লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৭

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপরিবার (এপ্রিল ২০১৩)

দ্বন্দ্ব
পরিবার

সংখ্যা

মোট ভোট ১৭

কামরুল হাছান মাসুক

comment ৬  favorite ০  import_contacts ১,০৭৯
আমাদের পরিবারটা অন্যরকম। মা, বাবা, ভাই, বোন নিয়ে আমরা পাঁচ জনের সংসার। আমরা দুই ভাই, এক বোন। পরিবারটাকে ছোট পরিবার হিসেবে গণ্য করা যায়। ছোট পরিবার হলেও ঝামেলা অনেক বেশি ছিল। পাঁচ জন মানুষ থাকলেও আমাদের মধ্যে ছিল হাজার হাজার মত। কারো সাথে কারো মত মিলত না। একজন একটা বললে আরেকজন আরেকটা বলবেই। সবচেয়ে বেশি সমস্যাগ্রস্ত ছিল লাকি। সে আমাদের মাঝে বিভাজনটা বেশি ঘটাতে চাইত। সে সব সময় আমাদের কসফিউজ করতে চাইত।

আমার বড় ভাই রিয়াজ উনি মনে করত উনার চেয়ে কেউ বেশি জানে না। উনি সব জান্তা। দুনিয়ার এমন কিছু নেই উনি জানেন না। তাই উনি যা বলতেন তা সবার মান্য করতে হবে। উনার কথা সংবিধানের মত। না মানলে বড় ধরণের গৃর্ণীত কাজ হিসেবে গণ্য হত।

আমার কথা কি বলব, আমার নাম কামরুল বাবা বলে ডাকতেন মাসুক। কামরুলের সাথে মাসুকের কি মিল বুঝে পেতাম না। ডাকলে জবাব না দিয়ে পারা যায় না। আমার মতের সাথে তাদের কারো মতই মিলত না। আমার কাছে মনে হত তারা যা বলছে সবই ভুল। চারজনের বাহিরে যারা কথা বলতেন তাদের কথাকে আমার সঠিক মনে হত।

আমার মা, উনি সবসময় উনার বংশ নিয়ে কথা বলতেন। উনার বংশে এমন এমন লোক ছিল। উনার বংশের মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী। উনি এই সংসারে এসে ভূল করেছেন। উনার কথা আমরা কেউ শুনি না। আমাদের মত ছেলে-মেয়ে জন্ম দিয়ে ভুল করেছেন।

বাবার কথা কি বলব, উনি সব সময় উপদেশ দিত। এটা কর উটা কর। উনার উপদেশ আমরা কেহ মানতাম না। উনিও বুঝতেন উনার উপদেশ আমরা কেউ মানছি না। তবুও তিনি উপদেশ দিতেন। উনার কাজ হচ্ছে উপদেশ দেওয়া। আমরা উনার উপদেশ মানছি কি মানছি না তা উনার মাথা ব্যাথা ছিল না।

পাঁচজন সদস্যর কথা বললাম। পাঁচজনের পাঁচ মতভেদ নিয়ে যে কি করে থাকতাম তা ভাবলেই অবাক লাগে। আমরা যখন পাঁচজন খেতে বসতাম, সবাইকেই চুপ করে খেতে হত। একজন একটা কথা বললেই পাঁচদিক থেকে পাঁচটি মন্তব্য আসত। সুতরাং কথা না বলাই নিরাপদ মনে করে সবাই চুপচাপ খেতে বসতাম। কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমরা একজন আরেকজনকে কিভাবে ঘায়েল করা যায় চেষ্টা করতাম। বাবা, মা পিছনে। মা, বাবার পিছনে। ছোট বোন আমার পিছনে। আমি বড় ভাইয়ের পিছনে। এরকম দ্বন্দ্ব আমি কোন পরিবারে দেখতে পাইনি। যে কোন সময় যুদ্ধের আশংক্ষা ছিল আমাদের পরিবারে। পরিবারে সবসময় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। কথা বললেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হত। ভঙ্গ হলেই দলাদলি। একজন আরেকজনের পক্ষ নিয়ে নেয়। শেষ মেস কেউ কারো পক্ষে থাকে না। সবারই নিজেদের দল হেয়ে যায়। সবাই সবার জায়গা থেকে মতামত দিতে থাকে। বাবা যেহেতু পরিবারের কর্তা। তিনি আমাদের সবাইকে নিয়ে বসলেন, এভাবে চলতে পারে না। এভাবে একটা পরিবার টিকতে পারে না। আমাদের কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। নিয়ম কানুন ছাড়া এই পরিবারটা টিকবে না।


মা বলল, নিয়ম দিয়ে পরিবার হয় না। কোন পরিবারেই নিয়ম থাকে না। পরিবার হবে ঝামেলা মুক্ত এখানে কোন নিয়ম থাকবে না।

ছোট বোন বলল, নিয়ম দিয়ে পরিবারের শান্তি আসতেও পারে, আবার নাও আসতে পারে। নিয়মের অনেক সুবিধা অসুবিধা আছে।

বড় ভাই বলল, এভাবে বসে নিয়ম কানুন লিখা যায় না। আমাদের উচিত বিভিন্ন দেশের পারিবারিক নিয়ম কানুন ফলো করা। পারিবারিক নিয়ম কানুনের উপর গবেষণা করতে হবে। দরকার হলে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

