১.
সময় বড় কঠিন। এই কাঠিন্যের হাত ধরে আমরা এগিয়ে চলি। তারপরও বলতে হয় ুভালো আছি। এই যে মেয়েটা বেরিয়ে গেল একটু আগে আমার সামনে থেকে ,আমার বড় মেয়ে ফারহানা। আর মাত্র কয়েক মাস। ইউনিভার্সিটির পাঠ শেষ হবে। আমাদের পরিবারে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি। পড়বে কিভাবে? কেউ ভাবতোই না। সে সময় আমাদের পাশে ছিল ,কিন্তু বললাম যে,ঐ কঠিন। আমি এস ভি গার্লস এর ছাত্রী ছিলাম। বড়জোর কলেজ। হ্যা তাই হয়ে ছিল। দেশ স্বাধীন এর পর ,সবাই এস এস সি পাশ করেছিল। আমিও সেই একই সময়ে পাশ করেছি। তাই পাশটা কোনদিন মূল্যায়নের খাতায় লেখা হয়নি।এজ ইউজুয়্যাল। তারপর বিয়ে এবং আমার মেয়ে ফারহানা। ছোট্ট মেয়ে ,দুধে আলতায় রঙ। সেই ফারহানার বিয়ের আলাপ আসছে । আজ সকালে ফারহানা তাই অনেক কিছু বলে গেল্ বিয়ে করবে না।
: আম্মু বলো,আমি বিয়ে করে সময়টা এখন কেন নষ্ট করবো? তুমি কি কিছু করতে পেরেছো?
আসলেই আমি কিছু করতে পারিনি। আমাদের সময়টা ছিল মেয়েকে বিয়ে দিয়ে পার করে দেয়া । বাপ মুক্তি পেল,সমাজের দায়ভার শেষ ..সবার পরে দেশ।
ফারহানা বিয়ে করবে কেন? ক্লাশে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট, এই দেশ তাকে কম দেয়নি ,পড়ার সুযোগ,বড় রিসার্চার হবার সুযোগ,সামনে বড় স্কলারশিপের হাতছানি ।এটা নতুন সময় ,আমাদের সময় থেকে আলাদা।

২.
সময়টা ১৯৬৯ সার। আমাদের ক্লাসে নতুন একজন স্যার বদলী হয়ে এসেছেন । অসাধারন সুন্দর। যেমন লম্বা তেমন তার ব্যক্তিত্ব। সমস্যা একটাই অংক । আমার ধারনা অংক বিষয়টি কঠিন বলে অংকের স্যাররা একটু কঠিন হয় । কত সহজ এই ভুগোল ,দুই পাকিস্তানের যা কিছু আছে জানলেই একশোতে একশ। দেশকে জানতে হবে,বিশ্বকে জানতে হবে ু এই হলো ভুগোলের স্যার।বেশ কিছুদিন পর আমরা স্যারের বাসায় ব্যাচে পড়তে গেলাম। গিয়ে তো অবাক ,এতো রীতাদের বাড়ী্ । আর আমাদের পূর্ণেন্দু স্যার হলো রীতার কাকা। নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই।
তারপরও আমরা একবার ঘুরে আসি । এই যে নরসুন্দা নদী ,তার একপাশে কলেজ। শহরের মাঝখানে তমালতলা। আপনি ডানে বামে না হেটে সোজা চলুন। ফায়ার সার্ভিস এর অফিস পেরিয়ে গেছেন? এবার বায়ে তাকান। আখড়া বাজার। সোজা তাকালেই একটি প্রাসাদোপম বাড়ী। এটি রীতার বাবা চন্দ্র শেখর জেঠুর । আমার আব্বা আর জেঠু একই বয়সী। জেঠু গত হয়েছেন বছর দুই আগে। রীতার ছোট কাকা অর্ধেন্দু শেখর আমার মামার বন্ধু। আর যে স্যার আমাদের পড়াচ্ছেন তিনি পূর্নেন্দু শেখর। পড়ার মাঝখানে একটি দেবী প্রতিমার মতো মহিলা চা দিয়ে গেলেন।