সময় বলেছিলেন- “তোমার কাছে আমি দুটো রত্ন রেখে যাচ্ছি, এক- রাশেদ, দুই- জ্যোতি।”
জ্যোতি যথার্থই রত্ন। একদম মায়ের মতো হয়েছে। ধৈর্য আর মেধায় অনন্যা। প্রথম বার মেডিকেলে চান্স না পেলেও ধৈর্যহারা হয়নি। বরং পরের বার পুনঃদ্দোমে পড়াশুনা করে চান্স পেয়েছে।

যতো জ্বালা রাশেদকে নিয়ে। এস.এস.সি বা ইন্টারমিডিয়েট কোনটিতেই গর্ব করার মতো ফলাফল হল না। কোন বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্স পেলো না। শেষে হোমিও কলেজে ভর্তি করানো হল। সেখানেও যদি ভালোভাবে পড়াশুনা করতো, তবুও স্বস্তি ছিল।
কিছুদিন পরেই বায়না ধরল শেয়ার ব্যবসা করবে। আর তার জন্য দু লাখ টাকা চাই। জাবেদ সাহেব কিছুতেই সম্মত হচ্ছিলেন না। প্রথমত: পড়াশুনার সময় ব্যবসা তার পছন্দনীয় নয়, দ্বিতীয়ত: দু লাখ টাকা যোগার করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি একজন হোমিও চিকিৎসক। আহামরি কোন রোজগার নেই যে, ইচ্ছে করলেই টাকা দিতে পারেন। ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচ যোগাতেই যার হাপিত্যেশ করতে হয়, তার মধ্যে ছেলের এই শেয়ার ব্যবসার সিদ্ধান্ত তাকে যারপর নাই ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু রাশেদকে কোন ভাবেই তার সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো গেলো না। টাকা না পেয়ে সে খাওয়া, গোসল, পড়াশুনা- সবকিছুতেই অব্যাহতি দিয়েছিল। অবশেষে জাবেদ সাহেব তার জমানো একলক্ষ টাকা আর এক লাখ টাকা ধার করে মোটে দু’লাখ টাকা ছেলের হাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে শেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় অর্ধেক টাকাও আর ফেরত আসেনি। এ থেকেও যেনো ছেলেটা শিক্ষা নিলো না। আবার বায়না ধরেছে নতুন ব্যবসা করবে। চামড়ার ব্যবসা করবে। সে অনেক টাকার কারবার। এতো টাকা কোথায় পাবে? আর ব্যবসাও কি এতো সহজ ? জানাশোনা না থাকলে ব্যবসায় লোকসান ঠেকানো দায়। কিন্তু ছেলেটা কিছুতেই বুঝতে চাচ্ছে না।


বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন জাবেদ সাহেব। রাত দশটাও পেরিয়ে গেলো। জ্যোতি এসে বাবার পাশে বসলো। বাবার মনের অবস্থা সে বোঝে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো-
- রাত হয়েছে। চলো খাবে।
- রাশেদ তো এখনো ফিরলো না। ফোনও বন্ধ। ছেলেটা যে কোথায় গেলো!
- ওর বন্ধুদের ফোন করেছিলাম। ওরা কিছু জানে না।
- তোর খালা আম্মার বাসায় একবার খবর নিয়েছিস?
- সেখানেও যায়নি। তুমি কোন চিন্তা করোনা বাবা। অভিমান করে হয়তো কোথাও গেছে। রাগ কমলে নিজেই ফিরে আসবে।
- ভাবছি কোন বিপদ -------
- ওরকম অলক্ষুণে ভাবনা ভেবোনাতো।
- যা মা, তুই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। আমি জেগে আছি। দেখি পাগলটা কখন আসে।


দুই
রাত একটা বেজে কুঁড়ি মিনিট।
জাবেদ সাহেব চেয়ারে বসে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে গেছেন বলতে পারেন না। ফোনটা বেজে বেজে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। জ্যোতি এসে জাবেদ সাহেবকে ডেকে দিয়ে বললও - “বাবা তোমার ফোন।”
জাবেদ সাহেব জেগে উঠে শশব্যস্ত হয়ে বললেন – “ কে? রাশেদ?”
- জানি না বাবা। অপরিচিত নাম্বার।
জাবেদ সাহেব ফোন রিসিভ করে ‘হ্যালো’ বললেন।
অপর প্রান্ত থেকে মোটা কণ্ঠের আওয়াজ আসলো -
- জাবেদ সাহেব নাকি?
- জ্বি। আপনি কে বলছিলেন?
- আমাকে চিনবেন না। আপনার ছেলে রাশেদ বাসায় নেই- তাই না ?
- জ্বি। কিন্তু আপনি --------
- হ্যাঁ, আমি জানি। আর আপনাকে ফোন করেছি সাহায্য করার জন্য।
- আমি তো কিছুই বুঝতে পাচ্ছিনা।
- আচ্ছা বোঝার চেষ্টা করুন।

