অঙ্কুরিত হওয়ার আশায় চৈতি চাতক চাহনিতে
বীজেরা অপেক্ষার প্রহর গোণে-
প্রখর উত্তাপে শুকিয়ে যায়
কেউ বা কিষাণের ঘরে, কেউ বা সীড-বেডে;
কষ্টে তাকায় নীলাকাশে- কখন ঘন-কালো মেঘেরা সাজে
রিমঝিম টিপ টিপ ঝমঝম বা টাপুর টুপুর গানে
দেহ-মন জুড়িয়ে দেয় অথবা-
কালবোশেখির রুদ্র মূর্তিতে সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে
গোঁ গোঁ গোঙানিতে সারা শরীর দুমড়ে মুচড়ে
পিষ্টে সিক্ত করে অঙ্কুরিত হওয়ার মহাবীর্যপাত ঘটায়।

আলো বাতাস মৃত্তিকা উষ্ণতা সবকিছু নিয়ে
আমিও অপেক্ষায় আছি কিষাণির চোখে
চৈতি চাতক চাহনিতে এক পশলা বৃষ্টির জন্য-
সৌম্য-শান্ত মূর্তিতে ধীর পদক্ষেপে বিজয়ী বীরবেশে এসে
আমাতে লুকায়িত উত্তরাধিকারের গোপন রহস্য
ভেদ কর হে মহানায়ক!
অথবা মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে দাও, ভাসিয়ে নাও,
ধ্বংস করে দাও অসংখ্য বীজকে;
সেই ধ্বংসস্তূপের জমানো পলিতেও আমার তারুণ্য
মাতোয়ারা হবে সৃষ্টি-সুখের বুনো উল্লাসে।