লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৪০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা (জুন ২০১২)

গডফাদার
বাবা

সংখ্যা

মোট ভোট ৪০

অষ্টবসু

comment ১  favorite ১  import_contacts ৮৮৭
কিরে তোকে কেউ নিতে আসে নি? রেহান বলল না। বছর পাঁচেকের ছেলে রেহান,থাকে কোন্নগরে তার একমাত্র বান্ধবী তনু প্রতিদিন ওর বাবা ওকে স্কুল থেকে নিয়ে যায়,কিন্তু ওকে হয় ওর মা না হলে সহদেব কাকু।সবাই কার বাবা আছে ওর কেনো নেই,

মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল তার প্রশ্নটা মাকে সে অনেকবারই জিজ্ঞেস করেছে উত্তর পায় নি শুধু বলেছে তোর বাবা নেই কিন্তু আজ সে জেনেই ছাড়বে কেন তার বাবা নেই, অন্যের মতো কেনো তাকে নিয়ে যায় না স্কুল থেকে। কেনো আজ সহদেব কাকু আনতে যায় নি, মা জিজ্ঞেস করে, না আর রোজ রোজ ওই বুড়ো লোকটার সাথে আমার আসতে ভালো লাগেনা উত্তর দেয় রেহান ।আমারো বাবা চায় যে আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে আইসক্রিম কিনে দেবে।না সোনা জিদ করে না, কেনো সহদেব কাকু নিয়ে যায় না তোমাকে বেড়াতে, চকলেট কিনে দেয় না,বাড়িতে এলে কতো আদর করে তোমায়,আয় তোকে ঘুম পাড়িয়েদি।‘ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি ঘুমের বাড়ি যা’,চোখের কোনে জমা জল আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দেয় মা, জানালার দিকে একমনে তাকিয়ে রেহান তার একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।কিন্তু বিমলা আজ জেগে-


কি করে ভুলবে সেই দিনগুলো ।দশ বছর আগে সে যখন অচিন্ত্যের বউ হয়ে গিয়েছিল তখন কি আর জানত তার অদৃষ্টে কি লেখা আছে স্বামী,শ্বশুর শাশুড়ি নিয়ে সে তখন পতিব্রতা স্ত্রী,নিটোল শরীরে সোহাগের বাসনা কানায় কানায় ভর্তি কিন্তু বিয়ের প্রথম রাত থেকেই অচিন্ত্যের কাছে না আসা তাকে ভাবিয়েছিল দিনের পর দিন,কেনো সে তার আবেগ বোঝে না ভালোবাসেনা তাকে, কেবল নগ্ন শরীরে থাবা বসিয়ে তৃপ্ত করে নিজেকে।

অচিন্ত্য কোথায় যায় কি করে জানতে তাকে হবেই একদিন সে পিছু নেয় অচিন্ত্যের। একটা বস্তিতে এসে থামে তার পথ,অন্ধকার গলিতে অন্তরবাস পরা মেয়েদের দেখে তার আর বুঝতে বাকি থাকে নি সে এতদিন যার সাথে ঘর করছে সে আর কেউ না একজন পতিতা পল্লির দালাল,মাথা ঘুরতে থাকে তার রাস্তার পর রাস্তা,আত্মহত্যা ছাড়া তার আর উপায় থাকে নি ,গঙ্গার পাড় থেকে সেদিন ফিরিয়ে নিয়ে আসে তাকে সহদেব,তার স্বামীর বন্ধু, খুলে বলে সে তার একান্ত আপনজনের রূপ,তারপর সহদেবই তাকে রেখে আসে তার বিধবা পিসির বাড়িতে।বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দেয় সেদিন সহদেব।


ধীরে ধীরে দানা বাঁধে অজানা সম্পর্ক,পিসির বাড়িতে যাওয়া আসা বাড়তে থাকে সহদেবের একদিন পিসির অনুপস্থিতিতে নিজেকে সপে দেয় সহদেবের হাতে,অজান্তেই পেটে আসে রেহান।
পিসি তাকে অচিন্ত্যের ভেবে আদর যত্নে বড়ো করে তুলতে থাকে,একদিন পিসিও হটাত তাকে ছেড়ে চলে যায়।সহদেবই হয়ে উঠে তার সব।কি করেনি সে তার জন্য যখন যা দরকার তাই দিয়েছে রেহান এর হরলিক্স থেকে শুরু করে জামা প্যান্ট,স্কুলের বই খাতা,ওকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা,পড়ার সব খরচ, কতো ভালোবাসে রেহানকে,পিতা হবার সব কর্তব্য তো নিবিয়েছে।কিন্তু মানুষটা একটি বারের জন্যও বলে নি তার মনের কথা,চায় ও নি কখনো তার নিজের পরিচয় দিতে,তবুও আমি তো জানি রেহানের বাবা ডাক না শুনতে পেয়ে ভেতরে ভেতরে গুমরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে তার একাকীত্বের গণ্ডীর মধ্যে।
সেদিন যদি পিসিকে সে সাহস করে বলতে পারত তাহলে হয়তো আজ রেহানকে বাবার কথা এভাবে জিজ্ঞাসা করতে হতো না।মনে মনে সে রেহানের কাছে নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না কোনোদিনও ,ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল নিজেও জানে না।

মা উঠো রেহান ডাক দেয়,দেখো সহদেব কাকু এসেছে স্কুলে নিয়ে যেতে। আমায় খাইয়ে দাও,দি বাবা, বিমলা খাবার খাইয়ে দেয়,খেতে খেতে রেহান বলে জানো সহদেব কাকু মা কাল বলছিলো তুমি খুব ভালো, আমাকে খুব ভালোবাসো তুমি, তাই না? রেহান জিজ্ঞেস করে,সহদেব বলে একদম ঠিক বলেছেন তোমার মা,এরপর রেহান কে কোলে নিয়ে বাইরে আসে সহদেব,উঠানে এসে রেহন বলে তুমি তো খুব ভালো আমাকে ভালোওবাসো তুমি আমার বাবা হতে পারনা।সহদেবের বুকের ভেতরে একটা তরঙ্গ বয়ে যায়,বিমলার দিকে তাকায়, বিমলার চোখ জলে ভরে উঠে,সহদেব রেহানকে বুকে চেপে ধরে গালে হামি খেয়ে বলে হ্যাঁ পারি বাবা।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • অষ্টবসু
    অষ্টবসু আমি আমার লেখা থেকে আগের ও এখনের সব মন্তব্য ডিলিট করেছি কারন লেখাগুলির ভালো খারাপ বিচার করার জন্য লিখিনি,বন্ধুদের অনুরোধ নো কমেন্ট প্লিজ,উপভোগ করুন ভালো লাগলে ভোট করতে পারেন...অন্যের চিন্তা, ভাবনা ও সৃষ্টি্র উপর মন্তব্য করার কোন মানে হয় না,কেবল সৃষ্টি্রস উ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৬ জুন, ২০১২

advertisement