"একটি স্নিগ্ধ ভোরের প্রতীক্ষায়" কবিতাটি লিখেছিলাম হাসপাতালের সিঁড়িতে বসে। ১২ ডিসেম্বর ২০১২। ঘড়ির কাটায় তখন রাত ২টা। ইভ-টিজিংয়ে উক্তত্যতার শিকার হয়ে আমার ছোটবোন টুনি যখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ১০ ঘন্টা চলে গেল। আইসিইউতে তার জ্ঞান ফিরছেনা। সেই সময়কার আমার ব্যাথাতুর মনের অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছি এই কবিতায়। -হাসান ইকবাল
আমার বুকের ভেতর গোপন প্রকোষ্টে যে ব্যাথা জমা হয়ে আছে তা নেভাতে গিয়ে দাবানল হয়ে প্রজ্বলিত হয়ে উঠল নিমিষে তা পা থেকে মাথা, আপাদমস্তক আমি শিহরিত হলাম অদ্ভুত এক চৈতন্যতায়।
আমার গভীর ঘুমের আচ্ছন্নতায় দেখতে পেলাম আমার গরিয়সী মায়ের মলিন মুখ, ভাই-বোন, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী’র আকুলতা। হাসপাতালের আইসিইউ’র বেডে শুয়ে অবচেতন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা যন্ত্রনাকাতর আমার প্রিয় ছোটবোন টুনির মুখ।
কি নিষ্ঠুর অপেক্ষা, কখন জ্ঞান ফিরবে, দারোয়ান থেকে শুরু করে নার্স, ডিউটি ডক্টর, তাদের কাছে কেন যেন কৃপা খুঁজি বারবার। ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন।
অনেক শুষ্ক মুখে হাসি ফুটে উঠে, আবার কেউ নিয়ে চলে আপন স্বজনের লাশ। ক্রন্দন ধ্বনিতে অট্রহাসি হাসে হাসপাতালের দেয়াল। ঘন কাঁচের সীমানা ভেদ করে ঊঁকি মারে আমার মা কখন শুনতে পাবে একটি সুমধুর ডাক, একটি উৎফুল্ল মধুর সময়ের অপেক্ষার আকুপাকু আমাদের প্রতিটি নিউরণ।
কতটা নিলর্জ হলে মানুষ এতটা নির্মম হতে পারে, আমার বোনের বাক স্বাধীনতাকে তুচ্ছ করে শুধু হুমকি, খুন, অপহরণ অথবা টাকা দিয়ে বেঁচে থাকার এক নতুন সমীকরন আমার স্বাধীন এই বাংলাদেশে।
জ্ঞান ফিরবে বলে বসে থাকা হাসপাতালের সিঁড়ি, বেলকনি অথবা আইসিইউ’র সামনে। কি অদ্ভুত এক অন্তমিল। হাসপাতালে যারা আছে সবাই আমারি মতো আপনজনের জন্য নিংড়ানো ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, জেগে থাকা রাতের পর রাত।
কখন ভোর হবে কেউ জানেনা, উকি মেরে দেখি এক অদ্ভুত নিরবতা এক মৃত্যুপুরীর মতো।
১২ ডিসেম্বর ২০১২ মোহাম্মদপুর, ঢাকা
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
সূর্য N/A
অসহায়ত্ব বেশ ফুটেছে কবিতায়। কবির মতো খুন, হুমকী, অপহরণ, চাঁদাবাজীর বাংলাদেশ আমরা কেউ চাই না তবু কেউ কেউ এমন অপকর্ম করে যাচ্ছেই। ভালো লাগলো বেদনার্ত কবিতা
তাপসকিরণ রায়
কবিতা দুঃখের মাঝে মন থেকে ফুটে বের হতে চায়--আর সে কবিতা হয়ে ওঠে মনোগ্রাহী--মর্মস্পর্শী।আপনার বেলাতেও হয়েছে তাই--মর্মমুখর একটি লেখা আপনার কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে।আপনার বোনটি এখন কেমন? জানতে ইচ্ছে হয়,ভাই !
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।