লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ১৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.২৬

বিচারক স্কোরঃ ১.৮৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপরিবার (এপ্রিল ২০১৩)

অপূর্ব আতিথেয়তা !
পরিবার

সংখ্যা

মোট ভোট ৩২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.২৬

রফিক আল জায়েদ

comment ১০  favorite ০  import_contacts ১,১২৯
আজকাল শহরের মানুষগুলো কেউ কাউকে চেনে না। আসলে চিনতে চায় না। শহরের যান্ত্রিকতা আর ব্যস্ততার মাঝেও নাঈম সাহেব অন্যরকম মানুষ হিসেবে পরিচিত, যাকে মহল্লার ছোট বড়
সবাই চেনে তাঁর আন্তরিকতার কারণে। কোন পরিবারে কি সমস্যা, কার কি প্রয়োজন সবার খোঁজই তিনি রাখেন। সাধ্যমত প্রয়োজন পূরণও করেন। তিনি যেন সমাজের অভিভাবক। প্রত্যেক দিনের মত স্বভাবসুলভ নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে এক অচেনা পথিক পাশ দিয়েই যাচ্ছিল
চেহারায় ছিল আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট, কিন্তু মুখটা ছিল শুষ্ক, মনে হয় ক'দিন ধরে খাওয়া হয়নি। তাই
কাছে গিয়েই জিজ্ঞাসা করলেন, 'আপনাকে তো চিনতে পারলাম না, এখানে কার কাছে এসেছেন ?'
কোথায় যাবেন?
পথিক, আমি চর শিমুল গ্রাম থেকে এসেছি। কাজের খোঁজে। 'চর শিমূল' নামটা শুনে একটু হোঁচট খেলেন নাঈম সাহেব। আপনার নাম কি ?
বাদল।
আর একটা ধাক্কা লাগল হৃদয়ে ঠিক মধ্য খানে। কিন্তু বুঝতে দিলেন না একটুও। তো হঠাৎ কাজ খুঁজছেন কেন?
গত তিনদিন আগে হঠাৎ প্রবল বন্যায় ঘর বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। কিছুই বাঁচাতে পারিনি নিজেদের
প্রাণ ছাড়া। বলছেন আর দুচোখ থেকে দরদর করে অশ্রু ঝরছে।
'ঠিক আছে আপনি কাঁদবেন না' বললেন নাঈম সাহেব।
বাড়িতে নিয়ে খেতে দিলেন খুব যত্নের সাথে। খাবার শেষে একহাজার টাকার দশটি নোট হাতে গুজে দিলেন।
পথিক এমন আতিথেয়তায় শুধু মুগ্ধ না বিস্মিতও হলেন। টাকাটা নিতে দ্বিধাবোধ করছিলেন। কিন্তু নাঈম সাহেব বললেন, 'আপনি না হয় টাকাটা কর্জ হিসেবে নিন।'

পথিক পথ চলতে চলতে ইট পাথুরে শহরের নির্মমতা আর আতিথেয়তার বাস্তবতা মিলাতে অক্ষম।
এবার নাঈম সাহেব চলে গেলেন আজ থেকে পনের বছর আগে, সেদিন ছিল চৈত্রের মধ্য দুপুর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চর শিমুল গ্রামে পৌঁছলেন নিজেদের চাচাত ভাই বাদলদের বাড়িতে। সৌজন্যবোধের পর কোন ভূমিকা ছাড়াই নাঈম সাহেব বললেন, 'ভাই আমার ছেলেটা খুব অসুস্থ অপারেশন করতে হবে এক লাখ টাকা লাগবে। আমাকে ধার হিসেবে না হয়, তোমাদের একটু জমি বিক্রি করে দাও।' অনুনয়ের যত পথ হতে পারে সবই প্রয়োগ করলেন নাঈম সাহেব। কিন্তু কিছুই হল না এই পাথুরে মনের কাছে। বরং অভুক্ত অবস্থায়ই চলে আসতে হয়েছিল। প্রাণের সঞ্চিত সব শক্তি নিঃশেষ হলেও পথের দীর্ঘতা যেন কিছুতেই শেষ হয় না। সামান্য কিছু অর্থের অভাবে একমাত্র সন্তান তামীমকে পারি জমাতে হল এমন জগতে সেখানে পৃথিবীর মত নিষ্ঠুর বীভৎস রূপ নেই। নেই বঞ্চনার কোন ঝনঝট। নিজ হাতে বহন করা সন্তানের লাশ নিজ হাতে খনন করা কবরে! সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখত কথার ফুলঝুরিতে। আজ সবই স্মৃতির পাতায় আঁকা কিছু স্বপ্ন।
নাঈম সাহেব স্মৃতির দর্পণে দেখছেন বিবর্ণ অতীত আর অশ্রুতে চূর্ণবিচূর্ণ হচ্ছে হৃদয় দর্পণ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী ফারহানা বাকরুদ্ধ........