লাইনটা কেটে গেলো। জাবেদ সাহেব রিসিভ্ড নাম্বারে ডায়াল করলেন। কিন্তু সুইচ অফ দেখাচ্ছে। অজানা শঙ্কায় মনটা আচ্ছন্ন হল। খানিক পরে একটা মেসেজ এলো - “আমাদের চিনবেন না। চেনার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। রাশেদকে অক্ষত পেতে হলে আগামীকালের মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা রেডি করুন। কাল রাতে আর একবার কথা হবে। যদি অন্য কোনো চালাকি করতে চান, তবে চালাকি করে রাশেদের কবরটাও খুড়ে রাখবেন।”

এর চেয়ে যদি আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়তো, তবুও বুঝি এতোটা বিচলিত হতেন না। কি করবেন জাবেদ সাহেব? কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না। পুলিশকে জানাবেন, নাকি জানাবেন না। জানালে যদি বিপদ হয়! এ ছাড়া তো উপায় নেই। কোথায় পাবেন এতো টাকা?

নানান ভাবনা মস্তিষ্ককে জর্জরিত করে দিলো। শুধুমাত্র একটা দিন সময়। কি করবেন তিনি। রাশেদ কোথায় আছে? কি করছে? কেনো এমন হল। তার সাথে তো কারো শত্রুতা নেই! তবে কেন ............


পুব আকাশে একটা সূর্য উঠেছে। ঠিক যেন জাবেদ সাহেবের চোখের মতোই লাল! প্রভাতও হল। কিন্তু তাতে যেন প্রভা নেই! জাবেদ সাহেব নাস্তা না করেই বাইরে বেড়িয়ে গেলেন। অন্যদিনের মতো আজ আর শাসন করতে পারলো না জ্যোতি।

সন্ধ্যায় ক্লান্ত আর ঘর্মাক্ত উপোষ দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন জাবেদ সাহেব। চোখে-মুখে অপ্রাপ্তির ছোঁয়া। সমস্ত টাকা জোগাড় হয়নি। জ্যোতির মায়ের গহনাগুলো জ্যোতির বিয়ের জন্য জমা ছিল। সেগুলোও আজ বিক্রি করতে হল। বাড়ির পেছনের গাছগুলোও পানির দামে বিক্রি করলেন। সুদখোর মজনুর কাছে অনেক অনুরোধেও পঞ্চাশ হাজারের বেশী জুটলো না। মোটে কেবল আড়াই লক্ষ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। বাকি আড়াই লক্ষ টাকা সংগ্রহ হবার আর কোন পথ নেই। না জানি কি হতে চলেছে! রাশেদটা যে কি অবস্থায় আছে!


রাত বারোটা। জাবেদ সাহেব বার বার সেই অপরিচিত নাম্বারে ডায়াল করছেন। নাহ্! ফোনটা শুধু বন্ধই দেখাচ্ছে। জ্যোতি কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়েছে। ভাইকে নিয়ে যেমন ভাবনা, তেমনি বাবাকে নিয়েও তো কম ভাবতে হচ্ছেনা!। পাছে আবার বাবার কিছু হয়ে যায়!


