লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৬৬
গল্প/কবিতা: ৯৩টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৯৬

বিচারক স্কোরঃ ২.৫৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা (মার্চ ২০১৩)

বাবার চিঠি
স্বাধীনতা

সংখ্যা

মোট ভোট ২৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৯৬

এনামুল হক টগর

comment ১২  favorite ২  import_contacts ১,৫৮৩
পৃথিবীর গভীর গুহা ভেদ করে অন্তহীন আঁধার রাত্রির বুক থেকে শতাব্দীর বন্দী মানুষ গুলোর কান্না ভেসে আসে মোহর আলীর কানে। মনে হয় চেনা অচেনা পথের সুদূর ধ্বনি।

রাহেলার দীর্ঘশ্বাস প্রসব বেদনায় কাঁদে। মোহর আলী জেগে আছে স্বদেশের মাটিতে তাঁর প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। রাহেলা তার প্রিয়তমা স্ত্রী। সন্তানের আগমনে মোহর আলীর চোখে হিমেল হাওয়ার শান্ত স্পর্শ লাগে। তন্দ্রাচ্ছন্ন গভীর ঘোরের ভিতর মোহর আলী নীরব বিস্ময়ে চেয়ে থাকে। হয়তো কিছু বলতে চায়।

বুকের উপর পরাধীনতার চাপা পাথর যেন বিস্তৃতির কালো অন্ধকারে ডুবে গেছে। মোহর আলী এই পরাধীনতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চায়। দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে চায়। জাতি যেন গভীর সমুদ্রের অতলে ডুবে যাচ্ছে। পুরাতন পরিত্যক্ত ব্যর্থ জীবনের নীরব কান্না।

অন্তঃসত্ত্বা নারী রাহেলার গর্ভ থেকে অঙ্কুরিত নতুন প্রাণ স্বদেশের মাটিতে ভূমিষ্ঠ হয়। পরাধীন অন্ধকার এই দেশের মাটিতে। মোহর আলীর নিস্তব্ধ প্রাণের গভীর মুক্তির স্পন্দন জাগে।

বুকের ভিতরে গুন গুন বিদ্রোহের ধ্বনী প্রতিধ্বনি হতে থাকে। এই পরাধীন দেশে এতদিন আমি আর আমার প্রিয়তমা বধূ ছিলাম। আর ছিল আমার পূর্ব পুরুষ। আজ রাতে আমার আগামী উত্তরসূরি বংশধর এসেছে স্বদেশের প্রিয় মাটিতে।

এখন গভীর নিঃশব্দ মধ্য রাত্রি। চারিদিকে নীরব নিশ্চুপ শব্দহীন পথ। মোহর আলীকে মুক্তির সংগ্রামে যেতে হবে। দেশ এখন যুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষত বিক্ষত আহত রক্তাক্ত। আগামী সূর্যোদয়ের আগেই তাকে যুদ্ধে যেতে হবে। এই পরাধীনতা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। সন্তানের চোখে নতুন সূর্যের আলো দেখাতে হবে। মৃত্যুর সংকেত আসন্ন ধ্বনির মধ্যে দিয়ে মোহর আলী পথ চলার চিন্তা করে।

নতুন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে নাম দিয়েছে শ্রেষ্ঠ। শ্রেষ্ঠ মোহর আলীর একমাত্র সন্তান। এই স্নেহের সন্তান, প্রিয়তমা বধূ আর এই প্রগাঢ় সতেজ সবুজ সরল মায়াময় গ্রাম অরণ্য ছেড়ে মোহর আলীকে চলে যেতে হচ্ছে যুদ্ধে।
শুধু জন্মভূমির মুক্তির জন্য। আগামী বংশধরদের স্বাধীনতার জন্য। যে নদীর বুকে চাঁদের জোছনা হাসতো সেই নদীর বুক বেঁয়ে মোহর আলী আজ যুদ্ধে যাচ্ছে। সবুজ ঘাসের বুকে ধূসর ফুল ফুটে আছে। নিস্তব্ধ শান্তির গভীরে জীবনের স্পন্দন।