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ কবির হোসেন
    মোঃ কবির হোসেন রফিক আল জায়েদ ভাই আপনার গল্পে কঠিন একটা বাস্তবতা তুলে ধরেছেন. গল্পটি আমার কাছে ভাল লেগেছে. ধন্যবাদ.
    প্রত্যুত্তর . ৪ এপ্রিল, ২০১৩
    • রফিক আল জায়েদ এটা জীবনে প্রথম গল্প লেখা। আর আপনি হলেন প্রথম মন্তব্যকারী।আমার লেখাতে সমালোচনা চাই বেশি বেশি। ভাল থাকবেন।
      প্রত্যুত্তর . ৪ এপ্রিল, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ নাঈম সাহেবের চরিত্রটি ভালো লাগলো (এই বাদল কী সে বাদল?).ভবিষ্যতে আরো লেখার আশায় রইলাম. অনেক ধন্যবাদ.
    প্রত্যুত্তর . ৫ এপ্রিল, ২০১৩
    • রফিক আল জায়েদ জ্বী, ভাইয়া ! সেই বাদলকেই উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। নতুন লিখছি, তাই আপনাদের ভাল না লাগলেও যে উত্‍সাহ দিচ্ছেন। তারপরও কি না লিখে পারি ?? ভাল থাকবেন।
      প্রত্যুত্তর . ৫ এপ্রিল, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ নাঈম সাহেবের চরিত্রটি ভালো লাগলো (এই বাদল কী সেই বাদল?).ভবিষ্যতে আরো লেখা দেখবার আশায় রইলাম. অনেক ধন্যবাদ
    প্রত্যুত্তর . ৫ এপ্রিল, ২০১৩
    • রফিক আল জায়েদ আপনাদের এত ভালবাসা পাওয়ার পরও কি না লিখে থাকতে পারব ? ভাইয়া, লেখায় কোন ভুল থাকলেও জানাবেন। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
      প্রত্যুত্তর . ৫ এপ্রিল, ২০১৩
  • সুমন
    সুমন পনের বছর অনেকটা সময়, হয়ত চেহারা ভুলেও যাওয়াও সম্ভব। প্রতিকৃয়াটা ভাল লেগেছে। সব ঘাতের প্রতিদান প্রতিঘাতে হতে হবে এমনও কোন কথা নেই। আর নাঈম সাহেবও মনে হয় এভাবেই ভেবেছেন। ভাল লাগল গল্প।
    প্রত্যুত্তর . ৫ এপ্রিল, ২০১৩
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # অনেক সুন্দর গল্প । স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দুরে সরে চলে যায়---এর মত বেশ চমৎকার ।।
    প্রত্যুত্তর . ৮ এপ্রিল, ২০১৩
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি বাস্তবতার নিরিখে গল্পটি গতানুগোতিক হলেও .....বেশ ভাল লেগেছে......জায়েদ ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ..............
    প্রত্যুত্তর . ১৬ এপ্রিল, ২০১৩
  • ভূঁইয়া মোহাম্মদ  ইফতেখার
    ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার মূল বক্তব্যটি ভালো লাগল। সামনে আরও লেখা আশা করছি।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় je banchna diyechhe,take banchnar badle praptite bhariye debar galpoti bhalo legechhe.dhnyabad.
    প্রত্যুত্তর . ১৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • সূর্য
    সূর্য আমরা প্রায়শই বলি "ইট পাথরে ঝঞ্জালে আর মানুষের দেখা পাওয়া যায় না, গ্রামের মানুষরা সহজ সরল......" আসলেই কি তাই? প্রতিটি মানুষ কেমন তা নিহিত থাকে তার আচারে, ব্যবহারে আর কর্মে। সেখানে শহর গ্রাম বলে কিছু নেই। গল্পের যে মেসেজ "প্রয়োজনে অপরকে সাহা...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ এপ্রিল, ২০১৩
    • রফিক আল জায়েদ সূর্য ভাই, প্রথমে আপনাকে সময় নিয়ে এতবড় করে মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে মানুষের মানবতা থাকে তার হৃদয়ে। ইট পাথুরে শহর আর সহজ সরল গ্রামেও বিপরীতমূখিও হতে পারে। এটা আমার প্রথম গল্প তাই অতটা ভাল হয়ত হবে না। ভাল থাকবেন সর্বদা।
      প্রত্যুত্তর . ১৯ এপ্রিল, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক শুধু অতিতেযতা নয় একটা মানবিক গুনাবলিও বটে...খুব ভালো লাগলো...
    প্রত্যুত্তর . ২৮ এপ্রিল, ২০১৩

advertisement