ক্রিং ক্রিং ক্রিং।
ফোনটা বেজে উঠতেই জাবেদ সাহেব এগিয়ে গেলেন। নাম্বারটা অপরিচিত। সংশয় নিয়েই রিসিভ করলেন। হ্যাঁ, সেই মোটা কণ্ঠের মানুষটি।
- টাকা রেডি হয়েছে?
- দেখুন বাবা, আমি গরীব মানুষ। আমার পক্ষে এতো টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আমার ছেলে আপনার সাথে কী বেয়াদবী করেছে জানিনা। কিন্তু আমিতো কোন অপরাধ করিনি।
- এসব কথায় কোন কাজ হবে না। টাকা সংগ্রহ না হলে কাল আপনার ছেলের লাশ পেয়ে যাবেন।
- আমি আড়াই লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছি। আর পারবো না বাবা। আমাকে মাফ করুন।
- মাফ করা আমদের স্বভাবে নেই। আপনাকে একটা সুযোগ দিতে পারি- কাল এই নম্বরে ঢাকা মিরপুর শাখা বরাবর আড়াই লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিবেন। বাকি আড়াই লক্ষ টাকা দু’দিন পরে পাঠাবেন। এই দুই দিন আমরা রাশেদের কোন ক্ষতি করবো না। কিন্তু আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে রাশেদকে আর ফিরে পাবেন না।

লাইনটা কেটে গেলো। জাবেদ সাহেব কল দেওয়ার চেষ্টা করলেন। ফোন যথারীতি বন্ধ।



তিন
১৭ জুলাই ২০১২ ইং।
জাবেদ সাহেব হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। জ্যোতি পাশে বসে বাবার দিকে নির্বাক চেয়ে আছে। মেডিকেল স্টুডেন্টের বাবা বলে ডাক্তাররাও গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
জাবেদ সাহেবের দু’চোখের কিনারা বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে, সাথে কত ভাবনাও। মাত্র ছয়টা দিন! এই ছয় দিনের মাঝে কত কিছুই যে ঘটে গেলো!

আড়াই লক্ষ টাকা আগেই পাঠিয়েছিলেন। বাকি আড়াই লক্ষ টাকার জন্য হোমিও চেম্বার খানা জায়গাসমেত বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও দু’লক্ষ টাকার বেশী মেলেনি। সে টাকাও পাঠানো হয়েছে। ওরা বলেছে বাকি টাকাও আজই পাঠাতে হবে। নতুবা . . . . . .
আর ভাবতে পারেন না জাবেদ সাহেব। হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হল! তীব্র ব্যথা!
এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেন না। জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি হাসপাতালে। ডাক্তার রক্তের পরীক্ষা Troponin-I এর রিপোর্ট দেখে বলেছে- ”স্ট্রোক হয়েছিল। এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন।”

হ্যাঁ বেঁচে গেছেন! যথার্থই বেঁচে গেছেন! এর চেয়ে তো মরাই ভালো ছিল! বাম পাশ প্যারালাইজড! মুখটা বাম দিকে বেঁকে গেছে! কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। রাশেদের আর কোন খবর জানেন না! খুব ভালো আছেন তিনি! খুউব!

ওরা নাকি আবারও ফোন করেছিল। জ্যোতি রিসিভ করেছিলো। বাবার স্ট্রোকের কথা জানিয়ে অনেক মিনতি করেছে রাশেদকে ছেড়ে দেবার জন্য। কিন্তু ওরা কিছু বলেনি। লাইনটা কেটে দিয়েছে। এরপর থেকে ফোন বন্ধ। আর কোন খবর পাওয়া যায়নি।


আজ বেশ চকচকে রোদ উঠেছে। বাতাস এসে জানালার পর্দাটা বার বার সরে দিচ্ছে। তাতে খানিকটা রোদ এসে জাবেদ সাহেবের মুখের উপর পড়ছে। রোদে মুখটাও চকচক করছে।

খানিক পরে মুখটা আরও চকচকে হয়ে উঠলো। শশব্যস্ত হয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলেন- “রাশেদ!”
জ্যোতি পেছন ফিরতেই চমকে উঠলো।! রাশেদ এসেছে!
“ভাই আমার”- বলে রাশেদকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্না শুরু করে দিলো। রাশেদও আবেগ সামলাতে পারলো না।
জাবেদ সাহেবের দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লেও বাঁকা মুখে ফুটে উঠলো সরল হাসি!


জাবেদ সাহেবের প্যারালাইসিসের চিকিৎসা চলছে। জ্যোতির মুখে বাবার টাকা সংগ্রহের সমস্ত ঘটনা শুনে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে গেলো রাশেদ।

রাস্তা দিয়ে হাঁটছে আর ভাবছে,- একি হল! বোনের বিয়ের জন্য রাখা মায়ের গহনাগুলো বিক্রি করে দিয়েছে বাবা! বাবা ওকে এতো ভালোবাসে! নিজের রোজগারের একমাত্র উপায় হোমিও দোকানটিও বিক্রি করে দিয়েছে! সুদখোর মজনুর নিকট খেকে টাকা নেওয়ার সময় কি একবারও ভাবেনি যে, সুদ কিংবা আসল কোনটিই তার ফেরত দেবার সামর্থ্য রইলো না! শেষে যে বসত বাড়িটিও বিক্রি করতে হবে! এতো কিছুর চেয়েও তিনি আমাকে ভালোবাসেন! এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও!