দুধে আলতায় গায়ের রং। সম্ভবত তিনি স্যারের স্ত্রী । আমরা অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকালাম। তাকালাম লুবনার দিকে। কারন সেইই আমাদের ক্লাসে সবচেয়ে সুন্দরী। ভাবটা এমন লুবনা ,এ শহরে তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী চলে এসেছে।

সময় গড়িয়ে যায়। এই ছোট শহরে আমরা একে অপরের এত পরিচিত যে ,সবার বাড়ির খবর ,হাড়ির খবর জানা হয়ে যায়। বর্ষার জমাট কালো অন্ধকারে শহরে যখন হাটুজল জমা হয় ,আমরা সকুল বাদ দিয়ে আরাম করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াই। এমনি এক বর্ষামুখর দিনে আমরা স্যারের বাসায় আমন্ত্রিত হই। ব্যাপারটা সীমন্তোন্নয়ন। আমরা যারা এই বিষয়টার প্রতি সম্যক জ্ঞান রাখি না ,তারা জেনে অভিভুত হই যে,নতুন সন্তান ঘরে আসার আগে বধূকে আয়েস করে খাওয়াতে হয় ,নিমন্ত্রিত অতিথি সহ। আমরা গেলাম। সেকি বিস্তর খারবার দাবার। নারু তক্তিতে ভরপুর। হিন্দুদের পূজোর সময় যেমন আয়োজন,তেমনি। মাঝে দুর্গা প্রতিমার মতো স্যারের স্ত্রী। এই প্রথম কেই ডাকল -কল্পনা ডান দিকের আসনটায় বসো।
এরপর আমাদের এই কল্পনা নাম্নী বৌদির সাথে অসম্ভব খাতির হয়ে গেলো। বৌদি ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন। বৌদিও সংসাওের দেখভাল করার মতো কেউ ছিল না ,তার বাপের বাড়ীর লোকজন ছাড়া। জেঠীর অনেক বয়স। যদিও বৌদির বাপ অনেক বড়লোক বোঝা যায়,বাজিতপুরের ডাকসাইটে উকিল। এই ছোট শহরে থেকে বৌদি অনেক পড়াশুনা করলো কিভাবে আমরা অবাক হতাম। রবীনদ্রনাথ,নজরুলের গান,পহেলা বৈশাখ এসব বিস্মিত হবার মতো।
আমাদের বাবার যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে ,সেটা শহরের সবাই চেনে। আমাদের তিন পুরুষের ব্যবসা ।টিনপট্টির সবচেয়ে বড় দোকান আমাদের। কিন্তু এইসব হালখাতাটাতা কিচ্ছু নেই। পয়েলা বৈশাখে আমরা সেবার প্রথম স্যারের বাসায় দাওয়াত পাই । আমরা দল বেধে সব ছাত্রীরা গেলাম। গিয়ে দেখি অপূর্ব সুন্দরী একজন মহিলার কোলে অপূর্ব সুন্দর একটা শিশু। পরনে ঢাকাই জামদানী। যে জিনিসটার চল তখন ছোট শহরে এতটা গড়ে উঠেনি্ ।
: বৌদি তোমার মেয়ের কি নাম রাখছে?
: মিঠু।
: নামেও সুন্দর তোমার মেয়েটাও সুন্দর।
: তোমার এত সুন্দর শাড়ী ,গয়না,স্যার কিনে দিলো?