ঘুমহারা পাখিরা কলতানে উড়ে যায় মুক্ত দিগন্ত আকাশের বুক দিয়ে নতুন আলোর সন্ধানে। পৃথিবীর ইতিহাস বয়ে চলে নীরবে। পাথরের বুক ফেটে ঝর্ণার ভারাক্রান্ত আর্তনাদ জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়। দৃশ্যমান ক্লান্ত মুহূর্তে মোহর আলীর বিপন্ন চোখ তীব্র ক্ষতবিক্ষত তাকিয়ে থাকে। তার দেহের ভিতর যুদ্ধের ক্ষত আর অসংখ্য ক্লান্ত মুখ ভেসে আসে। পুরানো ব্যথা অতীতের কথা বলে যায়। কখনো মৃত্যু এসে গোপনে হানা দেয় সশরীরে। মধ্য রাত্রির গভীরের বেদনাগুলি মোহর আলীর হৃদয়ে সুর তোলে।

বহু বছরের ঘুমন্ত মানুষের চোখে মুক্তির স্বপ্ন জাগে। গ্রাম ও নগরের রাস্তায় রাস্তায় মুক্তির মিছিল, স্বাধীনতার মিছিল। মাতৃভূমির আকাশে লাল সূর্যের আভাস। এভাবে ভাবতে ভাবতে মোহর আলী হাঁটতে থাকে। গ্রাম-শহর পেরিয়ে সীমান্তের পথে।

মোহর আলীর প্রতিজ্ঞা যতক্ষণ না সবুজ অরণ্যের বুকে লাল সূর্য উঠে ততক্ষণ নির্ভুল ঠিকানার পথে চলতে থাকবে। জীবনের চাওয়া পাওয়া দুর্বোধ্য অন্ধকারের ভিতর বিস্তৃত জীবনের যাত্রা। মৃত্তিকার নরম বুক ছুঁয়ে চোখ দেখে সবুজের দিগন্ত সীমানা, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা।

বিপন্ন স্বদেশ মুক্তির বিশাল আন্দোলনে। কালের সীমাহীন নিস্তব্ধতা ভেঙে যেখানে জেগে উঠেছে অসংখ্য প্রাণ। বুকের ভিতর ঝড়ো হাওয়া কেঁদে উঠে বিবর্ণ বিচিত্র জীবন। ঘুমহীন মোহর আলী হাঁটতে থাকে। আতংক ভরা তার দুটি চোখে অশ্রু আগুন ঝরে।

সামনে মেঘময় কালো রাত্রি পাড়ি দিতে হবে। বধির দিগন্ত আর নিঃশব্দ পৃথিবী কেঁদে উঠে। পিছনে ফেলে আসা বেদনা ব্যথা প্রিয়তমা বধূ স্নেহের সন্তান, আর এই দেশ মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্য মোহর আলীকে যারা সাহায্য করেছিল তাদের প্রিয় মুখটি আজ ভেসে উঠে বারবার।

তারা এই গভীর রাত্রে নিঃশব্দে জেগে আছে। জেগে আছে হাসি, সাবিরা, দিবা, জাকিয়া, হ্যাপী, লিমু এরা সবাই মুক্তির প্রতীক্ষায় জেগে আছে। এদের শিশু সন্তান শাহরিন, রিচি, নুসাইবা, সাদিয়া, মাহিনুর ও সোহান গভীর ঘুমে স্বপ্নের ভিতর নতুন সূর্যরে আসন্ন আলো দেখে।


কবে দেশ স্বাধীন হবে? পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবে জাতি ? ঘুমহীন রাতের স্বপ্নেরা আশা জাগায়। এরই মাঝে সাদা পাখিগুলি উড়ে যায়। গ্রীষ্মের ঝড় পেরিয়ে। দূর্বার দুর্নিবার অবলীলাক্রমে মুক্তির গান গেয়ে।

ইচ্ছাগুলো নদীর বুকে পাল তোলে। এই দীর্ঘশ্বাস রুদ্ধ নিস্তব্ধ পথ ধরে মোহর আলী চলতে থাকে আগামীর পথে। রাতের ক্লান্তিতে মৃত্যুর কান্না ভেসে আসে। দূর্বোধ্য অভাব রুগ্ন পঙ্গু মানুষের দীর্ঘশ্বাস থেকে। গভীর অন্ধকার ভেদ করে ভেসে আসে আর্ত চিৎকার আহত মৃত্যুর প্রতিধ্বনি। সারাদেশ যেন রক্ত স্রোতে লাল হয়ে গেছে। মোহর আলী যুদ্ধের পথে ছুটে যাচ্ছে।

