একদা পাখির মধুর কাকলিতে মুখরিত ছিল আমার বাগান। ফুলেরা ফুটত উল্লসিত আবেগে। লকলকিয়ে বেড়ে উঠত গেটফুলের লতা। প্রজাপতির ওড়াওড়িতে ছিল স্বর্গীয় সুখ মেশানো। অলিরা সাঁঝ অবধি গুনগুন করে যেত ফুলেদের কানে। বাগানের পাশেই ঝরত অবিরত ঝরনাধারা। স্বচ্ছ জলে মাছেদের ছুটোছুটি ছিল বাধাহীন। নিস্তব্ধ রজনীতে জোনাকির আলোয় আলোকিত হত বাগানের ভেতরকার মজলিস। আকাশভরা তারারা হাসত মিটি মিটি। শিশির ঝরা ভোরে ফুলেরা হেসে কুটি কুটি হত। হাসত পাখি-পতঙ্গ-বৃক্ষরাজি। শুধু হাসি ছিল না আমার মুখে। কোন এক অজানা শূন্যতায় হাহাকার করত হৃদয়ভূমি। বাগানে ফুটে থাকা শত গোলাপের সৌরভও যখন আমার মনকে নাড়া দিতে পারেনি, পাখির সুমধুর গানেও যখন আমার মন ভরেনি, ঝরনার মিষ্টি জলেও যখন আমার তৃষ্ণা মেটেনি। অজস্র তারাদের মাঝেও যখন সুখ তারাকে খুঁজে পাইনি। তখনই সুখের বার্তা নিয়ে এলো ১৮ জুন।
২০১০ সালের এই দিনে রূপের পাপড়ি মেলে বাগানে ফুটল একটিমাত্র ফুল-জুঁই। তারপর বাগানজুড়ে পড়ল সাড়া। হৃদয়ে দিল নাড়া। পূর্ণতা পেল আমার শূন্য এই মন বাগান।