: হ তোমার স্যার ,কইছে,আমার বাপের বাড়ী থেকে দিছে। আমাদের নিয়ম আছে,নতুন পোলাপান হইলে বাপের বাড়ী থেকে নতুন জামা কাপড়,কাসার খালা বাটি দিতে হয়। নতুন বাবুরা প্রথম মামার হাতে অন্নপ্রাশন নেয় তো।
:বেীদি ,তুমি আরেক সন্তানের জননী হও। আবার সব নতুন নতুন করে পাইবা।
: হ আমার বাপের কি আর কাজ আছে,খালি পাঠাক।
: কেন,তোমার বাপ তো অনেক বড়লোক,কত্তবড় একটা গাড়ী লইয়া আসে।এই শহরে এসডু অফিস ছাড়া এমন গাড়ী একটাও নাই।
এই সময় আমাদের সুন্দরী লুবনা একটা রেডিওর দিকে সবার দৃষ্টি আকর্সন করে। আমরা ছোট রেডিও ঐ বাড়িতে প্রথম দেখি। কল্পনা বৌদি বললো এই রেডিওর নাম ট্রানজিস্টর।
বৌদি রেডিওটা চালালো ,কি সুন্দর আওয়াজ। আব্বাস উদ্দিনের গান চলছে- মাঝি বাইয়া যাও রে।
বৌদির বাবু কান্না করছে ,কেউ একজন বৌদিকে ডাকলো। আমরা বসে লুচি সবজি খাই আর গানের আবহে আছি। সারা ঘর যেন চন্দনের গন্ধে মৌ মৌ। কি সুন্দর বালিশের কভার ,কি সুনিপুন হাতের কাজ। আমরা একজন ওস্তাদ পেয়ে গেলাম।
সময় এইসব সুন্দর মুহূর্ত ধরে রাখে না। শহরে কোথায় চুরি হয় ,ডাকাতি হয়,মিছিলে কোথায় লোক মারা যায় ুএসব খবর মানুষ সন্ধ্যাবেলা শোনে। আমরা পড়ার টেবিল বাদ দিয়ে দেশের কথা ভাবতে শুরু করি।
আব্বা গভীর রাতে বাড়ী ফেরেন। আমাদের ভাইবোনদের ডেকে বলেন স্কুলে যাওয়া বন্ধ। শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষনা দিছেন। আমরা গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের অপেক্ষায় খাকি। গ্রীস্মের ছুটির আগেই স্কুল বসে না।
শহর ফাকা ফাকা থাকে। মাঝে মাঝে এক দুইটা বিমান আকাশে চক্কর দেয়।
শ্রাবনের এক বৃষ্টিভেজা বিকালে আমরা সব দরজা জানালা বন্ধ করে গ্রামের বাড়ী আচমিতায় চলে যাই। বিখ্যাত আচমিতা। চিনতে পারছেন?জর্জ ইনস্টিটিউশন নামে একটা স্কুল আছে। আমাদের বাড়ীর পাশে। কোন জর্জ কবে এখানে এসেছিল জানিনা,শুধু জানি একশ বছর প্রায় হয়ে এলো।
দেশটা আর দেশ নেই। আমাদের লুবনার ভাইটা বাড়ি থেকে পালিয়েছে । আব্বা কারফিউ জারী করেছেন। মেয়েদের জন্য না ,ছেলেদের জন্য । ভাইয়া পালাতে পারে সম্ভবনা কম না।
কথাটা গোপন রাখতে হবে। দুলাল মামা পালিয়ে গেছে। নানা আমাদের বাড়ী আসছিল। আব্বার সামনে বসে অনেক কান্নাকাটি করলো।আব্বা বললেন-
: আপনার ছেলে নিজেও মরবে ,আমাদেরও মারবে। কাজী সাহেবকে আপনি কিভাবে মুখ দেখাবেন?সারাজীবন মুসলিম লীগ করছেন,এখন আপনার ছেলে মুক্তি হইছে। আপনারে কি ওরা ছেড়ে দিবে?
আম্মা সহজে কথা বলেন না। এমন একটা অপরাধবোধ নিয়ে চলেন যে,তার বাপের বাড়ীর সব লোক চোর। আমরা শুয়ে বসে আতংকিত জীবন যাপন করি।
সময় কি আর দাড়ায়,দাড়ায় না। স্কুলে তিনহাজার মিটার দৌড়ের মতো। একবার বাশী ফুঁ দিয়ে দিলে তোমাকে ঘুরতেই হবে,অবিশ্রান্ত,গ্রামোফোন রেকর্ডের মতো-মাঝে মাঝে দম নিই।খাবার মুখে যায় না। শুধু মৃতের খবর।বেচেইতো ছিলাম ,আছি-ঘুরছে জীবন,সময়,গ্রামোফোন রেকর্ড,ইয়ে জীবন,ইয়ে নিশানী-উর্দ্দু গান।
৩.