সে যুদ্ধে যাওয়ার আগে সদ্যজাত প্রিয় সন্তানের কাছে একটি চিঠি লিখে এসেছে। সেখানে সে লিখেছে প্রিয় সন্তান ভালো থেকো। তুমি যখন পৃথিবীর বুকে ভূমিষ্ঠ হলে, আমি তখন জন্মভূমির মুক্তির জন্য যুদ্ধের পথে যাত্রা শুরু করি। তুমি তাকিয়ে ছিলে নির্বাক আমার দিকে।

তখন যেন অস্পষ্ট তোমার চোখ দুটি আমাকে গোপনে মুক্তির কথা বলেছিল। বেদনায় ধুঁকে ধুঁকে অনাহারী শিশুদের অন্ন বস্ত্র চিকিৎসার কথা বলেছিল। মাটির গভীরে প্রেরিত শেকড় থেকে নতুন অঙ্কুরের কথা বলেছিল। বেদনায় ছিঁড়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবার কথা বলেছিল। গভীর অন্ধকার ভেঙে নতুন সকাল ফোটাবার কথা বলেছিল।

তোমার দৃষ্টি আজ আমাকে সবুজের পথ চেনায়। নির্জন নীরব তুষার মরুভূমি ভাঙার শক্তি যোগায়। আমি চলে যাচ্ছি যুদ্ধে। আগামী দিনে তোমার নিরাপদ জীবনের কথা ভেবে।

গতকাল মুক্তিযোদ্ধা আর পাক সেনাদের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ আহত রক্তাক্ত আর মৃত্যু বরণ করেছে। আমার চিন্তা করোনা। যেভাবে সাধারণ মানুষকে ওরা হত্যা করছে। সেখানে আমার বেঁচে থাকাটা বড় লজ্জার। তুমি দোয়া করো দেশের জন্য গৌরবের মৃত্যু যেন আমি বরণ করতে পারি।
তুমি বেঁচে থাকলে তোমাকে মাকে দেখো। যারা এই দেশের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করছে তাদের কথা স্মরণে রেখো। জ্ঞান অর্জনের জন্য জ্ঞানীদের সংস্পর্শে যেও। আদর্শ মানুষ হিসাবে এই জন্মভূমির মাটিতে গড়ো উঠো।

আব্রাহাম লিংকন তার ছেলের শিক্ষকের নিকট চিঠিতে লিখেছিলেন মনে রেখো অল্প সংখ্যক মানুষই ন্যায় পরায়ণ আর সত্যনিষ্ঠ হয়। অধিকাংশ মানুষই ন্যায় পরায়ণ থেকে দুরে থাকে। মনে রেখো অনেক নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমিক নেতা বেঁচে থাকে। অসংখ্য শত্রুর মাঝে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু থাকতে পারে। এইগুলি জানতে চিনতে তোমাকে বিচক্ষণ হতে হবে। ভিক্ষুকের মতো রাস্তায় টাকা কুড়ানোর চেয়ে উপার্জিত অর্থ অনেক মূল্যবান ও সম্মানজনক।

তুমি যখন বুঝতে শিখবে, দেখবে পরাজয়ের মধ্যে বিজয়ের গভীর উল্লাস আছে। হিংসা বিদ্বেষ আর ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবে। নিজেকে উপযোগী করে তৈরি করবে। মনে রেখো পরীক্ষায় আস্থা গড়ে তোল। সঠিক বিষয় সবাই ভুল মনে করলেও তোমার যায় আসে না। আদর্শ ন্যায় পরায়ণ ভালো মানুষের প্রতি ভালো আচরণ করবে। দুনীতি অন্যায়কারী আর ব্যভিচারদের প্রতি কঠোর হবে।

হঠাৎ হুজুগে উম্মাদ জনতার পথ অনুসরণ করো না। তোমার সত্য আদর্শ বিচার থেকে উত্তম ভালোটাই শুধু গ্রহণ করবে। তুমি অনেক দুঃখ, দরিদ্র, অভাব আর অনাহারের মাঝে নিষ্পাপ হাসতে শিখবে। পরাজয়ে অনেক লজ্জা অপমান থাকলেও তা ভুলে যাবে। যারা অযথা কঠিন নির্দয়, নির্মম তাদেরকে ঘৃণা করতে শিখবে। অতিরিক্ত বিলাস আরাম আর বিশ্রাম থেকে নিজেকে সতর্ক রাখবে।