টিট টিট!
টিইইইটট!
চমকে উঠলো রাশেদ।
মোটর সাইকেল আরোহী বিরক্তি আর খানিকটা রাগ মাখা স্বরে বললেন-
- হর্ন দিচ্ছি শুনতে পাচ্ছেন না?
- দুঃখিত ভাই!

রাশেদ রিক্সায় উঠলো।
রিক্সা চলছে! সাথে রাশেদের ভাবনাগুলো আবারও সচল হল। কেন সে এমন করলো? এ নাটকটি কি না করলেই হতো না? বাবা প্যারালাইজড হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন! বোনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে! সাথে নিজের জীবনটাও!

“ভাই নামেন।” - রিক্সাওয়ালা নামার তাগাদা দিলেন।

রাশেদের ভাবনা ভঙ্গ হল। রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে এটিএম বুথে ঢুকে টাকা তুলল। অতঃপর একে একে সুদখোর মজনুর পাওনা ফেরত দেওয়া, হোমিও দোকান ফেরত নেওয়া, আর বোনের জন্য সামান্য গহনা আর বাবার জন্য ফল কিনে নিয়ে আবারও হাসপাতালে ফিরল।


জাবেদ সাহেব জানালা দিয়ে দূরের ডাব গাছটায় তাকিয়ে আছেন। রাশেদ বাবার কাঁধে হাত রেখে ডাকল- “বাবা!”
জাবেদ সাহেব ডাবগাছ হতে দৃষ্টি সরিয়ে রাশেদের দিকে তাকাল। রাশেদ বাবার পাশে বসে বলল-
- কী ভাবছ বাবা?
জাবেদ সাহেব মাথা নাড়লেন। রাশেদ বলল-
- সুদখোর মজনুর টাকা ফেরত দিয়েছি।
- টাকা কোথায় পেলি বাবা?
- তুমি সুস্থ হও, পরে বলবো। তোমার দোকানটিও ফেরত নিয়েছি। এই দেখো জ্যোতির জন্য গহনাও কিনেছি।

রাশেদ পকেট থেকে একটা সোনার চেইন বের করে দেখাল। বাবা নির্বাক তাকিয়ে রইলেন।
রাশেদ অবাক নয়নে বাবার সে চাহনি দেখলো। তাতে কত মায়া, কত ভালোবাসা আর কত যে দায়িত্ববোধ মিশে আছে, তা আগে কখনো খেয়াল করা হয়নি। বাবা হৃদয়টা আগে কখনো অনুভব করা হয়নি। সন্তানের জন্য যাদের এতো ভালোবাসা, এতো মমতা, তাদের কেমন করে এতো কষ্ট দেওয়া যায়? সন্তানের সামান্য সাফল্য বাবার চোখে-মুখে যে তৃপ্তির চিহ্ন এঁকে দেয়, সে তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে যে তৃপ্তি অনুভব করা যায়, তা যেন অমৃত সমান!

খানিক পরে রাশেদ চোখ মুছে আবারও বলতে শুরু করলো-
- তুমি সুস্থ হয়ে উঠো। জ্যোতির যখন বিয়ে হবে, তখন আরও অনেক গহনা কিনবো। আমি ঠিকমতো পড়াশুনা করে তোমার মতো ডাক্তার হবো বাবা- গরীবের ডাক্তার। আর কখনো তোমার অবাধ্য হবো না। এই তোমায় ছুঁয়ে বলছি।
জাবেদ সাহেব রাশেদকে বুকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠে বললেন-
- তুই এতো টাকা কোথায় পেলি বাবা?
- আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না বাবা। আমাকে আমার প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ দাও। আমাকে ক্ষমা কর, এখনি ছেড়ে যেওনা। একটা মানুষের জীবনে পরিবারের ভূমিকা কতটুকু, তা আমি বুঝেছি। তোমার তুলনা হয়না বাবা। তুমি মহান।