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমরা শহরে ফিরে এলাম। আব্বা গদির জংধরা তালা ক্যাচ ক্যাচ শব্দ করে খুলে দেখলেন ভেতরে কিছু নেই। সব লুট হয়ে গেছে। বাজার, ব্যাংক এগুলো যুদ্ধের সময় লুট হতে হয়।যুদ্ধ শুধু কঠিন না,স্থির। যতোই ধাক্কা দাও ,সরবে না। নীল আসমানের মেঘ কালো হলে একসময় সরে যাবে,যুদ্ধের মেঘ তোমাকে নিকষ কালো আঁধারে ফেলে যাবে,সরবে না। আম্মা সারাদিন কাঁদেন,নানা পুত্রশোকে মারা গেছেন।কুলখানি কবে কেউ জানে না।
আমাদের স্কুল খুলেছে। স্যাররা কেউ আসে না। দু একজন পড়ান।
আমরা এর ওর বাসায় সময় কাটাই। একদিন ক্লাশে সীমা একটা সুন্দর হাতের কাজের রুমাল নিয়া আসছে। এতো সুন্দর,কিরে সীমা যুদ্ধের সময় কি এইগুলা বানাইছস?
: আরে না,আরো আছে। তোর লাগবে?আমাদের বাসায় চল।সীমাদের বড়ভাই চিসতিকে পরিচয় করিয়ে দেবার দরকার নেই। শুনেছি পালিয়ে আছে।কিন্তু কেন তা বুঝতে পারলাম সীমা কালো রংের ট্রাংকটা আনার পর।
ট্রাংকটা খোলার পর প্রথমেই একটা সুন্দর হাতের কাজের চাদর। একগুচ্ছ সুন্দর রুমাল। ছোট্ট মিঠুর একটা ছবি।তারপর কাঠের ফ্রেমে সাদাকালো বিয়ের ছবি-স্যার ও কল্পনা বৌদি। এরপর তিনখানা শাড়ী ,বাপের দেয়া বিয়ের শাড়ী।একটা সাদাকালো ছবির এলবাম। সিদুরের কৌটা,রুপার তৈরী।একটা কোন ঠাকুরের ছবি। সবার নীচে কাসার থালা,দু একটা খুচরো পয়সা। কায়েদে আজমের ছবিওয়ালা একশো টাকার তিনখানা নোট।

আমি বললাম-সীমা এগুলো তো স্যারের বাসার ,তোদের এখানে এলো কি করে?
: আস্তে বল,লুট হয়ে যে যা পায় নিয়ে এসছে।তুই কি নিবি রুমাল?কাউকে বলবি না।
: আমি বললাম এগুলো স্যার আসলে পৌছে দিবি।
:ততদিন থাকবে?
:আমি আমার বইয়ের ব্যাগে সিদুরের কৌটা,তিনখানা শাড়ী আর এলবামটা ঢুকিয়ে নিলাম।স্যার বৌদি শুনেছি ইন্ডিয়া গেছে। ফেরত আসলে বৌদিকে চমকে দিব এই বলে- সব তো ফেলে চলে গেছো,পাহাড়া দিয়ে রাখলো কে?
: এই আমি।
তোমার সব লুট হয়ে গেছে,কিন্তু তিনটা জিনিস আমি ওদের সাথে যুদ্ধ করে রেখে দিছি,এই দেখ।আমি মহিলা যোদ্ধা।

৩.