মনে রেখো বহু বছর ধরে আগুনে পুড়ে পুড়ে সোনা খাঁটি হয়। জীবনে কখনো অধৈর্য হবে না। সব সময় ধৈর্যরে সাথে বুকে সাহস রাখবে। নিজের প্রতি দৃঢ় আস্থা রেখো। তোমার প্রিয় জন্মভূমি আর জাতির প্রতি।

মোহর আলী এখন রণক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। সমূহ ব্যথা ভরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর লাল রক্তে ভিজে গেছে। ধ্বংস প্রাপ্ত রক্তাক্ত মাটির পথে ভোরের সূর্য এখনো উঠেনি। পূর্বাকাশে সোনালী রঙের আভাস। দৃশ্যমান প্রকৃতি জেগে উঠেছে। ভয়ংকর যুদ্ধে মোহর আলী এগিয়ে চলে।

আহত জীবন আহত মাটির বুকে সে অক্লান্ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সূর্যোদয়ের কিছু আগে শত্রু পক্ষের অসংখ্য বুলেট তার শরীরকে রক্তাক্ত করে দেয়। মোহর আলী ঘুমিয়ে পড়ে মাটির বুকে। জনশূন্য প্রান্তর কঠিন রক্তঝরা বিধ্বস্ত শরীর জন্মভূমির দিকে চেয়ে চেয়ে নিস্তব্ধ নিস্পলক মোহর আলী।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • ম তাজিমুল ইসলাম
  • নিলাঞ্জনা নীল
    নিলাঞ্জনা নীল দারুন সুন্দর এবং শিক্ষনীয় গল্প .
    প্রত্যুত্তর . ১৩ মার্চ, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় গল্পের ভাষা ভাবনাগুলি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করার মত।সাবলীল ধারাবাহিকতা।ঘটনাটিও অনোখা।এক কথায় সুন্দর লেখা।লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ১৪ মার্চ, ২০১৩
  • নাইম ইসলাম
    নাইম ইসলাম চমত্কার লিখেছেন টগর ভাই !
    প্রত্যুত্তর . ১৪ মার্চ, ২০১৩
  • আহমেদ সাবের
    আহমেদ সাবের লক্ষ মোহর আলীর ত্যাগে পাওয়া বাংলাদেশ। আমরা যেন তাদের ভুলে না যাই। ছেলের শিক্ষকের কাছে লেখা আব্রাহাম লিংকন 'এর চিঠির উল্লেখ শিক্ষামূলক এবং প্রশংসাযোগ্য। বেশ ভালো লাগলো গল্প।
    প্রত্যুত্তর . ১৫ মার্চ, ২০১৩
  • ekaki jobon
    ekaki jobon ভালো লিখেছেন ।
    প্রত্যুত্তর . ১৫ মার্চ, ২০১৩
  • রাজিব ফেরদৌস
    রাজিব ফেরদৌস আবারো বলছি - গল্পে কী নিয়ে লিখেছেন না লিখেছেন সেটা আমার কাছে কখনই প্রধান বিষয় ছিলনা। আমি মুলত দেখি গল্পের কাঠামোটা। কীভাবে গল্পটি গড়ে উঠেছে, কিছু শব্দের বুননে তা কীভাবে গল্প হয়ে উঠেছে।ভিতরের টপিকস সে যাই হক না কেন। একই বিষয় নিয়ে বিভিন্নজন লিখলেও কারো কারো...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ মার্চ, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ বেশ ভালো গল্প.
    প্রত্যুত্তর . ১৮ মার্চ, ২০১৩
  • মোঃ সাইফুল্লাহ
    মোঃ সাইফুল্লাহ বেশ ভালো গল্প//
    প্রত্যুত্তর . ২৬ মার্চ, ২০১৩
  • মোঃ কবির হোসেন
    মোঃ কবির হোসেন ভাই আপনার গল্পটি অসাধারন লেগেছে আমার কাছে. মনে হচ্ছে আপনার লেখনী অনেক শক্তিশালী-শুভ কামনা সতত. ধন্যবাদ.
    প্রত্যুত্তর . ২৯ মার্চ, ২০১৩

advertisement