লাল সবুজের ভালবাসা

ভালবাসি তোমায় সংখ্যা

রাজু
  • ২৩৭
বাংলাদেশের মানচিত্র । লাল সবুজের নিখুঁত অঙ্কনে স্বর্ণখচিত মানচিত্র এ দেশের । খুব চমৎকার কম্বিনেশনে তৈরি এদেশের পতাকা । রক্তঝরা স্বাধীনতার এই বাংলাদেশ একটা সোনার মাতৃভূমি । সবুজ আর সবুজ , নাম না-জানা অতিথি পাখিদের কলতানে মুখর, সুশীতল পানি প্রবাহিতি নদীর দেশ এটি । তাবিন ওর দাদার কাছে সব সময় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে বায়না করে রাতে ঘুমানর আগে ।

তাবিনের দাদা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । যুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকার রাজপথে গ্রেনেডের পিন খুলে স্রেফ আঙুল দিয়ে চেপে ধরে প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রেখে ঘুরে বেড়িয়েছেন । পাকিস্তানি সিপাহি যদি ধরে ফেলে, সাথে সাথেই যেন আশে পাশের কয়েকটা মেরে ফেলতে পারেন সেসহ শুধুমাত্র গ্রেনেড থেকে আঙুলটা সরিয়ে, তাই এমন করে পিন খুলে গ্রেনেড নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তাবিনের দাদা ।

যুদ্ধ করে দুটা বাঙ্কার উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি । আহত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছেন, সেবা করে করেছেন তিনি । বঙ্গবন্ধুর সাথে দূর থেকে দেখা হয়েছিল একবার, হাত নেড়েছিলেন তার দিকে । এমন গল্প তাবিনকে ঘুমানোর আগে তাকে বলতে হয় । নাতিকে এমন গল্প শোনানো এখন ফুল-টাইম চাকরী হয়ে দাঁড়িয়েছে তাবিনের দাদার । তাবিন ঘুমিয়ে পড়লে তিনি নিজের কথা ভাবেন । যখন তিনি তাবিনের বয়সি ছিলেন ষাটের দশকে, তার বাবার কাছে তিনি ভাষা আন্দোলনের গল্প শুনতেন । তার বাবা বলতেন, এই দেশ আমাদের, ভাষা আমাদের । কেউ জোর করে অন্য ভাষা চাপিয়ে দিতে পারবে না । বাবা, সবসময় এই দেশকে ভালবাসবি, ঠিক নিজের মাকে যেমন ভালবাসিস তার চেয়েও বেশি । বাবার এমন কথা শুনতে শুনতে তাবিনের দাদা তখন ঘুমিয়ে যেতেন ।

তাবিন স্কুলে গিয়ে তার বন্ধুদের সাথে এসব গল্প করে । তার বন্ধুরা তাবিনের দাদার মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে ততটা আগ্রহী না যতটা তাবিনের দাদা তাদের জন্য চকলেট নিয়ে গেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে তার কাছে । তাবিনের মাঝে মাঝে মন খারাপ হয় । তার বন্ধুরা কেন দেশকে ভালবাসতে শিখে না? কেন দেশের যুদ্ধের কথা জানতে চায় না? কেন ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে কথা বলে? কেন ইংরেজিতে বেশি মনোযোগী?

তাবিন আধুনিক ভবিষ্যৎ প্রজন্মে বড় হয়েছে । দাদা মারা গেছেন অনেক আগেই । নাতবৌ দেখে যেতে পারেন নি । তাবিন তার একমাত্র কন্যার ঘরে ঢোকা মাত্রই কি যেন লুকিয়ে ফেললো বালিশের তলায় । বাবাকে শাসিয়ে বলে দিল, নক করে ঘরে ঢুকতে পারো না ?
তাবিন একগাল হেসে জিজ্ঞেস করে, কি করছিস রে মা এত রাত জেগে? ঘুমাবি না ? গল্প শুনবি ? গল্প বলি ?
না বাবা, তোমাদের মান্ধাতার আমলের গল্পে কিছু নাই, বোরিং লাগে । শুনবো না আমি সেসব । তুমি এখন যাও, ঘুম আসলে আমি ঘুমিয়ে পড়বো ।
তাবিন চলে আসে মেয়ের রুম থেকে। দরজার সামনে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে । কিছু বলতে যেয়ে না বলে চলে আসে । মেয়ে তখন বালিশের নীচ থেকে মোবাইলটা বের করে দেখে তার নতুন ছেলে বন্ধুটি অসংখ্য ম্যাসেজ দিয়ে ফেলেছে এরইমধ্যে ।
নিজের রুমে এসে তাবিন ভাবে, হয়তো তার দাদাদের অর্জিত স্বাধীনতা এটাই । মাতৃভূমির প্রতি দাদার ভালবাসার ছিটেফোঁটা নেই তার মেয়ের ভেতর । চোখ বেয়ে পানি চলে আসতে চায় তাবিনের । মনে মনে দাদাকে স্মরণ করে বলে, দাদা তোমার মতই আমি এই দেশকে ভালবাসি । তুমি এই প্রজন্মকে ক্ষমা করো । আমরা দেশকে ভালবাসার যুদ্ধে ব্যর্থ । আমাদের ক্ষমা করো, ওরা হয়তো কখনো বলবে না দেশকে "ভালবাসি তোমায়"...
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
ফয়জুল মহী খুব সুন্দর অনুভূতির নিখুঁত কাব্য নির্মাণ,

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

দেশের প্রতি ভালবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কমে যাচ্ছে...

০২ ফেব্রুয়ারী - ২০১১ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাংলা - আমার চেতনা”
কবিতার বিষয় "প্রেম”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জানুয়ারী,২০২২