জানুয়ারী মাস। একটু একটু শীত। আমরা সহজে সকালে ঘুম থেকে উঠি না। এমনি এক নিকষ কালো কুয়াশা ঘেরা সকালে আমাদের বাড়ীর দরজায় কান্নার রোল।
আব্বার পায়ের কাছে অর্ধেন্দু কাকা লুটিয়ে কাঁদছেন। পিছনে একটা চেয়ার। আব্বা সান্তনা দিচ্ছেন-অর্ধেন্দু উঠো,যুদ্ধে সব হারাইছি আমরা।কি করবা?
:বুলু ভাই ,আমার ভাস্তীটা ,আমার সামনে মইরা গেলো।কার মুখ দেইখা যে রওয়ানা দিলাম। সি এন্ড বি রোড পার হইতে যইিয়া সব শ্মশান হইয়া গেলো। নৌকাটা থাইকা মাত্র নামছি।আর্মিরা গাছপালা সব কাইটা রাখছে,চারদিক মাঠের মতো খালি। ঝাক ঝাক গুলি আইতে লাগলো। যে যেদিকে পাওে দৌড়ায়। দৌড়াইলে কি হইবো ভাই,মরন তো সামনে ।
দাদা কিছুদুর যাইয়া পইড়া গেলো। আমার ডাইনে বৌদি,মনে হয় মাথায় গুলি লাগছিলো,রক্তে ভাইসা যায়,মিঠুটা মইরা গেছে।আমি আর কিচ্ছু জানি না বুলু ভাই গো,আমি কেন ফেরত আসলাম।আমরার সব শেষ। অহন দাদার এই চেয়ারটা স্মৃতি হিসাবে নিতে আইছি। আমি আর কি নিয়া বাচমু?
অর্ধেন্দু শেখর আব্বার পা জড়িয়ে কাঁদছেন। আম্মা ঘরের মধ্যে ফুপিয়ে কাদছেন। ভ্রাতৃস্নেহ আবার ফিরে ফিরে আসছে। আমরা আর কাঁদি না। কাঁদতে বারন করেনি কেউ। কি হবে আর কেঁেদ?
আমি সীমাদের বাসার ব্যগটার দিকে তাকালাম। আমার মনে হলো আমি এক্ষুনি ব্যাগটা ফিরিয়ে দিয়ে আসি। আমি বলতে পারব না - এই সব যার তিনি নেই। আমি পেছনে ফিরতে চাই। এই ব্যাগটা নিয়ে আসার পর আমি নিজের গায়ে জামদানীটা জড়িয়ে কেন দেখেছিলাম ,আমাকে কেমন দেখায়?আমি ঐ এলবামটা কতবার পাতায় পাতায় লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছি। এরা কোথায়? ছোট বাবুটার নাম মিঠু। দুধে আলতায় গায়ের রঙ কল্পনা বৌদি,রক্তে কেমন চারদিক ভেসে গেছে। আর পূর্নেন্দু শেখর,এলজাব্রার ইকোয়েশন তো মিলছে না ু এ প্লাস বি ,আমার আর এসব মনে নেই।
শীতের বিকেল আসে না। অর্ধেন্দু শেখর চলে যায়। আমি সীমাদের ঘরের দরজায় ্ওর হাতে ব্যাগটা দিয়ে চলে আসি। কেন দিয়ে এলাম বলার প্রয়োজন মনে করি না।
৪.
ফারহানা রিঙ্া থেকে নামছে। মনে হয় আজ ক্লাস হয়নি। দুপুরের রোদে মুখ লাল হয়ে আছে। দুধে আলতায় গায়ের রং। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলে ফারহানা আমায় বলে আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে কি ভাব?
পৃৃথিবীর সবচেয়ে নিকষ কালো আঁধার আমি আমার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মনে করি।সামনে আমার মেয়েটার বিয়ে। কি দিয়ে তোকে সাজাব মা? তোর দিকে তাকালে আমি সেই পুরানো দিনে ফিরে যাই,আল্লাহ মানুষ এতা সুন্দর হয় কেমনে?কিই তার আভা,চারদিকে আলোর রোশনাই-ট্রানজিস্টরে আব্বাস উদ্দিনের গান।