এক রাক্ষুসে সময়ের বিরান প্রহরে আমি একা
বয়ে চলেছি হৃদয়ের বুঁদ বুঁদ; অজান্তেই আঁকড়ে ধরা
দুহাতের মুঠোয় বালি আর নুড়ি পাথরের স্তূপ !
কখনও মনে হয়নি পাষাণ পৃথিবীর কোন এক কোণে হয়ত কেউ
দু হাত বাড়িয়ে আছে; তবু আনমনে ভেসে চলেছি
খরস্রোতা তটিনীর হাত ধরে
ক্ষয়িষ্ণু গিরিধারীর পিচ্ছিল তীর ধরে
যদিও পড়ে যাওয়ার ভয় আছে
তোমার শিখানো নামতা ভুলে যাওয়ার আশংকা আছে
তবু লতানো ডগার খুঁটি ধরে আমি তরতর করে ভেদ করতে চেয়েছি
ঘাস ফড়িংয়ের উড়ন্ত ডানা
বাহারি মেঘের শতদল
মধ্যাহ্ন রবির আলোক দেয়াল; কিন্তু বুকের ভিতর জমে থাকা
কাঁড়ি কাঁড়ি শূন্যতা ক্ষণে ক্ষণে আছড়ে পড়ে !
ক্ষণিকেই বুকের লাল রক্তে হিম শীতল পরশ পায়
বদলে যায় মুখের ধারাপাত
কেঁদে কেঁদে শেষ হয় আঁখি জল
তবু আমি একা; তবু ঠেকাতে পারিনি পদ্মা পাড়ের ভাঙন !
শোপিচের মত কাঠের আলমারিতে বন্দি করে রাখতে পারিনি
আমার রোদেলা সময় !