আমি বললাম, আমাদের আগে বুঝতে হবে নিয়ম মানে কি? কানুন মানে কি? নিয়ম কানুন না বুঝে নিয়ম কানুন মানা যায় না।

আমাদের পাঁচজনের ভিতরেই আবার দ্বন্দ্ব লেগে গেল। দ্বন্দ্বেতে সব সময়ের মত মেয়েরাই এগিয়ে থাকে। আমরা সংখ্যাঘরিষ্ট হলেও ওদের দুই জানের কথার সাথে আমরা কখনো পারতাম না। আমরা যে তিনজন একসাথে মিলে যেতাম তাও না। ওরাও দুইজন একসাথে মিলত না।

আমাদের কথাবার্তা উচ্চ থেকে উচ্চতর হতেই লাগল। সবাই সবার মতামত দিচ্ছি। পাঁচ জন যদি একসাথে কথা বলে তাহলে গলার স্বর বাহিরে যাওয়া স্বাভাবিক। এর মধ্যে দুইজনের গলার স্বর যদি সান দেওয়া হয় তাহলে বুঝুন অবস্থা কি হবে।

চারপাশ থেকে মানুষ জরো হতে লাগল। আমারা কি নিয়ে আলোচনা করছি তা শুনতে চেষ্টা করল। অনেক মানুষের মিলন মেলা হয়ে গেল। আমরা দ্বন্দ্বে লিপ্ত। কে এসেছে ঐ দিকে আমাদের কোন খেয়াল নেই। আমরা পরস্পর পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত। আমাদের দ্বন্দ্ব বিরতিহীন ভাবে চলছে। কেউ ইস্তফা দিতে চাচ্ছে না। মানুষজনও বুঝতে পারছে না আমরা কি নিয়ে দ্বন্দ্ব করছি। আমাদেরও মনে নেই আমরা কোন বিষয়ের উপর ছিলাম। আমরা এখন বিভিন্ন দেশ, মহাশূন্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে চলে গেছি। একেক জন একেক বিষয়ের উপর বিশাল বড় বক্তিতার সুরে কথা বলছি।

মানুষজন আমাদের তর্কা তর্কি ঘন্টা দু ঘন্টা যাবৎ শুনে কোন কিছু আন্দাজ করতে পারল না। তারা আমাদের কথা শুনার ধৈর্যও অনেকটা হারিয়ে ফেলল। উনারা আমাদের সামনে এসে বললেন, আমরা কি নিয়ে দ্বন্দ্ব করছি। আমরা পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বললাম, আসলেই আমরা কি নিয়ে দ্বন্দ্ব করছি। দ্বন্দ্বে আসলে কি নির্দিষ্ট বিষয় ছিল। আবার এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেল। দ্বন্দ্ব কোথায় থেকে এসেছে, দ্বন্দ্বের উৎপত্তি কোথায়, দ্বন্দ্বের কারণ, এর ফলাফল ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা আমাদের থামাতে এসেছিল তারাও আমাদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে গেল। তারাও বিভিন্নজন বিভিন্ন জনের পক্ষে কথা বলতে আরম্ভ করল। কখনো আমার পক্ষে, কখনো বাবার, কখনো মায়ের। দ্বন্দ্ব চলছেই এর শেষ কোথায় কেউ জানে না। অনন্তহীন দ্বন্দ্ব চলতে ত চলছেই। এর শেষ কোথায়ও নেই।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ কবির হোসেন
    মোঃ কবির হোসেন কামরুল হাসান মাসুক ভাই আপনার গল্পটি পড়লাম, গল্পটি ভাল লেগেছে. ধন্যবাদ.
    প্রত্যুত্তর . ৪ এপ্রিল, ২০১৩
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # বাস্তবতার আলোকে অনেক সুন্দর গল্প ।
    প্রত্যুত্তর . ৬ এপ্রিল, ২০১৩
  • সুমন
    সুমন ভাই একটা বাঁচা বেঁচে গেছেন রাজনীতি নিয়া কেউ কথা বলেন নাই :) ।্আসলে পরিবারের মাধ্যমে দেশের চালচিত্র তুলে ধরেছেন বেশ রসাত্মক ভাবে। ভাল লাগল গল্প।
    প্রত্যুত্তর . ৮ এপ্রিল, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় ঘটনাক্রম নতুন--কথায় আছে যত পথ তত মত--কিন্তু এখানে তাও নয়,যত জন তত মত-এমত সংসার চলতে পারে না--গল্প ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ২১ এপ্রিল, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক ভাই মাসুক..আমিও একটা ঘোর লাগা দন্ধের মধ্যে পড়ে গেলাম...পরিবার থেকে দন্ধের বিষয়টা খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উটেছে...
    প্রত্যুত্তর . ২৩ এপ্রিল, ২০১৩
  • সূর্য
    সূর্য এত এত দন্দ্বের মাঝেও যে পরিবার হিসেবে টিকে আছে সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। পরিবারের বাইরে রাষ্ট্রেও আমরা এমনই দন্দ্বের ভিতর দিয়েই যাচ্ছি। বিভেদের সুন্দর একটা চিত্রায়ন ভালো লাগলো।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

advertisement