কোন কোন সূর্যোদয় ইতিহাসের অংশ হয়
সাধারণকে পৌঁছে দেয় অসাধারণ উচ্চতায়।
কোন কোন সূর্যোদয় যুগান্তরের আঁধার ঘোচায়ে
ধরা দেয় নতুন প্রত্যাশায়।
শান্তকে-দুরন্ত, ভীত বিহ্বলকে করে দুঃসাহসী।
অন্তঃপুরবাসিনীকে টেনে আনে রাজপথে, মিছিলে।
কিশোরের কোমল হাত হয়ে ওঠে বজ্রমুষ্টি,
শোষকের রক্তচক্ষু অবলীলায় উপেক্ষিত।
আমি সেই সূর্যোদয়ের কথা বলছি।
আমি অদম্য বাঙ্গালীর চৈতন্যের কথা বলছি।
সুবোধের হাতে দাম্ভিকের গণ্ডদেশে
করা চপেটাঘাতের কথা বলছি।
এক নতুন জাতিসত্তার বীজ বুননের কথা বলছি।
আমি সেই সূর্যোদয়ের কথা বলছি।
দীপ্ত অঙ্গীকারের মিছিলে
সহসা জেগে উঠা এক ঘুমন্ত নগরের কথা বলছি।
“মা-মাটি-সংস্কৃতি” অনিন্দ্য এ ত্রয়ের
গ্রন্থি বদ্ধ হওয়ার কথা বলছি।
আমি সেই সূর্যোদয়ের কথা বলছি।
রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার তলার সেই
হত্যাযজ্ঞের কথা বলছি।
মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গীকৃত
অদ্বিতীয় এক সূর্যোদয়ের কথা বলছি।
ফেব্রুয়ারিকে ফাগুনের রঙ্গে রাঙ্গাবার কথা বলছি।
আমি আটই ফাল্গুনের কথা বলছি।
আমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা বলছি।
বরকত-সালাম-রফিক-জব্বারের আত্মত্যাগের কথা বলছি,
নাম না জানা চল্লিশ শহীদের কথা বলছি।
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি
প্রিয় পঙক্তিমালার কথা বলছি।
বাঙ্গালের অহংকারের কথা বলছি।
আমি দেদীপ্যমান এক সোনালী সূর্যোদয়ের কথা বলছি।